• বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২২ ১৪২৮

  • || ২২ রমজান ১৪৪২

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
করোনা প্রাণ নিল আরও ৫০ জনের, নতুন শনাক্ত ১৭৪২ ধান-চাল ক্রয়ের জন্য অত্যন্ত যৌক্তিক দাম নির্ধারণ: কৃষিমন্ত্রী শপিংমল খোলা রাত ৮টা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডবের ঘটনায় আরো ১০ জন গ্রেফতার করোনায় একদিনে আরও ৬১ জনের মৃত্যু জুনায়েদ আল হাবিব আরও ৪ দিনের রিমান্ডে নাশকতার মামলায় ফের ৫ দিনের রিমান্ডে মামুনুল হক জামায়াত-শিবিরের ৮ নেতাকর্মী আটক করোনায় প্রাণ গেল আরও ৬৫ জনের, শনাক্ত ১৭৩৯ ‘লকডাউন’ বাড়লো ১৬ মে পর্যন্ত অর্থবিত্তে বড় হলেও সত্য সংবাদ পরিবেশন হওয়া উচিত: তথ্যমন্ত্রী জনস্বার্থে মামলার নামে জনমনে ভীতি ছড়াবেন না: হাইকোর্ট মাদারীপুরে নৌ দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ২৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে মৃত ৬৯ যত টাকাই লাগুক, আমরা আরো ভ্যাকসিন নিয়ে আসবো: প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর স্ট্রাকচারের কাজ শেষ হয়েছে : কাদের সব কোর্ট খুললে সংক্রমণ বাড়বে: প্রধান বিচারপতি এবার মামুনুলের ২৪ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ খুবই মারাত্মক: প্রধানমন্ত্রী সব সময় দুর্গত মানুষের পাশে থাকে আওয়ামী লীগ: প্রধানমন্ত্রী

আজ বামনা হানাদার মুক্ত দিবস

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০১৯  

আজ ২৪ নভেম্বর বামনা হানাদার মুক্ত দিবস। ওই দিন কুয়াশাছন্ন ভোর রাতে বামনা থানা ভবন আক্রমণ করে মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধাদের একের পর এক গ্রেনেড আর বুলেটের আঘাতে প্রকম্পিত হয় থানা ভবনের প্রতিটি প্রান্তর। লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় পাক হানাদার বাহিনী ও রাজাকাররা। বামনা থানার পতাকাস্তম্ভে ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। ভোরের সূর্য উদীত হওয়ার পূর্বেই বামনা থানা হয় হানাদারমুক্ত।

জানা গেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের মধ্যে নবম সেক্টরের সাব সেক্টর হেটকোয়ার্টার বুকাবুনিয়ায় তৎকালীন ক্যাপটেন মেহেদী আলী ইমাম ও উপ-অধিনায়ক ছিলেন আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের এই দিনে বামনায় সংগঠিত মুক্তিযোদ্ধাদের অদম্য সাহসিকতা এখানে অবস্থানরত পাক বাহিনীদের পরাজিত করে।

কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ২৩ নভেম্বর ১৯৭১ সকাল নয়টায় বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন থেকে পূর্ব দিকে মুক্তিযোদ্ধারা প্রচণ্ড গোলাগুলির আওয়াজ শুনতে পায়। তখন মুক্তিযোদ্ধারা বামনা আমুয়ার খালের রাস্তার পশ্চিম ঢালে ও স্থানীয় আমজাদ খান সাহেবের বাড়ির পিছনের বাগানে অবস্থান নেয়। এদিকে বিষখালী নদী তীরবর্তী বদনীখালী বাজার জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ও লুটপাট করে পাকিস্তানী সৈন্য বহনকারী লঞ্চ এমভি “আল আকরাম” বামনা বন্দরের দিকে আসতে শুরু করে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা নদীর তীরবর্তী স্থানে অবস্থান নিয়ে ফায়ার শুরু করে। পাক সেনারাও পাল্টা গুলি চালায়। এমন অবস্থার মধ্যে পাক সেনারা টিকতে না পারায় লঞ্চের গতি পিছনে নিয়ে আস্তে আস্তে লঞ্চ ঘুরিয়ে বেতাগীর উপজেলার দিকে পিছু হটে চলে যায়।

পরদিন ২৪ নভেম্বর ভোর রাতে মুক্তিকামী যোদ্ধারা পাকিস্তানিদের হাত থেকে বামনাকে মুক্ত করার জন্য থানা ভবনে আক্রমন করলে থানার অভ্যন্তর থেকে পুলিশ ও রাজাকার বাহিনী প্রচণ্ডভাবে তাদেরকে প্রতিহত করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু অদম্য মুক্তিযোদ্ধারা থানার উত্তর দিকে আকনবাড়ির বাগান ও দক্ষিণ দিকে সারওয়ারজান হাইস্কুল ও পশ্চিমে সদর মসজিদের চারদিকে একটি বেষ্টনী বলয় গড়ে থানাকে লক্ষ্য করে তুমুল বেগে গুলি চালাতে থাকে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নায়েক আমীর হোসেন থানা ভবনে দিকে কয়েকটি গ্রেনেড ছুড়ে মারলে পুলিশ ও রাজাকার বাহিনীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। এর কিছুক্ষণ পরই তারা অদম্য শক্তির কাছে পিছু হটে বাধ্য হয়ে আত্মসমর্পণ করে। কয়েকজন রাজাকার ও পাকিস্তানি সেনা এ যুদ্ধে নিহত হয়। ওই দিনই বামনা থানার পতাকা স্তম্ভে উল্লসিত মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা উত্তোলন করে বিজয় উল্লাস করে বামনা শত্রুমুক্ত ঘোষণা করে।

মহান মুক্তিযুদ্ধে উপকুলীয় দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চল নবম সেক্টরের অধীনে সংগঠিত হওয়া মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। উপকুলীয় এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের মিলন কেন্দ্র নবম সেক্টরের সাব সেক্টর হেড কোয়াটার বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়ায়।

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মো. জিয়া উদ্দিন তারেক আলীর একান্ত প্রচেষ্টায় ১৯৯৬ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান বামনায় আসেন। তিনি বুকাবুনিয়ায় একটি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সেখানে নির্মাণ করা হয় দৃষ্ঠিনন্দন মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ।

বামনা থানা হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে বামনা উপজেলা প্রশাসন, মুত্তিযোদ্ধা সংসদ, বামনা প্রেসক্লাবের আয়োজনে আজ রবাবার সকাল সাড়ে আটটায় একটি বর্নাঢ্য র‌্যালি, স্মৃতিস্তম্ভে পূষ্পমাল্য অর্পণ সহ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সুলতানা বলেন, এই দিনটি বামনা উপজেলাবাসীর জন্য একটি স্মরণীয় দিন। তাই দিনটির তাৎপর্য সকলের কাছে তুলে ধরতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

বরগুনার আলো