সোমবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১৩ ১৪২৬   ০১ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
বিদেশের মসজিদে আর অর্থ দেবে না সৌদি গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সামগ্রী নিয়ে আর্কাইভ হচ্ছে এত সুন্দরভাবে নির্বাচন হচ্ছে কীভাবে: ইসি সচিব জমাদিউস সানি শুরু আজ ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগালেন ব্র্যাড পিট ও জেনিফার অ্যানিস্টন বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কাছে ৫ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আজ ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস অটোমেশনে দুর্নীতি কমবে: অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ধর্ষণ থেকে রক্ষায় জাবি শিক্ষার্থীর অ্যাপ তৈরি ইশরাকের অভিযোগ অমূলক : তাপস বিশ্বের প্রাণঘাতী ৭টি ভাইরাস দ্রুত পেটের চর্বি গলাবে জাপানিজ এই পানীয় ফেসবুকে অযাচিত ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আটকাবেন যেভাবে ইসলামের মুদ্রাব্যবস্থা স্বর্ণ-রৌপ্যনির্ভর জমাদিউস সানি শুরু সোমবার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনায় সুপ্রিমকোর্টে ঘড়ি স্থাপন তাবিথ আউয়ালের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রিট আফতাবনগরে মানবপাচার চক্রের সন্ধান, আটক ১৩ রোহিঙ্গা নারী একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
২৬০৮

এনিমিয়া কি কেন ও এর প্রতিকার

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০১৯  

এনিমিয়া বা রক্তশূন্যতা বা রক্তস্বল্পতা হল রক্তে রক্তকণিকা  স্বল্পতা অথবা রক্তের পরিমাণ বা অক্সিজেনবাহী রক্তরঞ্জক হিমোগ্লোবিনের  অভাব।

হিমোগ্লোবিন হলো রক্তের একটি বিশেষ রঞ্জক পদার্থ। এর প্রধান কাজ শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন সরবরাহ করা। হিমোগ্লোবিন রক্তের লোহিত কণিকায় থাকে। এতে লোহিত রক্ত কণিকা কমে গিয়েও রক্তশূন্যতা হতে পারে।

রক্তশূন্যতা অন্য রোগের সঙ্গে একটি উপসর্গ হতে পারে, যেমন: ক্রনিক রেনাল ফেইলিওর অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদী বৃক্কীয় কার্যহীনতা অথবা কখনো নিজেই একটি রোগ হতে পারে, যেমন:  অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া অর্থাৎ সমস্ত রক্তকণিকা তৈরি হবার অভাব  বা যার কারণে অন্য রোগ হতে পারে যেমন হার্ট ফেইলিওর।

♦ কেন হয় রক্তশূন্যতা

রক্তশূন্যতা আসলে রোগ নয়,  রোগের উপসর্গ। নানা কারণে রক্তশূন্যতা হতে পারে। রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরির অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হলো আয়রন। কোনো কারণে শরীরে আয়রনের উপস্থিতি কমে গেলে রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া হতে পারে। একে বলে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতা। ডাক্তারি ভাষায় ‘আয়রন ডেফিসিয়েন্সি এনিমিয়া’।
 এ ছাড়া ভিটামিন বি ও ফলিক এসিডের অভাব, দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ কিছু  রোগ ( কিডনি বিকল),  বিশেষ কিছু ইনফেকশন ( যক্ষা),  রক্তের ক্যানসার,  থ্যালাসেমিয়া,  থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা, রক্ত উৎপাদনকারীর মজ্জার সমস্যা,  রক্তের লোহিত কণিকা নিজে নিজে ভেঙে যাওয়া,  রক্তক্ষরণ ইত্যাদি কারণে রক্তশূন্যতা হয়ে থাকে।

নানা রকম রক্তশূন্যতার ভেতর আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতার হারই সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের গরিব দেশগুলোতে। নারীদের মধ্যে এর হার পুরুষের তুলনায় বেশি। ২০১২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশের ৭০ ভাগ নারী জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে রক্তশূন্যতায় ভোগে। বাংলাদেশে নারীদের গর্ভাবস্থায় আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এই রক্তশূন্যতার কারণে বেড়ে যায় মাতৃমৃত্যুর হার। শিশুদের মধ্যেও এর হার যথেষ্ট বেশি।

♦ আয়রনের ঘাটতি কেন হয়

আয়রনের ঘাটতি হওয়ার প্রধান কারণ অপুষ্টি। খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন না থাকলে আয়রনের অভাব দেখা দেয়। গর্ভবস্থায় এবং শিশুদের বেড়ে ওঠার সময়ে বাড়তি আয়রনের প্রয়োজন। কিন্তু দেখা যায় আমাদের দেশে গর্ভবতী মায়েদের  পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো হয় না। গ্রামাঞ্চলে এমনিতেই অজ্ঞতার কারণে গর্ভবতী মায়েদের কম খেতে দেওয়া হয়। এ ছাড়া আরো একটি বিশেষ কারণে মহিলারা আয়রনের ঘাটতিতে ভোগে। সেটি হলো অতিরিক্ত ঋতুস্রাব। দীর্ঘমেয়াদি ধীরগতির রক্তক্ষরণ হলে আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়। এছাড়া  পেপটিক আলসার,  কৃমি,  পাইলস, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার ওষুধ খাওয়া ইত্যাদি কারণেও আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতা হতে পারে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য একটা বড় হুমকি হলো এই আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতা।

♦ লক্ষণ

* চোখ  মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
* দুর্বল লাগা
* অবসাদগ্রস্ত হওয়া
* মাথা ব্যাথা, মাথা ঘোরা ও বমির ভাব
* চোখে ঝাপসা দেখা
* মুখে ঘা,  খাবার গিলতে অসুবিধা ইত্যাদি।

* এছাড়াও এনিমিয়া বেশি হলে শ্বাসকষ্ট,  বুকে চাপ লাগা ব্যথা এমনকি হার্টফেইলিউর পর্যন্ত হতে পারে।

♦ অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি কাদের বেশি

শরীরে প্রয়োজনীয় আয়রন এবং ভিটামিনের অভাব দেখা দিলে অ্যানিমিয়া হয়। যাদের অ্যানিমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে তারা হলেন:

* যেসব নারীদের ঋতুস্রাবের সময় রক্তপাত অনেক বেশি হয়

* গর্ভবতী নারীরা

* দীর্ঘদিন ধরে কিডনির রোগে ভুগছেন যারা

* যেকোন ধরণের ক্যানসারে, বিশেষ করে রক্তের কোন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীরা

* পেটে কৃমি হলে

* যারা অপুষ্টির শিকার

* নিরামিষাশী

* এইচআইভি কিংবা হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত রোগীরা

* বংশে কারো অ্যানিমিয়া থাকলেও হতে পারে।

♦ পরীক্ষা নিরীক্ষা

রক্তের সিবিসি পরীক্ষা করলেই রক্তশূন্যতা ধরা পড়ে। আয়রনের মাত্রা দেখার জন্য সিরাম আয়রন ও সিরাম ফেরিটিন পরীক্ষা করা হয়। টিআইবিসি বলে এক ধরনের পরীক্ষাও করা হয়।

♦ চিকিৎসা

যেকোনো ধরনের রক্তশূন্যতায় চিকিৎসা দেওয়া হয় রক্তশূন্যতার পেছনের কারণটিকে বিবেচনা করে।

আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতায় কী কারণে আয়রনের ঘাটতি হলো তা আগে নিশ্চিত করতে হবে। অপুষ্টিজনিত কারণে হলে আয়রন সাপ্লিমেন্ট হিসেবে দেওয়াটাই মূল চিকিৎসা। সঙ্গে আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের পরামর্শ দেওয়া হয়। কচু শাক,  ডাঁটা শাক,  পালং শাক,  শিম ও শিমের বিচি,  কাঁচা কলা,  সামুদ্রিক মাছ,  কলিজা,  গিলা, গরু-খাসির মাংসে প্রচুর আয়রন থাকে। আয়রন সাপ্লিমেন্ট দুভাবে দেওয়া হয়। মুখে খাবার জন্য ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল আকারে,  শিরায় ইনজেকশন হিসেবে।

কোন উপায়ে রোগী এটা নেবেন তা রোগীর অবস্থা বুঝে চিকিৎসক পরামর্শ দেবেন। পেপটিক আলসার,  অতিরিক্ত ঋতুস্রাব,  পাইলস থাকলে তার চিকিৎসা করতে হবে। নিয়মিত কৃমির ওষুধ খেতে হবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য একটা বড় হুমকি হলো এই আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতার সমাধান খুবই সহজ। শুধু দরকার একটু সচেতনতা।

এছাড়া কিছু করনীয় :

* প্রচুর পানি পান করুন

*  ব্যায়ামের সময় নিজের ওপর খুব বেশি জোর দিবেন না

* শরীরের কোথাও কেটে গেলে কিংবা ঘা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।  

বরগুনার আলো