• বুধবার   ২০ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ৭ ১৪২৭

  • || ০৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে শুভ সূচনা টাইগারদের পৌর নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে গেলেই কঠোর ব্যবস্থা: কাদের রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দিতে ভাসানচরে নতুন থানা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমে ঢাকায় টিকা কর্মসূচি শুরু হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী চলতি অর্থবছরে ১২ শিল্পনগরী স্থাপন হচ্ছে: শিল্পমন্ত্রী বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে কোনো আপস নয়: কাদের মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষা এপ্রিলে, বাড়ছে ১১শ’ আসন করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১৬, শনাক্ত ৬৯৭ কাউন্সিলর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে: কাদের হাতিয়ায় বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও: ৫ জন গ্রেফতার ২৬ জানুয়ারির মধ্যে সেরামের টিকা আসবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর পরিবার নিয়ে দেখা যায় এমন সিনেমা তৈরি করুন: প্রধানমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২১, শনাক্ত ৫৭৮ ২২ সালের মধ্যে ঢাকা-কক্সবাজার রেল চালু হবে: রেলমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১৬ জনের মৃত্যু ৬২ সহযোগীর মাধ্যমে অর্থপাচার, পিকে হালদারের হাজার কোটি টাকা ফ্রিজ কোনো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হবে না : উশৈসিং বাংলাদেশে বিশ্বের সেরা মানের পাট উৎপাদিত হয়: পাটমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৯০

পদ্মা সেতুর ২২তম স্প্যান বসছে এ মাসেই

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২০  

পদ্মা সেতুর ২২তম স্প্যান (ট্রাস) বসতে যাচ্ছে মাওয়া প্রান্তে। ৫ ও ৬ নম্বর খুঁটিতে এই ‘১ই’ নম্বর স্প্যান বসানোর কথা রয়েছে আগামী ২৪ থেকে ২৬ জানুয়ারি। এরই মধ্য দিয়ে সেতুর ৩৩০০ মিটার ট্রাস স্থাপন সম্পন্ন হচ্ছে। এর আগে ২০ জানুয়ারি এই স্প্যান বসানোর কথা ছিল। এদিকে বুধবার পদ্মা সেতুর আরও দুটি স্প্যান চীন থেকে মাওয়ায় এসে পৌঁছেছে। এই নিয়ে মাওয়ায় আসা স্প্যানের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৬। আরও তিনটি স্প্যান মাওয়ার উদ্দেশে সমুদ্র পথে রয়েছে। চীনে রয়েছে মাত্র দুটি স্প্যান। এই দুটি স্প্যানও তৈরি শেষ। এখন চলছে পেইন্টিংয়ের কাজ। শীঘ্রই এই দুই স্প্যানও মাওয়া রওনা হবে।

এর পর ২৩তম স্প্যান ‘৬এ’ বসছে জাজিরা প্রান্তের ৩১ ও ৩২ নম্বর খুঁটিতে। ৩০ জানুয়ারির এটি বসানোর কর্মসূচী থাকলেও ২/৪ দিন বিলম্বও হতে পারে।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, গত ১৪ জানুয়ারি মূল সেতুর ২১তম স্প্যান জাজিরা প্রান্তের ৩২ এবং ৩৩ নম্বর পিয়ারের (খুঁটি) ওপর স্থাপন হওয়ায় সেতুর ৩১৫০ মিটার ট্রাস স্থাপিত হলো এতে মূল সেতুর ৬১৫০ মিটারের অর্ধেকের বেশি ট্রাস বসানো শেষ হলো। তিনি বলেন, সেতুর মোট ৪২ পিলারের মধ্যে ৩৬ পিলারের কাজ শেষ হয়েছে এবং অবশিষ্ট ছয়টি পিলারগুলোর কাজ চলমান রয়েছে। এই ছয় পিলারের কাজ আগামী এপ্রিলের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা যায়। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সব (৪১টি) স্প্যান বসানোর টার্গেট রয়েছে।

পদ্মা মূল সেতু ৬.১৫ কিলোমিটার হলেও দুই প্রান্তে সংযোগ (ভায়াডাক্ট) সেতু রয়েছে আরও প্রায় তিন কিলোমিটার। এই সংযোগ সেতুর মাওয়া প্রান্তে রয়েছে ৪৪ খুঁটি এবং জাজিরা প্রান্তে ৪৬ খুঁটি। দু’পারের ৯০ খুঁটিই সম্পন্ন হয়ে গেছে। ১০৯টি সুপার টি উঠে গেছে। দুইপার মিলে আরও ৩শ’ সুপার টি বাকি রয়েছে। এখন হরদম চলছে এগুলোও বাসানোর কাজ।

স্থায়ীভাবে সেতুতে ২১ স্প্যান বসেছে। তবে অস্থায়ীভাবে আরও একটি অর্থাৎ সেতুতে এখন ২২ স্প্যান দৃশ্যমান। ‘৫এফ’ নম্বরের স্প্যানটি এখন অস্থায়ীভাবে সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর খুঁটিতে রাখা আছে। এটি সরিয়ে নেয়া হবে ৩০ ও ৩১ নম্বর খুঁটিতে। রেলওয়ে এবং রোডওয়ে স্লাব বসানোর সুবিধার্থে এটি সেখানে যথাস্থানে বসানো হয়নি। তবে শীঘ্রই এটিও ৩০ ও ৩১ নম্বর খুঁটিতে বসানো হবে।

মাঘের হাড় কাঁপানো শীত ও কুয়াশাচ্ছন্ন পদ্মায় দিন-রাত চলছে সেতু তৈরির কাজ। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। বসানো স্প্যানের নিচের তলায় রেলওয়ে স্লাব এবং ওপরের তলায় রোডওয়ে স্লাব বসানোর কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ২৯১৭ রোডওয়ে স্লাবের মধ্যে এ পর্যন্ত ২১শ’র বেশি তৈরি করা হয়েছে। আর ২৯৫৯ রেলওয়ে স্লাবের মধ্যে সব তৈরি হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২০২ রোডওয়ে স্লাব এবং ৫১৯ রেলওয়ে স্লাব বসানো হয়েছে।

গত ১৪ জানুয়ারি সেতুর অগ্রগতি সভা সম্পন্ন হয়েছে। এই সভা থেকেও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে সেতুর কাজের নানা বিষয় এবং মান সঠিক রেখে কাজ যথা সময়ে সম্পন্ন করার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

মূল সেতুর মোট ৪২ পিয়ারের (খুঁটি) মধ্যে ৩৬ পিলারের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে মাত্র ছয়টি পিলার। ৮, ১০, ১১, ২৬, ২৭ এবং ২৯ নম্বর পিলার এখন পদ্মার তলদেশ থেকে ওপরের দিকে উঠছে বা উঠে গেছে। ৮, ১০ , ১১ এবং ২৯ চারটি পিলারের কাজ ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি শেষ হবে। অবশিষ্ট ২৬ এবং ২৭ নম্বর পিলারের কাজ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হবে। এদিকে শুষ্ক মৌসুমের কারণে নদী শাসনের কাজেও গতি পেয়েছে।

দ্বিতল সেতুটি কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। এই সেতুর দু’প্রান্তে আরও প্রায় তিন কিলোমিটার সংযোগ সেতু রয়েছে। তাই সেতুটি দীর্ঘ প্রায় ৯ কিলোমিটার। সেই সংযোগ সেতুর কাজের অগ্রগতিও সন্তোষজনক। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে।

বরগুনার আলো