সোমবার   ২৬ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ১০ ১৪২৬   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে শিক্ষা নিতে হবে : স্পিকার ‘মুখরোচক কথায় দালালের খপ্পরে পড়ে বিদেশ যাবেন না’- প্রধানমন্ত্রী আজ কুমিল্লায় পারিবারিক কবরস্থানে মোজাফফর আহমদের দাফন অ্যামাজন পুড়ছে, আমরা যেন না পুড়ি: পরিবেশমন্ত্রী জেলা সরকার এখন সময়ের দাবি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওএসডি হচ্ছেন জামালপুরের সেই ডিসি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: দীপু মনি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত অধ্যাপক মোজাফফর বরগুনায় উচ্ছেদ অভিযানে জেলা প্রশাসন মোজাফফর আহমদের মরদেহে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা হাইভোল্টেজ ম্যাচে লড়বে লিভারপুল-আর্সেনাল গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ডদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে- কাদের আইভি রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা আইভী রহমানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মোজাফফর আহমদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক ৯০ ভাগ ডেঙ্গু রোগী বাড়ি ফিরেছে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার হাল ছাড়েনি: ওবায়দুল কাদের ২৩ আগস্টের ঘটনায় সেনাবাহিনী দায়ী নয়-ঢাবি উপাচার্য যে করেই হোক রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাবোই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা বিজয় দিবসের আগেই: মন্ত্রী
১২

কবিগুরুর জীবনে শ্রাবণ

প্রকাশিত: ৬ আগস্ট ২০১৯  

ঠাকুরবাড়ি তখন জনারণ্য। কবিকে বেনারসি-জোড় পড়ানো হলো। কোঁচানো ধুতি, গরদের পাঞ্জাবি, চাদর, কপালে চন্দন, গলায় মালা দিয়ে সাজানো হলো। রানী চন্দ কবির বুকের ওপরে রাখা হাতে ধরিয়ে দিলেন পদ্মকোরক। কবি চললেন চিরবিদায়ের পথে। বাইশে শ্রাবণের কথাই বলছিলাম। শোকার্ত তারিখটা ছাড়াও রবি ঠাকুরের জীবনে ‘স্মরণীয় শ্রাবণ’ এসেছিল বহুবার। বলা যায়, অনেক সময় শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথের জীবনে অন্য এক মাধুর্যে ধরা দিয়েছে যেন।

‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’

রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’। জানা যায়, ১৯০৫ সালের ৭ অগস্ট (সে-ও শ্রাবণ) কলকাতার টাউন হলের এক প্রতিবাদ সভায় ওই গান গাওয়া হয়েছিল। গানটির সঠিক রচনাকাল জানা যায়নি। তবে, এই গান যেভাবে বাংলা দেশের সমাজকে আলোড়িত করেছিল, তা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী ঘটনা। স্বাধীনতার পর কবিগুরুর লেখা এই গানের প্রথম দশ লাইন জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করে বাংলাদেশ।

বঙ্কিমের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ

রবীন্দ্রনাথ জীবনে বহুবার বলেছেন ও লিখেছেন এই ঘটনা। ১৮৮২ সালের শ্রাবণ মাসে রমেশচন্দ্র দত্তের কন্যার বিবাহসভায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বরি ঠাকুরের প্রথম দেখা হয়। দিনটিতে কে সবচেয়ে বেশি খুশি ছিলেন তা বলা মুশকিল। তবে বঙ্কিম রবীন্দ্রনাথের ‘সন্ধ্যাসংগীত’ কাব্যগ্রন্থের প্রশংসা করেন প্রাণ খুলে, তারপর নিজের গলা থেকে ফুলের মালা খুলে রবীন্দ্রনাথের গলায় পরিয়ে দেন।

ছিন্নপত্র

শিলাইদহে কবি। সালটি ছিল ১৮৯৪। তারিখ বাইশে শ্রাবণ। এদিন ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরাদেবীকে চিঠি লিখেছেন কবি—“... এখানকার প্রকৃতির সঙ্গে সেই আমার একটি মানসিক ঘরকন্নার সম্পর্ক। ...জীবনের যে গভীরতম অংশ সর্বদা মৌন এবং সর্বদা গুপ্ত, সেই অংশটি আস্তে আস্তে বের হয়ে এসে এখনকার অনাবৃত সন্ধ্যা এবং অনাবৃত মধ্যাহ্নের মধ্যে নীরবে এবং নির্ভয়ে সঞ্চরণ করে বেড়িয়েছে। এখনকার দিনগুলো তার সেই অনেক কালের পদচিহ্ন-দ্বারা যেন অঙ্কিত।” (ছিন্নপত্র)

‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ 

রবীন্দ্রনাথের জীবনে এক সুদূরপ্রভাবী ঘটনা ঘটে। ১৮৯৬ সালে ৮ অগস্ট পিতা দেবেন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথকে ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ দেন তাদের সম্পত্তির।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

‘ক্ষণিকা’ প্রকাশ

রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ ‘ক্ষণিকা’ প্রকাশিত হয় শ্রাবণেই। এই কাব্যগ্রন্থে কবিতায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন— ‘...মরার পরে চাইনি ওরে অমর হতে / অমর হব আখির তব সুধার স্রোতে।’

নয়টি নতুন গান

১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথের ৯টি নতুন গান পরিবেশিত হয় শান্তিনিকেতনে অনুষ্ঠিত বর্ষামঙ্গলে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ‘ওই যে ঝড়ের মেঘের কোলে’, ‘আজ আকাশের মনের কথা ঝরো ঝরো বাজে’, ‘পুব সাগরের পার হতে কোন’, ‘একি গভীর বাণী এল ঘন মেঘের আড়াল ধরে’, ‘বৃষ্টি শেষের হাওয়া কিসের খোঁজে’ প্রভৃতি।

অক্সফোর্ড সম্মাননা

১৩৪৭-এর ২২ শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষ ভাবে সম্মানিত করা হয় শান্তিনিকেতনে। বিদেশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা এসে কবিকে সম্মানিত করেন। এই বিশেষ দিনে রবীন্দ্রনাথের একটি নতুন গান গাওয়া হয়। গানটি হল ‘বিশ্ব বিদ্যা তীর্থ প্রাঙ্গণ কর মহোজ্জ্বল আজ হে’।

কবিগুরুর প্রয়াণ

বছর ঘুরেই তো বাইশে শ্রাবণ আসে। বিশ্বব্যাপী রবিভক্তদের কাছে বাইশে শ্রাবণ দিনটি শোকের, শূন্যতার। রবীন্দ্র কাব্যসাহিত্যের বিশাল একটি অংশে যে পরমার্থের সন্ধান করেছিলেন, সেই পরমার্থের সঙ্গে তিনি লীন হয়েছিলেন ১৯৪১ সালের এদিন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মৃত্যু নিয়ে বলেছেন— ‘...সংসারের বাহিরেতে কিছুই না থাকে যদি, আছে তবু দয়াময় মৃত্যু’ (বিসর্জন)।