• সোমবার   ০৬ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২২ ১৪২৭

  • || ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
ভিসার মেয়াদ বাড়ালো সৌদি আরব: পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ২৭৩৮, মৃত্যু ৫৫ কাউকেই ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে না: বিদ্যুৎ সচিব আজ থেকে অধস্তন আদালতে আত্মসমর্পণ করা যাবে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ২৯ মৃত্যু, শনাক্ত ৩২৮৮ বেতন-ভাতা পরিশোধে মালিকরা সহমর্মিতার নজির দেখাবেন : কাদের পাটকল শ্রমিকরা দুই ধাপে সব পাওনা পাবে: পাটমন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ৪০১৯, মৃত্যু ৩৮ চালের বাজার অস্থিতিশীল করলে কঠোর ব্যবস্থা : খাদ্যমন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ৩৭৭৫, মৃত্যু ৪১ যত্রতত্র পশুরহাটের অনুমতি দেওয়া যাবে না- ওবায়দুল কাদের জঙ্গিবাদ দমনে সফলতা ধরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছি: র‌্যাব ডিজি ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৬৪ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৬৮৩ শিগগিরই আরও ৪ হাজার নার্স নিয়োগ: প্রধানমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ মৃত্যু, শনাক্ত ৪০১৪ অর্ধশত যাত্রী নিয়ে বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি, উদ্ধার কাজ চলছে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৮০৯ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন পাচ্ছে ৪ বিদেশি এয়ারলাইন্স অপরাধী ক্ষমতাবান হলেও ছাড় দেয়া হবে না: কাদের
২৬৬

তালতলিতে পিটিয়ে মারা বিরল প্রজাতির নেকড়েটি ‘ইন্ডিয়ান গ্রে উলফ’

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০১৯  

পিটিয়ে মেরে ফেলা বিরল প্রজাতির ধূসর নেকড়েটি ঘূর্ণিঝড় ফণীর সময় ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢুকেছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, দলছুট নেকড়েটি খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে এসে গৃহস্থবাড়ি থেকে গবাদিপশু টেনে নিয়ে খেয়ে ফেলছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ইতিমধ্যে মৃত নেকড়েটির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে।

৪ জুন বরগুনার তালতলি উপজেলার বেহেলা এলাকায় নেকড়েটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন গ্রামবাসী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেকড়েটি ভারতের বিরল প্রজাতির ধূসর নেকড়ে (ইন্ডিয়ান গ্রে উলফ)। প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) তথ্য অনুসারে, ধূসর প্রজাতির নেকড়ে বাংলাদেশে সবশেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৪৯ সালে।

গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, প্রায়ই ওই নেকড়ে গ্রামে ঢুকে তাদের গরু-ছাগল খেয়ে ফেলছিল। নিজেদের গবাদিপশু রক্ষা করতেই নেকড়েটিকে মারতে তাঁরা বাধ্য হয়েছেন। তাঁরা বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণীর পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে রাতে গরু–ছাগল খেয়ে ফেলছিল নেকড়েটি। প্রথমে বাঘ হানা দিচ্ছে ভেবে ভয়ে রাতে ঘর থেকে লোকজন প্রয়োজন ছাড়া বের হতেন না। পরে ৪ জুন সকালে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে খালে ফেলে প্রাণীটিকে মেরে ফেলেন। এই নেকড়েই তাঁদের গবাদিপশু খেয়ে ফেলেছে বলে তাঁদের ধারণা।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ১৯৪০ সালে নেকড়ে–জাতীয় প্রাণী বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই নেকড়ে ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে ভারতের বন থেকে বাংলাদেশের উপকূল ভেসে আসতে পারে।

এ বিষয় বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণীর পর থেকেই এই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের গোয়ালঘর থেকে গরু-ছাগল কোনো একটি প্রাণী খেয়ে ফেলছে বলে অভিযোগ ওঠে। ৪ জুন সকালে স্থানীয় লোকজন প্রাণীটি পিটিয়ে মেরে ফেলেন। এরপর থেকে আর কোনো গরু–ছাগল ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, এ ধরনের নেকড়ে–জাতীয় প্রাণী ভারতের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম ধূসর নেকড়েটির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তিনি জানান, এই অঞ্চলে আরও ধূসর নেকড়ে থাকার বিষয়ে অনুসন্ধান করছে তাঁর দল। তিনি বলেন, এটা খুব দুঃখজনক যে নেকড়েটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। ঘটনাটি বিষয়ে আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এই এলাকায় নেকড়ে দেখা যায় না। এটি বিরল প্রজাতির ধূসর নেকড়ে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ধারণা করা যায়, নেকড়েটি ভারত থেকে এসেছে। ফণীর প্রভাবেও এটি দলছুট হয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে পারে। খাবারের সন্ধানেই হয়তো সেটি লোকালয়ে ঢুকেছিল।

এদিকে বিরল প্রজাতির নেকড়েটিকে মেরে ফেলার ঘটনাটি নিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে গত রোববার সংবাদ প্রকাশ করে ভারতের এনডিটিভি অনলাইন। এতে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুর দিকে নেকড়েটিকে মেরে ফেলেন বাংলাদেশের কৃষকেরা। তবে বিশেষজ্ঞদের কাছে মৃত নেকড়ের ছবি পাঠানোর পর নেকড়েটি ধূসর প্রজাতির বলে শনাক্ত হয়।

ধূসর নেকড়ের মতোই বাংলাদেশে অবলুপ্তির পথে ডোরাকাটা হায়না, বারশিঙ্গা (সোয়াম্প ডিয়ার) ও কৃষ্ণসার হরিণ।

ভারতের বন্য প্রাণী ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা ওয়াই ভি ঝালা এএফপিকে বলেছেন, ‘ছবি দেখার পর আমরা নিশ্চিত হয়েছি, এটা ভারতীয় ধূসর নেকড়ে। ভারতের তিন হাজার প্রাণীর মধ্যে বেশ কিছু বন্দী অবস্থায় আছে। ১৯৪০ সালের পর থেকে এরা তাদের আবাস বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।’

বরগুনার আলো
উপজেলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর