• শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২২ ১৪২৭

  • || ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
সুযোগ আছে, করোনা সংকটেও বিনিয়োগ আনতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী আবের ফোন করোনায় আরও ৩৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২৬৫৪ কামাল বেঁচে থাকলে সমাজকে অনেক কিছু দিতে পারতো: শেখ হাসিনা সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহার মাকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৫০ মৃত্যু, শনাক্ত ১৯১৮ করোনায় আরও ৪৮ মৃত্যু, শনাক্ত ২৬৯৫ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অসচ্ছল গর্ভবতী নারীরা পাবে চার হাজার টাকা ঈদ-বন্যা ঘিরে করোনা সংক্রমণের হার বাড়তে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ট্রাফিক পুলিশ বক্সে বিস্ফোরণ, ‘নব্য জেএমবির সদস্য’ আটক করোনায় আরও ৩৫ মৃত্যু, শনাক্ত ৩০০৯ ১২ কোটি টাকা আত্মসাত করে গ্রেফতার যমুনা ব্যাংকের ম্যানেজার থানায় বিস্ফোরণে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নেই : পুলিশ ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত ২৯৬০, মৃত্যু ৩৫ হাতের তালু দিয়ে আকাশ ঢাকা যায় না: বিএনপিকে কাদের দেশে একদিনে ৩৭ মৃত্যু, আক্রান্ত ২৭৭২ সাবরিনার অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে ৪ জনকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৫৪, শনাক্ত ২২৭৫ কোরবানি পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ২৫২০
৮৮০

ক্লাব ফুট ও এর চিকিৎসা

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০১৯  

শিশুরা যেসব জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মাতে পারে, এর মধ্যে  ক্লাব ফুট অন্যতম।ইংরেজিতে একে সিটিইভি( CTEV)  কনজেনিটাল টেলিপেস ইকুইনো ভেরাস বলে,এর ফলে  পায়ের  একটি অথবা ২ টি পাতা গোড়ালির অস্থি সন্ধির হাড়ের অবস্থাগত তারতম্যের জন্য  ভিতরের দিকে ভাজ হয়ে থাকে।
জন্মগতভাবে শিশুর পা এমনভাবে বসানো থাকে, যা গল্‌ফ খেলার স্টিক বা ক্লাবের মতো দেখায়। তাই এর নামকরন ক্লাব ফুট হয়েছে। রোগটি মুগুর পা বা জন্মগত পায়ের পাতা বাকা নামেও পরিচিত।

♦ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্লাব ফুট:
গ্লোবাল ক্লাবফুট ইনিশিয়েটিভের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে চার হাজার ৩৭৩টি শিশু ক্লাবফুট (বাঁকা পা) নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। বিশ্বে এই সমস্যা নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুর হার প্রতি হাজারে এক দশমিক দুই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বিনামূল্যে ২০১০ সাল থেকে শিশুদের জন্মগত বাঁকা পায়ের চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়। এ পর্যন্ত এখান থেকে ৫৯৯টি শিশুর মোট ৯১৪টি জন্মগত বাঁকা পায়ের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

দেশের শিশুদের প্রতিবন্ধিতা দূরীকরণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের  আওতায় পরিচালিত হচ্ছে— ‘দ্য ন্যাশনাল ক্লাবফুট প্রোগ্রাম অব বাংলাদেশ’। এটি যৌথভাবে পরিচালনা করে দ্য গ্লেনকো ফাউন্ডেশন ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
দ্য গ্লেনকো ফাউন্ডেশনের ওয়াক ফর লাইফ প্রকল্পের এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার লিটন রোজারিও বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত  দেশে মোট ২১ হাজার ৪০ জন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।  এরমধ্যে ৩১ হাজার ৫২১টি বাঁকা পায়ের চিকিৎসা করা হয়েছে। কারণ, সব শিশুর দুই পায়ে ক্লাব ফুট হয় না। এই শিশুদের মধ্যে ২/১ জন ছাড়া প্রায় ১০০ শতাংশ শিশুই চিকিৎসার মাধ্যমে সাফল্য পেয়েছে। দেশের ২৭টি সরকারি হাসপাতাল ও ছয়টি বেসরকারি ক্লিনিকে আমাদের এই প্রকল্প আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি রুম ও একজন অর্থোপেডিক সার্জন দিয়ে থাকে।  আর আমাদের প্রকল্পের আওতায় রোগীদের ওষুধ, চিকিৎসা, পায়ের প্লাস্টার সেবা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, সবকিছু ফ্রি দেওয়া হয়।’
ক্লাব ফুট মেয়েদের চেয়ে  ছেলেদের বেশি হয় 
এবং ৫০% ক্ষেত্রেই উভয় পায়েই হয়( Bilateral).

♦ ক্লাব ফুটের কারন:
  জন্মগত এই ত্রুটির পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ নেই।একটি শিশু  জন্মের সময় শারীরিক গঠন, কার্যকারিতা বা বিপাক ক্রিয়ার কোনো অস্বাভাবিকতা জন্য জন্মগত সমস্যা  নিয়ে জন্মায়।তবে কিছু বিষয় অনাগত শিশুর জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে৷ যেমন:
* গর্ভকালীন সংক্রমণ: বিশেষ করে রুবেলা বা জার্মান মিজলস, সাইটোমেগালো ভাইরাস, টক্সোপ্লাজমা ইত্যাদি জীবাণুর সংক্রমণ৷ এমনকি সাধারণ জলবসন্তও বাড়িয়ে দিতে পারে ঝুঁকি৷ তবে ধারণা করা হয়, মায়ের পেটে পানি কমে গেলে এই রোগ হতে পারে।’

* ওষুধ ও ক্ষতিকর রাসায়নিক: নানা রকমের ওষুধ সেবন, অ্যালকোহল ও নেশাদ্রব্য সেবন। প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা, তেজস্ক্রিয়তা।

* রোগবালাই: মায়ের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা বা কোনো জটিল রোগ

* জিনগত: পরিবারে জিনগত রোগ থাকলে রক্তসম্পর্কের আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে হলে৷

* পুষ্টিহীনতা: মায়ের অপুষ্টি, বিশেষ করে ফলিক অ্যাসিড বা আয়োডিনের অভাব।

* বংশগত : বাবা মায়ের ক্লাব ফূট থাকলে শিশুর হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

♦ করণীয় : 
গর্ভকালে মায়ের উচিত অভিজ্ঞ গাইনোকলোজিস্টের ফলোআপ এবং তার ব্যবস্থাপত্র মেনে চলা। ২০-২৪ সপ্তাহে একটি অ্যানোমেলি স্ক্যান করে নেওয়া ভালো। ধূমপান, মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে ত্যাগ করতে হবে। গর্ভকালীন বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর ওষুধ সেবন না করা। যে কোনো রেডিয়েশন থেকে দূরে থাকা।

♦ রোগ নির্ণয়:
USG..Foetal anamoly স্ক্রেনিং এর মাধ্যমে গর্ভবতী কালীন সময় ক্লাব ফুট নির্ণয় করা যায়।

♦চিকিৎসা :
মুগুর পায়ের চিকিৎসা সম্পর্কে আমাদের সমাজে অনেক ভুল ধারনা রয়েছে। প্রতিরোধ যোগ্য  এই রোগ চিকিৎসা না করালে সারা জীবনের জন্য বিকলাঙ্গতা বা পঙ্গুত্ব বয়ে নিয়ে আসে। এসব শিশু পরবর্তীতে পরিবার ও সমাজের  জন্য বোঝা হয়ে যায়।
মুগুর পায়ের চিকিৎসাকে সাধারণত ২ ভাগে ভাগ করা হয়
১.কনজারভেটিভ  পদ্ধতি: 
মার্কিন শিশু অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ইগনাসিও পনসেটি আবিষ্কৃত চিকিৎসা পদ্ধতিটি বাংলাদেশসহ বিশ্বে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এ পদ্ধতিতে সিরিয়াল  প্লাস্টারের পর লোকাল অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে ছোট একটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মূল চিকিৎসা শেষ হয়।

পনসেটি  পদ্ধতি:  
* ম্যানুয়াল ম্যানিপুলেশন
* সিরিয়াল কাস্টিং
* টেনোটমি ও
* সঠিক নিয়মে ব্রেস ( বিশেষ জুতা) পরিধান.

সিরিয়াল কাস্টিং( প্লাস্টার)  : প্রতি সপ্তাহেমোট ৫/৭  বার  ।
বেস পরিধান: পা ভাল হয়ে যাবার পর সেই ভাল অবস্থান ধরে রাখার জন্য প্রথম ৩ মাস ২৪ ঘন্টা  এবং পরবর্তীতে শুধু রাতের বেলা পরিধান করতে হয়( ৫ বছর)।

মাল্টি ডিসিপ্লিনারি টিম মেম্বার হিসাবে  বিশ্বের অন্যন্য দেশের মত বাংলাদেশেও পনসেটি প্রাকটিশনার হিসাবে  ফিজিওথেরাপিস্ট কাজ করেন এবং টেনোটমি অপারেশনের জন্য অর্থোপেডিকস সার্জন সার্জারি করেন।

২. সারজিক্যাল পদ্ধতি:
টেন্ডন ট্রান্সফার।(৩ বছরের অধিক বয়সিদের জন্য)

বরগুনার আলো
স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর