শনিবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৪ ১৪২৬   ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
বিপিএলে প্রথম শিরোপার স্বাদ পেলো রাজশাহী আদালতে মজনুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেমে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা যাবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি শুরু প্রথম আলোর সম্পাদকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আমরা ক্রসফায়ারকে সাপোর্ট করতে পারি না : ওবায়দুল কাদের পোশাক রপ্তানিকে ছাড়িয়ে যাবে আইসিটি : জয় বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু কাল বিশ্ব ইজতেমার ২য় পর্বে ময়দানে আসতে শুরু করেছেন মুসল্লিরা অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথে বাংলাদেশ: সংসদে প্রধানমন্ত্রী রিফাত হত্যা : দুই আসামি জামিনে মুক্ত দুর্নীতি মামলা : বিএনপি প্রার্থী ইশরাকের বিচার শুরু কাদেরের বাইপাস পরবর্তী স্বাস্থ্যের উন্নতি, দেশে ফিরছেন রাতেই  এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ সঠিক পথে রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী আবুধাবি থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী সরকারের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে: আইআরআই ওমানের সুলতানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা আবুধাবি থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী পদ্মাসেতুতে বসলো ২১তম স্প্যান,দৃশ্যমান হলো ৩ হাজার ১৫০ মিটার রিট খারিজ, নির্ধারিত তারিখেই হচ্ছে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন
১৪৩

টোল নির্ধারণ করছে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

সরকারের সবশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুনে গাড়ি চলবে পদ্মা সেতু দিয়ে। নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ সেতুর নির্মাণ খরচ পরিশোধ করবে সেতু বিভাগ। সেতু দিয়ে চলাচল করা যানবাহন থেকে নেওয়া টোলের টাকা হবে নির্মাণ খরচ পরিশোধের উৎস। এ জন্য এখন পদ্মা সেতুর টোলের হার নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।

২০২১-২২ অর্থবছর থেকে অর্থ বিভাগকে নির্মাণ খরচের টাকা পরিশোধ শুরু করবে সেতু বিভাগ। ৩৫ বছরের মধ্যে তা পরিশোধের কথা রয়েছে। সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, পদ্মা সেতুর টাকা ফেরতের জন্য সম্প্রতি অর্থ বিভাগের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ঋণের টাকা চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ। কত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করবে তা চুক্তিতেই স্পষ্ট করা আছে।

জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালুর পর টোলের হার কী হবে এ নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। অর্থ বিভাগের সঙ্গে গত ২৯ আগস্ট সেতু কর্তৃপক্ষের চুক্তির পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সরকার। ১ শতাংশ সুদহারে সুদসহ ঋণ পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ। ঋণ পরিশোধের শিডিউল অনুযায়ী প্রতি অর্থবছরে প্রায় সর্বনিম্ন ৮২৬ কোটি থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। এই টাকা আদায় করা হবে টোলের মাধ্যমে। নির্মাণকাজ শেষে গাড়ি চলাচলের ১৫ বছর পর ১০ শতাংশ বা যৌক্তিক হারে টোল বাড়বে বলে অর্থ বিভাগের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পদ্মা সেতুর মূল কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৮৩ শতাংশ। সেতুটি চালু হলে জিডিপি ১ দশমিক ২ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুটি চালু হলে ১০ মিনিটেই পদ্মা নদী পাড়ি দেওয়া সম্ভব বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে ফেরির মাধ্যমে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ঘাট হয়ে পদ্মা পার হয় যানবাহন। এ জন্য সময় লাগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা। সেতু চালু হলে সময় বাঁচলেও বাড়বে খরচ। কারণ বর্তমানে চলাচলরত ফেরির দেড়গুণ হারে টোল নির্ধারণের প্রস্তাব যাচ্ছে অর্থ বিভাগে। অবশ্য টোলের হার আরও কম হওয়ার কথা। প্রথমে আলোচনা ছিল ৪৫ বছরে সেতুর নির্মাণ খরচ পরিশোধ করা হবে। পরে ১০ বছর কমিয়ে ৩৫ বছর ধরা হয়। বার্ষিক যান চলাচলের গড় হিসাব পর্যালোচনা শেষে টোলের হার চিন্তা করা হচ্ছে।

যানবাহনের শ্রেণিভেদে টোলের হার নির্ধারণ করা হবে। সূত্রমতে, পদ্মা সেতুতে একটি মোটরসাইকেল পাড়ি দিতে গুনতে হবে ১০৫ টাকা। আর কার, জিপের মতো হালকা যানবাহনের টোল হবে ৭৫০ টাকা। ছোট বাসের জন্য (২৯ আসন বা তার কম) ২০২৫ টাকা, বড় বাস (৩০ আসন বা তার বেশি) ২৩৭০ টাকা, ছোট ট্রাক (৫ টন বহন ক্ষমতা) ১৬২০ টাকা, মাঝারি ট্রাক (৫ থেকে ৮ টন) ২১০০ টাকা, বড় ট্রাক (৮ টনের বেশি বহন ক্ষমতা) ২৭৭৫ টাকা, মাইক্রোবাস ১২৯০ টাকা, ট্রেইলার ৪০০০ টাকা (৪ এক্সেল পর্যন্ত)। চার এক্সেলের বেশি ট্রেইলার হলে এক্সেলপ্রতি ১৫০০ টাকা অতিরিক্ত চার্জ ধরা হবে।

বর্তমানে দেশের বৃহৎ সেতু যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুটি। বিদেশি ঋণে ১৯৯৮ সালে চালু হওয়া বঙ্গবন্ধু সেতুর দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার। পদ্মা সেতুর চেয়ে দৈর্ঘ্যে কম বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোলের হার হচ্ছেÑ মোটরসাইকেল ৪০ টাকা, কার/হালকা বাহন ৫০০ টাকা, ছোট বাস ৬৫০ টাকা, বড় বাস ৯০০ টাকা, ছোট ট্রাক ৮৫০ টাকা, মাঝারি ট্রাক ১১০০ টাকা এবং বড় ট্রাক ১৪০০ টাকা। এ সেতুর কর্তৃপক্ষ সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ঋণের আসল ও সুদসহ প্রতিবছর ৪ কিস্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে পরিশোধ করছে। প্রতি অর্থবছরে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারকে পরিশোধ করে আসছে। আগামী ২০৩৩-৩৪ অর্থবছরে এই ঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ পরিশোধের কথা রয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর