বৃহস্পতিবার   ২১ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৭ ১৪২৬   ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
সড়ক পরিবহন আইনের অসঙ্গতি দূর করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘বিএনপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব সৃষ্টি করছে’- কাদের অনার্স ২য় বর্ষের ২৫ নভেম্বরের পরীক্ষা স্থগিত কোন অপপ্রচারে কান না দিতে জনগণের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ‘গোলাপি’ যাত্রা রাঙ্গাতে কাল মাঠে নামছে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে বাংলাদেশ এখন সম্মানের দেশ: প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আজ সন্ধ্যায় আ. লীগের অভ্যর্থনা উপকমিটির সভা ইউনেস্কোর সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা দুদকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ সশস্ত্র বাহিনী নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন- প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আইভোরি কোস্টের রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ সশস্ত্র বাহিনী জাতির গর্বের প্রতীক : রাষ্ট্রপতি আজ বিশ্ব টেলিভিশন দিবস সারাদেশের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন লিখতে হবে স্পষ্ট অক্ষরে: হাইকোর্ট আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস শাহজালালে পৌঁছেছে পাকিস্তানের ৮২ টন পেঁয়াজ ক্রিকেটের সঙ্গে টেনিসও এগিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
২৭০

অবসরে গেলেন দেশবরেণ্য চিকিৎসক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ

প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮  

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এর চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন দেশবরেণ্য চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই অধ্যাপক অবসরগ্রহণের আগ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন ও ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ধ্যানে জ্ঞানে আপদমস্তক তিনি একজন মানবদরদী চিকিত্সক। শিক্ষা ও চিকিত্সাই তাঁর ধ্যানজ্ঞান। চিকিৎসাকে স্থান দিয়েছেন ইবাদতের পর্যায়ে। দেশের চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও গবেষণায়সহ সামগ্রিক চিকিৎসা পেশার উন্নয়ন, মর্যাদা বৃদ্ধি ও সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। তাঁর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত পরিচিতি লাভ করেছে। বহু সংগ্রাম করে আজ তিনি সফল জীবনের এক প্রতিকৃতি। সহজ সরল এমন একজন মানুষ আজ পরিণত হয়েছেন জীবন্ত কিংবদন্তী হিসেবে।
বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ইউনিটের তিনবারের নির্বাচিত ডিন, মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান, একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশের প্রথিযশা চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর সম্পর্কে এসব কথা বলেন আলোচকগণ। বিএসএমএমইউতে এটাই ছিলো তাঁর শেষ দিন। প্রিয় শিক্ষক, চিকিত্সকের বিদায় উপলক্ষ্যে ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের হলরুমে আয়োজন করা হয়েছিলো এই অনুষ্ঠান।   

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান। অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন এবিএম আব্দুল্লাহর সহধর্মিনী অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল্লাহ আল হারুন, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. মো. আবদুর রহিম, অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল জলিল চৌধুরী, বক্ষব্যাধি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম মোশাররফ হোসেন প্রমূখ।  
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ আরাফাত।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিদায়ী বক্তব্যে ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘জীবনের জন্য লক্ষ্য বা টার্গেট থাকতে হবে। কারো ক্ষতি করা নয়, বরং ভালোকিছু করার প্রবণতা থাকতে হবে। মানুষের জীবনে কিছু করে যাওয়ার মতো সময় খুব অল্পই পাওয়া যায়। এই সংক্ষিপ্ত জীবনের পরিভ্রমণে ভালো কিছু অর্জন করে তা মানুষের মাঝেই বিতরণ করে যেতে হবে।'

তরুণ চিকিত্সকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তরুণরা সবাই ভালো মানুষ এবং ভালো চিকিত্সক হবেন সে প্রত্যাশা করি। জীবনে আশাহত হওয়া চলবে না। কোন সমালোচনায় কান দেয়া যাবে না। সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সব বাঁধা ডিঙ্গিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এই মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে এটাই কামনা। ’

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর সহধর্মিনী অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগম বলেন, ‘জীবনে সফল হওয়ার জন্য আত্মবিশ্বাস, টার্গেট, সময়ানুবর্তিতা, স্বার্থহীনতা, একাগ্রতা, চেষ্টা ও আশাবাদী থাকাটা খুবই জরুরি। যা ছিলো একজন এবিএম আদুল্লাহর জীবনে। এজন্যই তিনি আজ মানুষের ভালোবাসার পাত্র হতে পেরেছেন। ’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে  উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন,' অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ হলেন এমন একজন গুণী শিক্ষক, চিকিৎসক, গবেষক, প্রশিক্ষক যার মাধ্যমে কোনো কোনো জায়গায় প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত পরিচিতি লাভ করে। রোগীরা অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর নাম শ্রদ্ধাভারে স্মরণ করেন। অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ হলেন তরুণ চিকিৎসকদের জন্য অনুসরণীয় অনুকরণীয় শিক্ষক ও চিকিৎসক। এই বিশ্ববিদ্যালয় সব সময়ই তার অভাব অনুভব করবে'

অন্যান্য বক্তারা বলেন, অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ হলেন আদর্শবান ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক ও চিকিৎসক। রোগীদের প্রতি কোনো রকম অবহেলা তিনি সহ্য করতে পারেন না। সহজ সরল এমন গুণী শিক্ষক ও চিকিৎসককে অনুসরণ করেই তরুণ চিকিৎসকদের আলোকিত মানুষ, আলোকিত চিকিৎসক হওয়া জরুরি। অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে সবাইকে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার পরামর্শ দেন যা প্রত্যেক মানুষের জন্যই অত্যন্ত জরুরি।

বক্তারা অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে দরদী চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশের চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও গবেষণায়সহ সামগ্রিক চিকিৎসা পেশার উন্নয়ন, মর্যাদা বৃদ্ধি ও সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর অসামান্য অবদান রেখেছেন এবং বর্তমানেও তা অব্যাহত রয়েছে।