রোববার   ১৭ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২ ১৪২৬   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
১৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি পেসারের ৮ উইকেট আজ মজলুম জননেতা হামিদ খান ভাসানীর প্রয়াণ দিবস আমিরাতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু আজ আমার বাসায় সমস্ত রান্না হয়েছে পেঁয়াজ ছাড়া- প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির টাকা দিয়ে ফুটানি চলবে না : প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল সম্পাদক বাবু বরগুনায় আয়কর মেলা উদ্বোধন পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে কাল-পরশু এলেই দাম কমবে- প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মূল বক্তা মোদি প্রধানমন্ত্রী দুবাই যাচ্ছেন আজ স্বেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলন আজ মেসির জাদুতে ব্রাজিলকে হারাল আর্জেন্টিনা আয়কর দিলেন অর্থমন্ত্রী, রিটার্ন দাখিল প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নির্দেশনায় পুলিশ এখন দক্ষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কলকাতা টেস্ট দেখতে আমন্ত্রণ জানিয়ে শেখ হাসিনাকে মোদীর চিঠি কৃষি জমি রক্ষায় কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী চার বছরের মধ্যে দারিদ্র্র্যের হার কমবে : প্রধানমন্ত্রী আজ ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা দিবস পিকেএসএফ উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

কোস্টাল সার্ভিলেন্স সিস্টেমঃ যেসব সুবিধা পাবে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৯ নভেম্বর ২০১৯  

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ‘এমওইউ অন প্রভাইডিং কোস্টাল সার্ভিলেন্স সিস্টেম' অর্থাৎ উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা প্রদান শীর্ষক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। গত ০৫ অক্টোবর ভারতের হায়দরাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা-নয়াদিল্লির মধ্য দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠকে নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ওই এমওইউর আওতায় ভারত বাংলাদেশকে উপকূলীয় এলাকায় নজরদারির সরঞ্জাম দেবে। যা দ্বারা ‘নন-ট্র্যাডিশনাল সিকিউরিটি থ্রেট’ বা অপ্রথাগত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলার লক্ষ্যে উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি ব্যবস্থা বসাবে বাংলাদেশ। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কোস্টাল সার্ভিলেন্স রাডার সিস্টেম ইন বাংলাদেশ’। 

মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার এত বছর পরেও কোস্টাল সার্ভিলেন্স সিস্টেম বা সমুদ্র নজরদারির জন্য কোন আধুনিক যন্ত্রপাতি নাই। একারণে সাম্প্রতিক ভারতের সাথে বাংলাদেশ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির আওতায় উপকূলে রাডার সিস্টেম বসাবে ভারত, যার নিয়ন্ত্রণ থাকবে বাংলাদেশের হাতে। এতে বেশকিছু সুবিধা ভোগ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে এই সংক্রান্ত কিছু গুজব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সয়লাব করায় অনেকের মাঝেই এটি নিয়ে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। এক নজরে দেখে নিন, কোস্টাল সার্ভিলেন্স সিস্টেম এর বিস্তারিত।

সমুদ্রে নজরদারি বৃদ্ধিঃ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির অধীনে কোস্টাল সার্ভিলেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর এলাকায় কড়া দৃষ্টি রাখবে ভারত ও বাংলাদেশ। ফলে সমুদ্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে। এক দশক আগে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইতে হামলা হয়েছিল। যারা সবাই এসেছিলো সমুদ্রপথেই, কিন্তু তার কোন আগাম খবর তাদের কাছে ছিলোনা। কিন্তু কোস্টাল সার্ভিলেন্স সিস্টেম স্থাপনের ফলে বাংলাদেশের তার আগাম খবর পেয়ে যাওয়া সম্ভব। এতে ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশও সুবিধা ভোগ করবে।

জাহাজে পণ্য আমদানি রপ্তানিতে নিরাপত্তাঃ দেশের প্রায় ৮০ ভাগ আমদানি রপ্তানি হয়ে থাকে সমুদ্রপথে। কিন্তু বাংলাদেশের নিজেদের কোস্টাল সার্ভিলেন্স সিস্টেম না থাকায় পণ্যবাহী জাহাজ গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতে হয়। সেইসাথে সমুদ্রপথে প্রতি বছর হাজারো মানুষ অবৈধপথে বিদেশে পাড়ি জমায়। দুর্গম ওইসব অবৈধ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে শত শত মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। এসব প্রাণহানি আর রোমহর্ষক ঘটনার খুব সামান্যই আমরা জানতে পারি। সর্বশেষ ১১মে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার উপকূলে একটি ট্রলার ডুবে গেলে প্রায় ৬০ জনের মৃত্যু ঘটে। কিন্তু কোস্টাল সার্ভিলেন্স সিস্টেম স্থাপন করলে এই ধরণের ঘটনাগুলোতে নজরদারি বাড়বে।

সামরিক ঋণ চুক্তি সহায়তাঃ বাংলাদেশ সামরিক সরঞ্জামগুলো বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন দেশের থেকে ঋণের মাধ্যমে কিনে থাকে। কোস্টাল সার্ভিলেন্স সিস্টেম চুক্তির মাধ্যমে ২০১৭ সালে ভারতের সঙ্গে ৫০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করে বাংলাদেশ। কিন্তু ওই অর্থ দিয়ে এখনো কোনো সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করা হয়নি। আর তাই বর্তমানে এটি সরকার কাজে লাগাতে চায় । 

সুন্দরবনে নিরাপত্তা প্রদানঃ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর সুন্দরবনের জেলে বাওয়ালিদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়কে কেন্দ্র করে জলদস্যুরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তাদের কবলে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন এখানকার বননির্ভরশীল শ্রমজীবী মানুষেরা। হাজার হাজার উপকূলবর্তী মানুষ প্রতি নিয়তই বনদস্যু/জলদস্যুদের আক্রমনের শিকার হয়। সুন্দরবন সহ বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় বনদস্যু, জলদস্যুদের দমনের লক্ষ্যে  সমন্বিত একটি টাস্কফোর্স কাজ করলেও ডিজিটাল ভাবে তাদের সনাক্ত না করার ফলে বিভিন্ন ফাঁক ফোকর দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে তালিকাভুক্ত দুস্যুরা। কিন্তু কোস্টাল সার্ভিলেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের খুব দ্রুততার সহিত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। 

এমওইউ অন প্রভাইডিং কোস্টাল সার্ভিলেন্স সিস্টেম চুক্তি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এই চুক্তিতে বাংলাদেশের লাভ বেশি। চুক্তির ফলে বাংলাদেশ নিজেদের গভীর সমুদ্রে এবং সুন্দরবনে নজরদারী করতে পারবে। একদিকে যেমন কারিগরি ভাবে লাভবান হবে তেমনে নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হবে দেশমাতৃকার।

এই বিভাগের আরো খবর