• শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ৪ ১৪২৮

  • || ০৪ রমজান ১৪৪২

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
করোনায় দেশে আজও শতাধিক মৃত্যু হেফাজত নেতা জুবায়ের পাঁচদিনের রিমান্ডে হেফাজত নেতা মাওলানা জালাল গ্রেফতার দেশে করোনায় মৃত্যু ১০ হাজার ছাড়াল সরবরাহ কম থাকায় চালের দাম বেশি : অর্থমন্ত্রী উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা করেছে বিএনপি: কাদের একদিনে করোনায় ৬৯ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬০২৮ নারায়ণগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় জামায়াত নেতা গ্রেফতার অবকাঠামো নির্মাণকাজ লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে: কাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলমান উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখুন: তাজুল ইসলাম করোনায় একদিনে রেকর্ড ৮৩ জনের মৃত্যু হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে: রেলমন্ত্রী বিশ্বে শান্তি নিশ্চিত করাটাই চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে করোনা শনাক্ত ১১৫ বাজেটে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাত গুরুত্ব পাবে: অর্থমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় আরো ৭৮ জনের মৃত্যু আ. লীগের নিজস্ব ইতিহাস তৈরির কারখানা নেই: কাদের লকডাউনে কোথাও উন্নয়ন কাজ বন্ধ থাকবে না: পরিকল্পনামন্ত্রী ফেসবুকে ‘উসকানিমূলক’ স্ট্যাটাস: গ্রেফতার হেফাজতের লোকমান আমিনী পুরো বিশ্বেই শান্তির সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে চায় বাংলাদেশ: মোমেন

ইচ্ছেকৃত ঋণখেলাপিদের গাড়ি ও বাড়ি ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা আসছে

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

ইচ্ছেকৃত বা স্বেচ্ছা ঋণখেলাপিরা ভবিষ্যতে আর কোনো বাড়ি বা গাড়ি কিনতে পারবেন না। কারণ ইচ্ছেকৃত ঋণখেলাপির বাড়ি বা গাড়ি ক্রয়ে কোনো রেজিস্ট্রেশন করা হবে না। শুধু তা-ই নয়, তাদের নামে ইস্যু করা হবে না ট্রেড লাইসেন্সও। বিদ্যমান ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনীতে এ প্রস্তাব করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সংশোধনীটি ইতোমধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চূড়ান্ত করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। শিগগিরই এটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ইচ্ছেকৃত বা স্বেচ্ছা ঋণখেলাপিদের বিষয়ে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। প্রস্তাব মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক ইচ্ছা করলে স্বেচ্ছা ঋণখেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, গাড়ি ও বাড়ি রেজিস্ট্রেশনে নিষেধাজ্ঞা, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু না করা, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মসে (আরজেএসসি) কোম্পানি নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অনুরোধ জানাতে পারবে এবং অনুরোধপ্রাপ্ত সংস্থা সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ছাড়া ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণ গ্রহীতা রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো সম্মাননা পাওয়ার বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হবেন না এবং কোনো প্রকার পেশাজীবী, ব্যবসায়িক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক সংগঠন পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত কোনো কমিটির, যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, কোনো পদে অধিষ্ঠিত হতে বা আসীন থাকতে পারবেন না। কোনো ব্যাংক কোম্পানির কোনো পরিচালক ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণ গ্রহীতা হিসেবে তালিকাভুক্ত হলে বাংলাদেশ ব্যাংক তার পরিচালক পদ শূন্য করতে পারবে। ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণ গ্রহীতা হিসেবে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তালিকা থেকে অব্যাহতি প্রাপ্তির পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যাংক কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হওয়ার যোগ্য হবেন না।

অন্যদের মধ্যে স্বেচ্ছা ঋণখেলাপিদের তালিকা করতে প্রতিটি ব্যাংকে দু’টি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে খসড়া আইনে। এর মধ্যে একটি কমিটি স্বেচ্ছা ঋণখেলাপিদের শনাক্ত করবে এবং অপর কমিটি তালিকা চূড়ান্ত করবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বেচ্ছা খেলাপিদের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে। স্বেচ্ছা খেলাপির তালিকার বিষয়ে কোনো ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হলে তিনি তালিকা চূড়ান্ত করার ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে আপিল করতে পারবেন এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

এ দিকে স্বেচ্ছা ঋণখেলাপিদের সংজ্ঞা নির্ধারণ নিয়ে এর আগে অংশীজনদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ লক্ষ করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব অনুযায়ী, আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক কোনো ব্যাংক থেকে গৃহীত ঋণ ও এর সুদ পরিশোধ না করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবে। কিন্তু এই সংজ্ঞা মানতে নারাজ ব্যাংক মালিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস’ (বিএবি)। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবিত স্বেচ্ছা খেলাপির সংজ্ঞা সংশোধন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

জানা গেছে, ইচ্ছেকৃত বা স্বেচ্ছা ঋণখেলাপির সংজ্ঞা নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবিত সংজ্ঞায় চারটি উপধারা রাখা হয়েছিল। এটি কাটছাঁট করে দু’টি উপধারায় সংজ্ঞায়িত করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবে বলা হয়েছিল ‘স্বেচ্ছাকৃত/ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা অর্থ এরূপ কোনো খেলাপি দেনাদার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যে নিজের বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদত্ত অগ্রীম, ঋণ বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা বা উহার অংশ বা উহার ওপর অর্জিত সুদ বা উহার মুনাফা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী যদি (১) তাহার ঋণ পরিশোধ করিবার জন্য আর্থিক সচ্ছলতা বা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হন, বা (২) জাল-জালিয়াতি বা প্রতারণা বা মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে অস্তিত্ববিহীন কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির নামে ঋণ গ্রহণ করিলে, বা (৩) তাহাকে যে উদ্দেশ্যে ঋণ প্রদান করা হইয়াছিল সেই উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করিয়া ঋণের অর্থ অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করিলে অথবা স্থানান্তর করিলে, বা (৪) ঋণ বা অগ্রীমের বিপরীতে প্রদত্ত জামানত ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক-কোম্পানির অজ্ঞাতে হস্তান্তর বা স্থানান্তর করেন।’

সংজ্ঞার বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশকৃত আইনে বলা হয়েছে, ‘ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণ গ্রহীতা অর্থ এরূপ ‘খেলাপি ঋণগ্রহীতা’ যিনি-(১) নিজের বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে গৃহীত অথবা বেনামে বা অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির নামে গৃহীত ঋণ বা বিনিয়োগ বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা বা উহার অংশ বা উহার সুদ বা মুনাফা তাহার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী পরিশোধ না করেন; বা (২) ঋণের বিপরীতে প্রদত্ত জামানত ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক- কোম্পানির লিখিত পূর্বানুমতি ব্যতীত হস্তান্তর বা স্থানান্তর করেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী গৃহীত ঋণ পরিশোধ না করেন।’

সূত্র মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবিত সংজ্ঞার চারটি উপধারার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে ‘বিএবি’। এ বিষয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক চারটি বিষয় নির্ধারণ করার জন্য নির্দেশনা জারি করবে এটি সঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বিদ্যমান বিধিবিধানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে উপযুক্ত ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনীতে আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে ব্যাংক থেকে অপসারিত ব্যক্তির ব্যক্তিগত হিসাব অবরুদ্ধ, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ এবং ক্ষেত্রমত বাজেয়াপ্ত করার উদ্যোগ নেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকে। বিদ্যমান ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১’ সংশোধন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এই ক্ষমতা প্রদান করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, বিদ্যমান আইনে ‘জনস্বার্থে’ বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী (এমডি) অপসারণ করতে পারে। কিন্তু ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের অপসারণ করার ক্ষমতা আরো বাড়ানো হচ্ছে। ফলে ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী ছাড়াও আগামীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘জনস্বার্থে’ চেয়ারম্যান, পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা তার নিম্মতর দুই স্তর পর্যন্ত কর্মকর্তাকেও অপসারণ করতে পারবে। একই সাথে বাংলাদেশ ব্যাংক অনিয়মের কারণে দুর্বল ব্যাংককে জনস্বার্থে অবসায়ন ও একীভূতকরণও করতে পারবে।

আইনের সংশোধনীতে ব্যাংক পরিচালকদের অর্ধেকের বেশি বাংকিং, হিসাববিজ্ঞান, ফাইন্যান্স, অর্থনীতি, কৃষি ও গ্রামীণ অর্র্থনীতি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, আইসিটি ও অন্যান্য এক বা একাধিক বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পেশাদার জ্ঞান ও বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কোনো ব্যাংক ‘ঋণের আসল বা মূল ঋণ মওকুফ করতে পারবে না।’ এর পাশাপাশি সংশোধিত এই আইনের আওতায় প্রত্যেক ব্যাংকে স্বেচ্ছা ঋণখেলাপিদের চিহ্নিত করার জন্য দুইটি করে কমিটি গঠন এবং স্বেচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণের কথা বলা হয়েছে। একই সাথে স্বেচ্ছা ঋণখেলাপিদের তালিকা ছবিসহ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ও পত্রপত্রিকায় প্রকাশ করার নির্দেশনা থাকছে।

 

বরগুনার আলো