• রোববার   ২৪ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ১০ ১৪২৭

  • || ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
ঢাকা শুধু বাসযোগ্য নয়, বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হবে: তাজুল করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২২, শনাক্ত ৪৩৬ সবার আগে আমি ভ্যাকসিন নেব : অর্থমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১৬, শনাক্ত ৫৮৪ সার্জেন্টের ওপর হামলাকারী সেই যুবক গ্রেপ্তার পিকে হালদারের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে দুদক প্রতিক্রিয়াশীলতা বিএনপির রাজনৈতিক চরিত্র: কাদের সরকারের সাফল্যে বিএনপি উদ্ভ্রান্ত হয়ে গেছে : তথ্যমন্ত্রী বাইডেন কমলাকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন সীমান্তে শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করছে : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় পৌঁছে গেছে করোনার টিকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে শুভ সূচনা টাইগারদের পৌর নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে গেলেই কঠোর ব্যবস্থা: কাদের রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দিতে ভাসানচরে নতুন থানা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমে ঢাকায় টিকা কর্মসূচি শুরু হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী চলতি অর্থবছরে ১২ শিল্পনগরী স্থাপন হচ্ছে: শিল্পমন্ত্রী বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে কোনো আপস নয়: কাদের মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষা এপ্রিলে, বাড়ছে ১১শ’ আসন করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১৬, শনাক্ত ৬৯৭ কাউন্সিলর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে: কাদের

জুনে খুলে দেয়া হবে লেবুখালী সেতু

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ২০ ডিসেম্বর ২০২০  

পায়রা সমুদ্র বন্দর ও পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটাকে সারা দেশের সাথে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত করতে পায়রা নদীতে নির্মিত হচ্ছে লেবুখালী সেতু। প্রায় দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ৪ লেনের এ সেতুর নির্মাণ কাজ আগামী জুনের মধ্যে সম্পন্ন করতে চীনা প্রতিষ্ঠান দিন-রাত কাজ করছে। ইতোমধ্যে সেতুটির অবকাঠামো নির্মাণ কাজ প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং সার্বিক কাজের ৬৫ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। ১ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ লেবুখালী সেতুটি নির্মাণে কুয়েত উন্নয়ন তহবিল এবং ওপেক তহবিলের বাইরে বাংলাদেশের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৬৮.২৯ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।

প্রকল্পটির জন্য কুয়েত উন্নয়ন তহবিল থেকে দু’দফায় ২৯ মিলিয়ন কুয়েতি দিনার বা ৯৮.৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ওপেক তহবিল-ওএফআইডি থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলার যোগান দেয়া হচ্ছে। অনেক অনিশ্চয়তা আর চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘লং জিয়ান’ এর সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। দু’দফায় সময় বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ৭১ মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশা করছে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানসহ সড়ক বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র।

লেবুখালী সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে সারা দেশের সাথে পায়রা সমুদ্র বন্দর ও পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার ফেরিবিহীন সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। যা সারা দেশের সাথে দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

তবে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রস্তাবিত লেবুখালী সেতু নির্মাণে কুয়েত উন্নয়ন তহবিলের সাথে প্রথম সমঝোতায় সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে প্রায় দেড় হাজার কোটিতে উন্নীত হয়েছে। ২০১২ সালের ৮ মে একনেকের সভায়ও ২০০৫-০৬ সালের প্রকল্প ব্যয় সম্বলিত ডিপিপি অনুমোদিত হয়। কিন্তু ২০১৪ সালে দরপ্রস্তাবে সর্বনিম্ন দরদাতার প্রস্তাবটিও ছিল ১ হাজার ২শ’ কোটি টাকার ওপরে। কারণ প্রায় দশ বছর আগের মূল্যহারে চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানসহ অন্য প্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র দাখিল করেনি। ফলে সড়ক অধিদফতর ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় মূল্যহার সংশোধন করে চীনা সর্বনিম্ন দর প্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবনা গ্রহণ করে অনুমোদন প্রদান করে। কিন্তু ২০১৭ সালের জুনে ও ২০১৯ সালের ফেব্রয়ারিতে আরো দু’দফায় সংশোধিত ডিপিপি একনেকে অনুমোদনের পরে সেতুটির জন্য প্রকল্প ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ফুটপাথসহ ১৯.৭৬ মিটার প্রস্থ চার লেনের মূল সেতু ছাড়াও ১ হাজার ২৬৮ মিটার সংযোগ সড়ক এবং ১ হাজার ৪৭৫ মিটার নদীতীর রক্ষা কাজ এবং টোল প্লাজা ও প্রশাসনিক ভবন নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পটির জন্য প্রায় ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। মূল সেতু ও তার ভায়াডাক্টের জন্য টেস্ট পাইল, ওয়ার্কিং পাইল, পিয়ার ক্যাপ, পিয়ার এবং ভায়াডাক্ট ও মূল সেতুর ফাউন্ডেশন, সাব-স্ট্রাকচারের নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ভায়াডাক্টের সুপার স্ট্রাকচার শতভাগ শেষ হলেও মূল সেতুর সুপার স্ট্রাকচারের কাজ চলমান রয়েছে। মূল সেতু ও নদী তীর রক্ষা কাজের জন্য জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভায়াডাক্টের ওয়ার্কিং পাইলসহ পাইল ক্যাপ, অ্যাবাটমেন্ট ওয়ালও সম্পন্ন হয়েছে।
এক্সট্রা ডোজ প্রি-স্ট্রেসড বক্স গার্ডার ধরনের এ সেতুটির নকশা অনেকটা চট্টগ্রামের দ্বিতীয় কর্ণফুলী সেতুর আদলে করা হয়েছে। মূল সেতুটি বক্স গার্ডার ছাড়াও স্টে-ক্যাবলের ওপর স্থিতিশীল থাকবে। মূল সেতুর বিভিন্ন মাপের ৫৫টি টেস্ট পাইলের কাজ শেষ হয়েছে, দশটি পিয়ার, পাইল ও পিয়ার ক্যাপও সম্পূর্ণ হয়েছে। এছাড়া ১৬৭টি বক্স গার্ডার সেগমেন্টের ৯৭টি এবং ৬৩০ মিটার দৈর্ঘ্যরে বক্স গার্ডারের ৩৮৮ মিটারের নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের বরিশাল থেকে ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণে লেবুখালী সেতুটি নির্মিত হলে পায়রা সমুদ্র বন্দরের সাথে সারা দেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। এ সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে কুয়াকাটায় পৌঁছাতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৭ ঘণ্টা।

লেবুখালী সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবং সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রকৌশলী আহমদ শরিফ সজিব জানান, কোন বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ইনশাআল্লাহ আগামী জুনের মধ্যে যানবাহন পারাপারের জন্য লেবুখালী সেতু খুলে দেয়া হবে। সে লক্ষ্যে পুরোদমে চীনা প্রকৌশলীরা দিন রাত কাজ করছেন। গুণগত মান বজায় রেখেই সেতুটি নির্মিত হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বরগুনার আলো