সোমবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১৩ ১৪২৬   ০১ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
বিদেশের মসজিদে আর অর্থ দেবে না সৌদি গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সামগ্রী নিয়ে আর্কাইভ হচ্ছে এত সুন্দরভাবে নির্বাচন হচ্ছে কীভাবে: ইসি সচিব জমাদিউস সানি শুরু আজ ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগালেন ব্র্যাড পিট ও জেনিফার অ্যানিস্টন বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কাছে ৫ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আজ ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস অটোমেশনে দুর্নীতি কমবে: অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ধর্ষণ থেকে রক্ষায় জাবি শিক্ষার্থীর অ্যাপ তৈরি ইশরাকের অভিযোগ অমূলক : তাপস বিশ্বের প্রাণঘাতী ৭টি ভাইরাস দ্রুত পেটের চর্বি গলাবে জাপানিজ এই পানীয় ফেসবুকে অযাচিত ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আটকাবেন যেভাবে ইসলামের মুদ্রাব্যবস্থা স্বর্ণ-রৌপ্যনির্ভর জমাদিউস সানি শুরু সোমবার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনায় সুপ্রিমকোর্টে ঘড়ি স্থাপন তাবিথ আউয়ালের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রিট আফতাবনগরে মানবপাচার চক্রের সন্ধান, আটক ১৩ রোহিঙ্গা নারী একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
৬১৭

পাথরঘাটায় দশ বছরে হরিনঘাটার বন রুপ নিয়েছে পর্যটন কেন্দ্রে 

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০১৮  

পাথরঘাটা, বরগুনা 
বরগুনার পাথরঘাটা  সাগরের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা হরিণঘাটা বন। পূর্বে বিষখালী আর পশ্চিমে বলেশ্বর নদ- সরাসরি মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। মোহনায় প্রাকৃতিক বন। নয়নাভিরাম বনের ভেতর মায়া আর মুগ্ধতা। ২০ প্রজাতির বৃক্ষরাজিতে ঠাসা সংরক্ষিত বন। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা সৃজিত বনের সুবাদে পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। হিংস্র প্রাণী নেই। আছে হরিণ, বনমোরগ, বানর, শূকর, গুইসাপ, নানা প্রজাতির সরীসৃপসহ ২০ প্রজাতির বন্য প্রাণী। রয়েছে অন্তত ৭০ প্রজাতির পাখি আর বন্য প্রাণিকুল।

প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা হরিণঘাটা বনে শীত মৌসুমে ব্যাপকভাবে ভিড় জমায় অতিথী পাখিরা। এখানকার গেওয়া, কেওড়া, পশুর আর সৃজিত সুন্দরী, ইউক্যালিপটাস আর ঝাউবন আগলে বেঁচে থাকে অন্তত পাঁচ হাজার বনজীবী। বনের ভেতরে এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৮টি খাল। সেই সঙ্গে বনের দক্ষিণ সীমানায় সাগর মোহনার চরে গড়ে উঠেছে শুঁটকিপল্লী।

সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বন আর সাগরে সূর্যের উদয়-আস্তের দৃশ্য দেখার সুযোগ পাওয়া প্রত্যেক পর্যটকের জন্যই বড় আকর্ষণ। বরগুনার পাথরঘাটার সাগরের কোলঘেঁষা হরিণঘাটা বনের ভেতরে নির্মাণাধীন ফুট ট্রেইল (বনের ভেতর পায়ে চলা সেতু আকৃতির পথ) দর্শনার্থীদের নিসর্গ মায়ায় টানছে। ফুট ট্রেইল নির্মাণের ফলে হরিণঘাটা বন আকর্ষণীয় পর্যটনের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বনের ভেতর উঁচু পিলারের ওপর পায়ে চলা পথ ধরে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দে বনের প্রাণ-প্রকৃতি ও সাগরতীর দর্শনের সুযোগ পাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পাথরঘাটা উপজেলা শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে সাগর মোহনায় প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে হরিণঘাটা বন। ১৯৬৭ সাল থেকে বন বিভাগ হরিণঘাটা বনটি সম্প্রসারণে নানা প্রজাতির বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে বন সৃজন শুরু করে। বর্তমানে ২৪ হাজার একরজুড়ে দৃষ্টিনন্দন এই বনে প্রাকৃতিক কেওড়া, গেওয়াসহ সৃজিত সুন্দরী ও ঝাউবন রয়েছে।

সংরক্ষিত এই নয়নাভিরাম বনকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সরকার ২০১০ সালে জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিলের মাধ্যমে বন বিভাগ হরিণঘাটা বন ও সাগরতীর দর্শনের লক্ষ্যে নির্মাণ করছে ফুট ট্রেইল। এ ছাড়া বনের ভেতর নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, বিশ্রামাগার ও গোলঘর। পাথরঘাটা বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন অধিদপ্তর ১৯৬৭ সালে হরিণঘাটা বন সম্প্রসারণে পরিকল্পিত বনায়ন শুরু করে। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনশ হেক্টর এলাকাজুড়ে সমৃদ্ধি কর্মসূচির আওতায় নতুন বন সৃজিত হয়। বর্তমানে হরিণঘাটায় ২০ হাজার একরজুড়ে বন বিস্তিত এটি এখন বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য। অন্যদিকে সাগরতীরে লালদিয়ার চরে নতুন বন সৃষ্টি হওয়ায় বনাঞ্চলের পরিধি ক্রমশ বেড়ে চলছে। এই ম্যানগ্রোভ বন পাথরঘাটা উপজেলা শহর থেকে কাছে হওয়ায় বনে হিংস্র জীবজন্তু না থাকায় বিভিন্ন জেলার মানুষ এখানে নিঃসংকোচে বেড়াতে আসে।

স্থানীয় জেলে ইউনুচ মিয়া বলেন, অবস্থানগত সুবিধার কারণে হরিণঘাটা থেকে সুন্দরবন ও ফাতরার চর দর্শন সহজ ও সাশ্রয়ী। একই অভিযাত্রায় পর্যটকরা তিনটি স্থান দর্শন করে তৃপ্তি পায়। হরিনঘাটা থেকে পশ্চিমে সুন্দরবন নদী পথে দুরত্ব ৮ কিলোমিটার এবং কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র একই পথ এই পথগুলো ভ্রমন করতে ট্রলার বা লঞ্চ যোগে ২ থেকে আড়াই ঘন্টা সময় লাগে। 

পাথরঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, হরিণঘাটা বনাঞ্চলে ইকো-ট্যুরিজম হিসেবে গড়ে তুলতে দর্শনার্থীদের স্বচ্ছন্দে চলাচলের জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় জলবায়ু ট্রাস্টের তহবিলের আওতায় বনের ভেতর একটি ঝুলান্ত সেতুসহ পায়ে চলা পথ (ফুট ট্রেইল) নির্মাণ করা হয়েছে। বনের ভেতর আঁকাবাঁকা দুই হাজার ৯৫০ মিটার দৈর্ঘ্য এই ফুট ট্রেইল তিন ধাপে নির্মাণ করা হবে। প্রথম ধাপে দুই কোটি ৫০ লাখ টাকায় ৫০০ মিটার ফুট ট্রেইল নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। বরাদ্ধ পেলে দ্বিতীয় ধাপে ৪৫০ মিটার ও পরবর্তী ধাপে দুই হাজার মিটারসহ মোট দুই হাজার ৯৫০ মিটার দৈর্ঘ্য এ ফুট ট্রেইল বনের ভেতর দিয়ে সাগর মোহনায় সৃজিত ঝাউবন পর্যন্ত বিস্তিত হবে। এতে দর্শনার্থীরা ফুট ট্রেইল দিয়ে স্বচ্ছন্দে হরিণঘাটা বনের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সাগরতীরে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকনের সুবিধা পাবে। এমন উদ্যোগের ফলে সাগরের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা উপকূলের মানুষগুলো নতুন সম্ভাবনার আশায় দিন গুনছে।

পাথারঘটা উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, হরিণঘাটা বন ঘিরে পাথরঘাটায় পর্যটনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। পিকনিক স্পট হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে এলাকায় বাণিজ্যিক প্রসারতা বাড়বে, সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান। ইতি মধ্যেই প্রতি দিন শত শত পর্যটক ভির করছে। পর্যটকদের আগমনের ফলে এই এলাকার শতাধী পরিবার ক্ষুদ্র ব্যাবসা 
করে খেয়েদেয়ে বেশ ভাল আছেন।

পটুয়াখালী অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আমিনুল ইসলাম জানান, হরিণঘাটা বনে আনুমানিক দশ হাজার চিত্রল হরিণ রয়েছে। বনটি প্রধানত গ্রিনবেল্ট হিসেবে দুর্যোগ থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে সৃষ্টি। তবে এটাকে জীববৈচিত্র্য গবেষণা ও শিক্ষার উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। আর সুন্দরবন ও টেংরাগিরির (ফাতরা বন) মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এই পর্যটন স্পটটি হতে পারে একটি আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র। আমরা এই কেন্দ্রগুলো উন্নয়নের জন্য সরকারের কাছে একটি প্রজেক্ট দাখিল করেছি। পরাদ্ধ পেলে হরিণঘাটাসহ আমার আওতায় ৪টি ইকো-ট্যুরিজম অত্যাধুনি হিসাবে গড়ে তোলা হবে।
 

বরগুনার আলো
এই বিভাগের আরো খবর