রোববার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৩ ১৪২৬   ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
দিল্লিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৩৫ জনের প্রাণহানি, আহত ৫৬ বাংলাদেশে পৌঁছালেন সালমান-ক্যাটরিনা দেশের প্রথম বিজনেস ইনকিউবেটর নির্মাণকাজের উদ্বোধন আজ আজ শিল্পীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু বিপিএলের পর্দা উঠছে আজ বঙ্গবন্ধুকে ‘ড. অব ল’ সম্মাননা দেবে ঢাবি ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায়ও রায় লেখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সবাই যেন ন্যায়বিচার ও আইনের আশ্রয় পায়: প্রধানমন্ত্রী আজ আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল দিবস দেশে ফিরছেন মিয়ানমারের জলসীমায় আটক ১৭ জেলে আ`লীগের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা সোমবার ফাইনাল নিশ্চিতের লড়াইয়ে টস হেরে ব্যাটিংয়ে সৌম্য-আফিফরা জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলন আজ আওয়ামী লীগের খাদ্য উপ-কমিটির সভা আজ সভাপতির পদ ছাড়া যেকোনো পদে পরিবর্তন হতে পারে : কাদের ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক চিরকালীন: রীভা গাঙ্গুলী সৌম্যের ফিফটিতে ভুটানকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ বিএনপি বিশৃঙ্খলা করলে আওয়ামী লীগও প্রস্তুত: কাদের চাল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই : কৃষিমন্ত্রী দেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলছে: তথ্যমন্ত্রী
৩৫

অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যার ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০১৯  

অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা মহাপাপ
কাউকে অবৈধভাবে হত্যা করা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা হত্যাকারীকে জাহান্নামি ঘোষণা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন,‘আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোন মুমিনকে হত্যা করে তার শাস্তি জাহান্নাম। যাতে সে দীর্ঘকাল থাকবে, তার উপর আল্লাহর ক্রোধ ও অভিসম্পাত। আল্লাহ তার জন্য মহাশাস্তি নির্দিষ্ট করে রেখেছেন।’ [সুরা নিসা : ৯৩] 

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্যকে ডাকে না, যথার্থ কারণ ছাড়া কোন মানুষকে হত্যা করে না এবং তারা ব্যভিচার করে না। আর যে এগুলো করবে সে শাস্তির মুখোমুখী হবে। কিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুন করা হবে। আর সে সেখানে লাঞ্ছিত হয়ে চিরকাল বাস করবে। তবে তারা নয়, যারা তাওবা করবে, ঈমান আনবে আর সৎকাজ করবে। আল্লাহ এদের পাপগুলোকে নেকিতে পরিবর্তন করে দিবেন; আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।’ [সুরা ফুরকান : ৬৮-৭০] 

হত্যার ভয়াবহতার কারণে আল্লাহ তায়ালা শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির হত্যাকারীকে সকল মানুষের হত্যাকারী হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

মহান আল্লাহ বলেন,‘এ কারণেই আমি বনি ইসরাইলের জন্য বিধান দিয়েছিলাম, যে ব্যক্তি মানুষ হত্যা কিংবা জমিনে ত্রাস সৃষ্টির কারণ ব্যতীত কাউকে হত্যা করবে সে যেন গোটা মানবজাতিকেই হত্যা করল; আর যে কোন মানুষের প্রাণ বাঁচালো, সে যেন গোটা মানবজাতিকেই প্রাণে বাঁচালো। তাদের কাছে আমার রাসুলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছিল, এরপরও তাদের অধিকাংশই পৃথিবীতে বাড়াবাড়ি করেছিল।’ [সুরা মায়িদা : ৩২] 

কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম হত্যাকান্ডের বিচার হবে

আল্লাহর হকের মধ্যে সর্বপ্রথম সালাত এবং বান্দার হকের মধ্য হতে সর্বপ্রথম হত্যা ও রক্তপাতের বিচার হবে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম হত্যাকান্ডের বিচার করা হবে।’ [বুখারি, আসসাহিহ : ৬৫৩৩; মুসলিম, আসসাহিহ : ১৬৭৮] 

হত্যাকারীর ক্ষমা পাওয়ার আশা খুবই ক্ষীণ

আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) বলেন, ‘যেসব বিষয়ে কেউ নিজেকে জড়িয়ে ফেলার পরে তার ধ্বংস থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায় থাকে না, সেগুলোর একটি হচ্ছে, অন্যায়ভাবে রক্ত প্রবাহিত করা (অর্থাৎ অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা)।’ [বুখারি, আসসাহিহ : ৬৮৬৩] 

আবু সাইদ খুদরি ও আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আসমান-জমিনের সমস্ত অধিবাসীরা একত্রে মিলিত হয়েও যদি একজন মুমিনকে হত্যা করার কাজে অংশগ্রহণ করে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাদের সকলকে উপুর করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’ [তিরমিযি, আসসুনান : ১৩৯৮]

মুয়াবিয়া (রা.) হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি গুনাহ আশা করা যায় আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দিবেন। তবে দুটি গুনাহ আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করবেন না। প্রথমটি হচ্ছে, কোন মানুষ কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা, অপরটি হলো ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মুমিনকে হত্যা করা।’ [নাসায়ি, আসসুনান : ৩৯৮৪] 

হত্যা করা কুফুরির অন্তর্ভুক্ত

কোনো মুসলিম-মুওয়াহহিদকে হত্যা করা কুফরি। কারণ মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর কাছে অত্যধিক সম্মানিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসিকি এবং তাকে হত্যা করা কুফুরি।’ [বুখারি, আসসাহিহ : ৬০৪৪] 

এছাড়াও বিদায় হজের ভাষণে নবিজি (সা.) বলেছেন, ‘আমার পরে তোমরা একে অপরকে হত্যা করে কাফির হয়ে যেও না।’ [বুখারি, আসসাহিহ : ১২১] 

মুমিন ব্যক্তিকে হত্যা করা সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী

আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর নিকট পৃথিবী ধ্বংস হওয়াটা অধিকতর সহজ ব্যাপার একজন মুসলিম ব্যক্তি খুন হওয়ার চেয়ে।’ [তিরমিযি, আসসুনান : ১৩৯৫]

নিহত ব্যক্তি হত্যাকারীকে সঙ্গে নিয়ে কিয়ামতের মাঠে উপস্থিত হবে

ইবনু আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন হত্যাকারী তার মাথার সাথে নিহত ব্যক্তির মাথা লটকানো অবস্থায় উপস্থিত হবে। নিহত ব্যক্তি বলবে, হে রব! তাকে জিজ্ঞেস করুন, সে কেন আমাকে হত্যা করেছে?’ [ইবনু মাজাহ, আসসুনান : ২৬২১] 

হত্যাকাণ্ডে সহযোগীও হত্যাকারী

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যার ফলে কিয়ামত দিবসে তারা বহন করবে নিজেদের পাপের বোঝা মাত্রায়, আর তাদেরও পাপের বোঝা যাদেরকে তারা গুমরাহ করেছে, নিজেদের অজ্ঞতার কারণে। হায়! তারা যা বহন করবে তা কতই না নিকৃষ্ট।’ [সুরা নাহল : ২৫] 

নবি করিম (সা.) বলেছেন, ‘পৃথিবীতে যত অন্যায় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হবে, তার পাপের একটা ভাগ আদম আলাইহিস সালামের প্রথম পুত্রের ওপরও বর্তাবে। কারণ সে-ই প্রথমে হত্যার রীতি চালু করে।’ [বুখারি, আসসাহিহ : ৭৩২১] 

মহান আল্লাহ অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা হতে ও কাউকে হত্যায় উদ্বুদ্ধ করা বা সহযোগিতা করা হতে আমাদেরকে হেফাযত করুন।

এই বিভাগের আরো খবর