• বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২২ ১৪২৮

  • || ২২ রমজান ১৪৪২

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
করোনা প্রাণ নিল আরও ৫০ জনের, নতুন শনাক্ত ১৭৪২ ধান-চাল ক্রয়ের জন্য অত্যন্ত যৌক্তিক দাম নির্ধারণ: কৃষিমন্ত্রী শপিংমল খোলা রাত ৮টা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডবের ঘটনায় আরো ১০ জন গ্রেফতার করোনায় একদিনে আরও ৬১ জনের মৃত্যু জুনায়েদ আল হাবিব আরও ৪ দিনের রিমান্ডে নাশকতার মামলায় ফের ৫ দিনের রিমান্ডে মামুনুল হক জামায়াত-শিবিরের ৮ নেতাকর্মী আটক করোনায় প্রাণ গেল আরও ৬৫ জনের, শনাক্ত ১৭৩৯ ‘লকডাউন’ বাড়লো ১৬ মে পর্যন্ত অর্থবিত্তে বড় হলেও সত্য সংবাদ পরিবেশন হওয়া উচিত: তথ্যমন্ত্রী জনস্বার্থে মামলার নামে জনমনে ভীতি ছড়াবেন না: হাইকোর্ট মাদারীপুরে নৌ দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ২৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে মৃত ৬৯ যত টাকাই লাগুক, আমরা আরো ভ্যাকসিন নিয়ে আসবো: প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর স্ট্রাকচারের কাজ শেষ হয়েছে : কাদের সব কোর্ট খুললে সংক্রমণ বাড়বে: প্রধান বিচারপতি এবার মামুনুলের ২৪ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ খুবই মারাত্মক: প্রধানমন্ত্রী সব সময় দুর্গত মানুষের পাশে থাকে আওয়ামী লীগ: প্রধানমন্ত্রী

ধূসর দিনগুলোতে ফিলিপ-এলিজাবেথের বিয়ে ছিল রংয়ের ঝলকানি

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০২১  

রাজকীয় এক প্রেমের গল্পের অবসান ঘটল। ইতি ঘটল দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের। বলছিলাম ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং তার স্বামী ডিউক অব এডিনবার্গ প্রিন্স ফিলিপের কথা।

শুক্রবার ৯৯ বছর বয়সে প্রিন্স ফিলিপ মৃত্যুবরণ করেন। ষাট বছরেরও বেশি সময় ব্রিটেনের রানির পার্শ্ব-সহচর ও একান্ত সমর্থক প্রিন্স ফিলিপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ রাজ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তিতে পরিণত হন।

৭৩ বছরের দাম্পত্য জীবন পার করেছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং তার স্বামী ফিলিপ। প্রিন্স ফিলিপ যখন ডার্টমাথে ব্রিটানিয়া রয়্যাল নেভাল কলেজের ক্যাডেট, তখন ওই কলেজ পরিদর্শন করেন রাজা ষষ্ঠ জর্জ এবং রানি এলিজাবেথ। সঙ্গে ছিলেন তাদের দুই কিশোরী কন্যা- প্রিন্সেস এলিজাবেথ ও প্রিন্সেস মার্গারেট।

jagonews24

সেটা ছিল ১৯৩৯ সাল। ওই সফরে দুই কিশোরী প্রিন্সেসের সাথী হয়ে তাদের সঙ্গ দেন প্রিন্স ফিলিপ। তরুণ প্রিন্স ওই সফরে ১৩ বছরের প্রিন্সেস এলিজাবেথের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিলেন।

১৯৪২ সালের অক্টোবরের মধ্যে প্রিন্স ফিলিপ হয়ে ওঠেন রয়্যাল নেভির তরুণতম ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট। সে সময় তারা দু’জন প্রচুর চিঠি চালাচালি করতেন। বেশ কয়েকবার রাজপরিবারের সঙ্গে থাকার আমন্ত্রণও পেয়েছেন তিনি।

এরকমই একটি সফরের পর ১৯৪৩ সালের বড়দিনের সময় এলিজাবেথ তার প্রসাধনের টেবিলে প্রিন্সের একটি ছবি সাজিয়ে রাখেন। তাদের সম্পর্ক গভীর হয়ে ওঠে যুদ্ধ পরবর্তী দিনগুলোতে। কিন্তু তাদের এই সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিলেন রাজপরিবারের কেউ কেউ। কারণ তারা মনে করতেন ফিলিপের আচরণ ‘রুক্ষ্ম ও খুব একটা ভদ্র’ নয়।

কিন্তু প্রিন্সেস এলিজাবেথ বেশ ভালোভাবেই ফিলিপের প্রেমে পড়েছিলেন। ১৯৪৬ সালের গ্রীষ্মে ফিলিপ রাজার কাছে গিয়ে তার মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন এবং প্রথম সাক্ষাতের আট বছর পর তারা বিয়ে করেন।

বিয়ের আগে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিতে হয়েছিল ফিলিপকে। গ্রিক পদবী বাদ দিয়ে তিনি তার মায়ের ইংরেজ পদবী মাউন্টব্যাটেন গ্রহণ করেছিলেন। বিয়ের অনুষ্ঠানের আগের দিন রাজা ষষ্ঠ জর্জ তাকে ‘হিজ রয়্যাল হাইনেস’ উপাধি দেন। আর বিয়ের দিন সকালে তাকে ‘ডিউক অব এডেনবার্গ’ করা হয়।

ওয়েস্টমিনস্টার গির্জায় ১৯৪৭ সালের ২০ নভেম্বর তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সে সময় উইনস্টন চার্চিল বলেছিলেন যুদ্ধ পরবর্তী ব্রিটেনের ধূসর দিনগুলোতে ওই বিয়ে ছিল রংয়ের ঝলকানি। তাদের বিবাহিত জীবনের শুরুটা ছিল খুবই আনন্দঘন।

এক সময় রয়্যাল নেভিতেও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে তার ক্যারিয়ার। বিয়ের পর ফিলিপের পোস্টিং হয় মাল্টায়। কিন্তু এই জীবন খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। তাদের প্রথম সন্তান প্রিন্স চার্লসের জন্ম হয় বাকিংহাম প্রাসাদে ১৯৪৮ সালে। তার দু’বছর পর ১৯৫০ সালে প্রিন্সেস অ্যানের জন্ম হয়।

১৯৫০ সালে নৌবাহিনীতে তরুণ ফিলিপের ক্যারিয়ার ছিল বেশ তুঙ্গে। সেসময় রাজা ষষ্ঠ জর্জের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকায় তার কন্যাকে আরও বেশি করে রাজার দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয় এবং ফিলিপের তখন স্ত্রী এলিজাবেথের পাশে থাকার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

১৯৫১ সালের জুলাই মাসে রয়্যাল নেভি ছেড়ে দেন প্রিন্স ফিলিপ। ক্ষোভ পুষে রাখার মানুষ ছিলেন না তিনি। তবে পরবর্তী জীবনে তাকে বলতে শোনা গিয়েছিল নেভিতে তার ক্যারিয়ার আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ না পাওয়া তাকে দুঃখ দিয়েছিল।

১৯৫২ সালে রাজ দম্পতি কমনওয়েলথ সফরে যান। ওই সফরে প্রথমে যাওয়ার কথা ছিল তৎকালীন রাজা এবং রানির। ওই সফরে ফেব্রুয়ারি মাসে তারা যখন কেনিয়ায় শিকারীদের একটি বাসস্থানে ছিলেন, তখন খবর আসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজা ষষ্ঠ জর্জ মারা গেছেন।

jagonews24

মৃত্যুর খবর ফিলিপই পৌঁছে দেন এলিজাবেথের কাছে। প্রিন্স ফিলিপের একজন বন্ধু পরে বলেছিলেন, এই খবর শুনে ফিলিপের মনে হয়েছিল ‘তার মাথায় অর্ধেক পৃথিবী ভেঙে পড়েছে।’

রানির অভিষেকের সময় রাজ পরিবার থেকে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় যে রানির পর সব কিছুতেই সবার আগে থাকবে ফিলিপের স্থান কিন্তু সংবিধানে তার কোনো স্থান থাকবে না।

রাজ পরিবারকে আধুনিক করে তোলার এবং জাঁকজমক সঙ্কুচিত করার অনেক চিন্তাভাবনা ছিল ডিউকের। কিন্তু প্রাসাদের নিয়মনীতির রক্ষক যারা ছিলেন তাদের অব্যাহত বিরোধিতায় তিনি ক্রমশ উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন।

জীবন সঙ্গী হিসেবে রানিকে তার কাজে সহযোগিতা করলেও বিশেষ কিছু কাজের ব্যাপারে প্রিন্স ফিলিপের বিশেষ আগ্রহ ছিল। পরিবেশ ও তরুণদের জন্যে অনেক কাজ করেছেন তিনি। স্পষ্টভাষী হিসেবেও পরিচিতি ছিল প্রিন্স ফিলিপের।

এই দীর্ঘ সময় ধরে রানি ও ব্রিটিশ রাজ পরিবারের প্রতি একনিষ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য তিনি যথেষ্ট শ্রদ্ধাও অর্জন করেন।

jagonews24

রাজ পরিবারের নানা আনন্দ উৎসব আর কঠিন চ্যালেঞ্জের সময় তিনি সবসময় ছিলেন রানির পাশে। নিজের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে তিনি একবার বলেছিলেন, তার কাছে যেটা সবচেয়ে ভাল মনে হয়েছে তিনি সেই কাজটাই করেছেন।

তিনি বলেন, কেউ কেউ মনে করেন ঠিক আছে, আবার কেউ ভাবেন ঠিক হয়নি- তো আপনি কি করতে পারেন! আমি যেভাবে কাজ করি সেটাতো আমি হঠাৎ করে বদলাতে পারি না। এটা আমার স্টাইলেরই একটা অংশ।

ডিউক অফ এডিনবার্গের জন্ম গ্রিসের রাজ পরিবারে ১৯২১ সালের ১০ জুন। গ্র্রিসের কর্ফু দ্বীপ যেখানে তার জন্ম, সেখানে তার জন্ম-সনদে অবশ্য তারিখ নথিভুক্ত আছে ২৮ মে ১৯২১। এর কারণ গ্রিস তখনও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার গ্রহণ করেনি।

তার বাবা ছিলেন গ্রিসের প্রিন্স অ্যান্ড্রু আর মা ব্যাটেনবার্গের প্রিন্সেস অ্যালিস। সন্তানদের মধ্যে তিনিই ছিলেন একমাত্র ছেলে। খুবই আদরে কেটেছে তার শিশুকাল।

তার জন্মের এক বছর পর ১৯২২ সালে এক অভ্যুত্থানের পর বিপ্লবী এক আদালতের রায়ে প্রিন্স ফিলিপের পিতার পরিবারকে গ্রিসের ওই দ্বীপ থেকে নির্বাসনে পাঠানো হয়। পরে একটি জাহাজে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ফ্রান্সে।

সেখানে লেখাপড়া শুরু করার পর সাত বছর বয়সে তিনি ইংল্যান্ডে মাউন্টব্যাটেন পরিবারে তার আত্মীয়স্বজনদের কাছে চলে আসেন এবং এরপর তার স্কুল জীবন কাটে ইংল্যান্ডে।

এসময় তার মা মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে রাখা হয় এবং তখন কিশোর ফিলিপকে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হতো না। এরপর প্রিন্স ফিলিপ তার লেখাপড়া শেষ করেন জার্মানি ও স্কটল্যান্ডে।

রানির জীবন সঙ্গী হলেও ফিলিপের কোনো সাংবিধানিক দায়িত্ব ছিল না। কিন্তু রাজ পরিবারের এতো ঘনিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ তিনি ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। রানির আদেশেই ব্রিটিশ রাজতন্ত্রে একসময় তিনি হয়ে ওঠেন দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

বরগুনার আলো