মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
নৌ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে ভারত: রীভা গাঙ্গুলি নাসের আল-খেলাইফি: জেলে থেকে ফরাসি ফুটবলের ‘সম্রাট’ এজেন্টদের টাকা দিয়ে মালয়েশিয়া গেলে পুনঃনিয়োগের অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ করলে ক্ষমা করা হবে না: কাদের পাথরঘাটায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ টাকা বিতরণ র‌্যাব-৮ এর অভিযানে ১১,৫০০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধার ট্রেন দুর্ঘটনা : তূর্ণা নিশীথার মাস্টার-সহকারী মাস্টার বরখাস্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিতে প্রতারণা : রাজস্ব কর্মকর্তার কারাদণ্ড ঘূর্ণিঝড় বুলবুল : কৃষি ফসলের ক্ষতি ২৬৩ কোটি টাকা চার দিনের সফরে আজ নেপাল গেলেন রাষ্ট্রপতি ট্রেন দুর্ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক শুধু কৃষিতে নির্ভর না করে শিল্প উৎপাদন বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী রেল দুর্ঘটনা: সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়ার নির্দেশ ৬ ঘণ্টা পর চালু হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারকে ১ লাখ,আহতদের ১০ হাজার দেয়ার ঘোষণা নুসরাত হত্যা:ফাঁসির আসামিদের পাঠানো হলো কুমিল্লা কারাগারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দুর্ঘটনাস্থলে রেলমন্ত্রী দুই ট্রাভেল এজেন্সিতে র‌্যাবের অভিযান, ১০৫০ পাসপোর্ট জব্দ কসবায় ট্রেন সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর
২১৭

দেখি বাংলার রূপঃ

দূর্গাসাগর-এক দীঘি অপরুপা

আকাশলীনা

প্রকাশিত: ৫ ডিসেম্বর ২০১৮  

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের শহর খুলনায় আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা হলেও বরিশালে কখনো আসা হয়নি। কিছুটা পড়াশোনা, কিছুটা গল্পগুজব শুনে এ শহর সম্পর্কে ভাসা ভাসা যে ধারণা আমার ছিল তা মুগ্ধ হওয়ার মত নয়। বরং এক ধরণের ভীতিই কাজ করতো মনে। তাই যখন বছর দুয়েক আগে চাকরীর বদলী জনিত কারণে এখানে আসার সুযোগ মিললো রীতিমত মন খারাপ ছিল। চাকচিক্যময় চেনা রাজধানী শহর ছেড়ে সদূর বরিশাল কিভাবে থাকবো ! মন টিকবে'ত !

যথাসময়ে এলাম এবং বলতে দ্বিধা নেই এখন আমি রীতিমত এ শহরের প্রেমে পড়েছি। না ভুল হলো, শহর নয় বরিশালের প্রকৃতির প্রেমে পড়েছি। বরিশালের অনন্য সাধারণ প্রকৃতি – আহা, অপূর্বের থেকেও অপূর্ব । এখানের সবুজ-সতেজ ধানক্ষেত, বিরাট বিশাল প্রমত্তা সব নদ-নদী, মোটা সোটা প্রাচীন বৃক্ষরাজী, শহরময় ছড়োনো টলটলে পুকুর-দীঘি মুগ্ধতার মায়া কাজল পরিয়েছে আমার দু'চোখে। তবে আমার প্রতিদিনকার আটপৌরে জীবনের নানা কিছুর মধ্যে মন ছুঁয়ে যায় এমন একটি জায়গার কথাই আজকে বরং শেয়ার করি আপনাদের সঙ্গে। দূর্গাসাগর দীঘি। কি নামটি শুনেছেন নিশ্চয়ই !

বরিশালের অন্যতম সুন্দর একটি দর্শনীয় স্পট, বৃহৎ এ দীঘিটি শহর থেকে ১২ কিঃমিঃ দূরে বাবুগঞ্জের মাধবপাশা ইউনিয়নে বরিশাল ভায়া বানারীপাড়া/নেছারাবাদ রোডের পাশে অবস্থিত। দীঘিটির মোট আয়তন ৪৫.৪২ একর। এর মধ্যে জলভাগ ২৭.৩৮ একর এবং চারপাশে পাড় এলাকা ১৮.০৪ একর। জলভাগের পাড় ঘেষে ১.৬ কিঃমিঃ দীর্ঘ সুন্দর একটি ওয়াকিং ট্রাক। 

১৭৮০ খৃষ্টাব্দে তৎকালীন চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের পঞ্চদশ রাজা শিবনারায়ণ প্রজাদের পানির কষ্ট নিরসনের জন্যে এ দীঘিটি খনন করেন। তিনি তাঁর প্রিয়তম রাণী শ্রীমতি দূর্গা দেবীর প্রতি ভালবাসার নিদর্শন স্বরুপ দীঘিটির নামকরণ করেন দূর্গাসাগর। তৎকালিন সময়ে সুবিশাল এ দীঘিটি জনকল্যাণে অপরিহার্য ভূমিকা রাখলেও পরবর্তীতে দীর্ঘ সময়ের অযত্ন-অবহেলায় এটি ভরাট হতে বসেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৪ সালে মাননীয় মন্ত্রী শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবতের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দীঘিটি আবার পূণঃ খনিত হয়।

বর্তমানে দীঘিটি উচুঁ প্রাচীর পরিবেষ্টিত সংরক্ষিত এলাকা। সপ্তাহের সব দিনই এখানে যেতে পারেন। মাত্র ১০ টাকা মূল্যে মিলবে প্রবেশাধিকার (টিকেট)। শহর থেকে অটো বা মাহেন্দ নিয়ে যাওয়া যাবে সহজেই। আবার নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে বানারীপাড়া/স্বরুপকাঠীর বাসে মাত্র ২০/২৫ টাকায় পৌঁছে যেতে পারবেন এখানে। 

দীঘির চারপাশে নানা প্রজাতির অসংখ্য গাছপালা। পাড় ঘেসে ওয়াকিং ট্রাক। ৩ দিকে ৩টি ঘাটলা। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে তৈরী হওয়া সুদৃশ্য সাদা টাইলস বসানো বৃহৎ পরিসরের ঘাটটি অত্যন্ত সুন্দর। দীঘির ঠিক মাঝখানে ছোট্র একট দ্বীপ। দ্বীপেও আছে কিছু গাছ-পালা। শেষ বিকেলে গাছের দীর্ঘ ছায়া পড়ে দীঘির টলটলে স্বচ্ছ পানিতে। আর মাথার উপরের অপূর্ব আকাশ তার অবর্ণনীয় সৌন্দর্য্য নিয়ে যেন খেলা করে বেড়ায় পুরো দীঘিময়। মৃদু মৃন্দু বাতাসে দীঘির বুকে  হঠাৎ হঠাৎ কাঁপন তোলে ঢেউয়ের দীর্ঘ সারি। আর বছরের এ সময়টায় (শীত) সে ঢেউ আরো গতিময় হয়ে ওঠে অতিথী পাখির কলরোলে। বালিহাঁস, সরাইল সহ শত সহস্র অতিথী পাখির আনাগোনায় মুখর, প্রাণচঞ্চল এখন সেখানের পরিবেশ। এখন ঘুরতে গেলে তাই বোনাস হিসাবে দেখা মিলবে অতিথী পাখিদেরও। তাছাড়া ছোট্ট পরিসরে আছে কিছু সুদর্শন চিত্রল হরিণ। খাঁচার পাশে গিয়ে একেবারে কাছে থেকে দেখে আসতে পারবেন তাদের। ২/১টি পাতা বা কলা হাতে ডাক দিলে তারা একেবারে ছুটে এসে আপনার হাত থেকে খেয়ে যাবে।  

ও, আর একটা কথা বলা হয়নি। মাছ ধরতে ভালবাসেন যারা তাদের জন্যে এখানে আছে বড়শী ফেলে মাছ ধরার দারুণ সুযোগ। ৪০০০-৪৫০০ টাকার টিকিটের বিনিময়ে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার (৩৬ ঘন্টার জন্যে) মিলবে মাছ ধরার এ সুযোগ।

শহরের ব্যস্ত জণারণ্যে পরিশ্রান্ত মানুষ শীতের এই মনোরম আবহাওয়ায় বুক ভরে অক্সিজেন নিতে, মনকে সবুজ সতেজতায় ভরে তুলতে তাই ১টি বেলা স্বপরিবার বা সবান্ধব কাটিয়ে আসতে পারেন দূর্গাসাগর দীঘির মনোরম এ পরিবেশে।

এই বিভাগের আরো খবর