• বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২৫ ১৪২৬

  • || ১৫ শা'বান ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
নিয়োগ পেলেন নতুন আইজিপি বেনজীর, র‌্যাব মহাপরিচালক মামুন মাজেদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি যারা সাহায্য চাইতে পারবে না তাদের তালিকা করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী দেশে করোনায় আরও ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত বেড়ে ১৬৪ কারাগারে বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি ক্যাপ্টেন মাজেদ বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন মাজেদ আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যা: আত্মস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন মাজেদ গ্রেফতার চিকিৎসকরা কেন চিকিৎসা দেবে না, এটা খুব দুঃখজনক : প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন জেলখাটা আসামিদের মুক্তির নীতিমালা করার নির্দেশ রমজানে সরকারি অফিস ৯টা থেকে সাড়ে ৩টা প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে: অর্থমন্ত্রী করোনা: ৭৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা বেসরকারি হাসপাতাল চিকিৎসা না দিলেই ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রতি উপজেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে সমালোচনা করছে বিএনপি : কাদের দেশে আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৬ জন সুস্থ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেনাবাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে সরকার বিবেচনা করবে: সেনাপ্রধান করোনায় খাদ্য ঘাটতি হবে না : কৃষিমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখ‌ছেন প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে ৬৪ জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কনফারেন্স
৯০

তালতলীতে রাখাইন মাতৃভাষা কেন্দ্র উদ্বোধন

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে, বরগুনার তালতলী উপজেলার পিছিয়ে পরা এ অঞ্চলের আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের। বিলুপ্ত প্রায় মাতৃভাষা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ।

২১শে ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫ টায় তালতলী ছাতনপাড়া বৌদ্ধ বিহার মাঠে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাখাইন মাতৃভাষা কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়। এই প্রথম ভাষা দিবসে নিজেদের ভাষায় তারা তাদের সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান করে আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায় ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজবি-উল-কবির, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ সেলিম মিঞা, তালতলী সরকারি কলেজের অধ্যাপক রাবিন্দ্র নাথ,তালতলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র, ছাতন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক,মোঃ আবু সিদ্দিক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মু. তৌফিকুজ্জামান তনু, সহ সভাপতি কামরুল আহসান, দুলি বেগম ও তৈফিক এলিচ প্রমুখ।

এ সময়ে বক্তারা বলেন। অনেক ভাষার অনেক শব্দ সংরক্ষনের অভাবে হারিয়ে গেছে। যা কখনো হয়ত উদ্ধার করা যাবেনা। ভাষার জন্য বুকের রক্ত দেয়া কোন রাষ্ট্রর জন্য সুখককর বিষয় নয় এটা অনেকটা কষ্টের। তবে দেরীতে হলেও এ জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

জন্মের পর বাবা-মা ও স্বজনদের মুখে শুনে শুনে রাখাইন ভাষায় কথা বলতে শিখতো শিশুরা । বাংলায় লেখাপড়া শিখলেও নিজস্ব সংস্কৃতি শেখার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ না থাকায় মাতৃভাষায় কথা বলতে পারলেও লিখতে পারতোনা। এখন এই স্কুলের মাধ্যমেই তারা তাদের মাতৃভাষায় লিখতে ও পড়তে পারবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে দেশে বসবাসকারী সকল জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রয়োজন। রাখাইনদের নিজস্ব ভাষা শিক্ষার উদ্যোগটি এখন সময়োপযোগীে।

উল্লেখ্য। মিয়ানমারের উপভাষা রাখাইন ভাষায় কথা বলতে অভ্যস্ত এ জাতিগোষ্ঠীর জন্য শুরু থেকেই মাতৃভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় বিকল্প হিসেবে বাংলা ভাষাতেই লেখাপড়া করতে হতো। ফলে মাতৃভাষায় কথা বলতে পারলেও তারা নিজেদের ভাষা পড়তে এবং লিখতে পাড়েনা ।
ক্ষয়িষ্ণু এ সম্প্রদায়ের ৩০৯ জন শিশু কিশোররা
বর্তমানে বিদ্যালয়গামী। মায়ের ভাষা যেভাবে মুখে বলছে সেটা পড়তে ও লিখতে পারতোনা । ফলে শিশু শিক্ষার্থীসহ সকলের মাঝে ভাষাগত চর্চা টিকিয়ে রাখতে অস্তিত্ব সংকটে পরেছিল
রাখাইনরা। যথাযথ চর্চা, মাতৃভাষায় শিক্ষা সংকট এবং সংরক্ষনের অভাবে সংকটের মুখে পরেছিল তালতলীর ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠী রাখাইন সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা।

ক্ষয়িষ্ণু এ জাতিসত্রার নতুন প্রজন্ম মাতৃভাষা মুখে ব্যবহার করলেও লিখতে বা পড়তে পরতেনা। যথাযথ পৃষ্টপোষকতা না পেয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম’র জন্য মাতৃভাষা সংরক্ষন ও প্রচলন নিয়ে শংকিত ছিল এ জাতিগোষ্ঠী।

ভাগ্য বিতারিত হয়ে ১৭৮২ সালে মায়ানমারের অরাকান প্রদেশ থেকে বরগুনার জনমানবহীন, জংগলাকীর্ন তালতলীতে এসে বসতি স্থাপন করে নৃ-জনগোষ্ঠী রাখাইন সম্প্রদায়। পরে বিভিন্ন দলে বিভিক্ত হয়ে বরগুনার তালতলী পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়ার উপকূলীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গড়ে তোলে বসতি। রাজকীয় জীবন ধারায় অভ্যাস্ত এ জাতিগোষ্ঠী হিংস্র জীবজন্তু পরিপূর্ণ জঙ্গল পরিস্কার করে গড়ে তোলে আবাদি জমি।

ধীরে ধীরে এদের পাশেই গড়ে ওঠে বাঙালি বসতি। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারায়, ভাষাগত দুরত্বের কারনে দিন দিন পিছিয়ে পড়ে রাষ্ট্র সমাজ ব্যবস্থা থেকে। হয়ে পড়ে অনাগ্রসর জাতি। ভূমি বিরোধসহ নানা ঝামেলায় জড়িয়ে এ জাতিগোষ্ঠীর অনেকে।
তালতলীতে প্রায় ১২টি পাড়ার ৬০০টির মত পরিবার বসবাস করে।

বরগুনার আলো
উপজেলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর