সোমবার   ২৬ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ১০ ১৪২৬   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
স্টোকসের ব্যাটেই ইংলিশদের অবিশ্বাস্য জয় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে শিক্ষা নিতে হবে : স্পিকার ‘মুখরোচক কথায় দালালের খপ্পরে পড়ে বিদেশ যাবেন না’- প্রধানমন্ত্রী আজ কুমিল্লায় পারিবারিক কবরস্থানে মোজাফফর আহমদের দাফন অ্যামাজন পুড়ছে, আমরা যেন না পুড়ি: পরিবেশমন্ত্রী জেলা সরকার এখন সময়ের দাবি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওএসডি হচ্ছেন জামালপুরের সেই ডিসি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: দীপু মনি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত অধ্যাপক মোজাফফর বরগুনায় উচ্ছেদ অভিযানে জেলা প্রশাসন মোজাফফর আহমদের মরদেহে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা হাইভোল্টেজ ম্যাচে লড়বে লিভারপুল-আর্সেনাল গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ডদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে- কাদের আইভি রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা আইভী রহমানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মোজাফফর আহমদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক ৯০ ভাগ ডেঙ্গু রোগী বাড়ি ফিরেছে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার হাল ছাড়েনি: ওবায়দুল কাদের ২৩ আগস্টের ঘটনায় সেনাবাহিনী দায়ী নয়-ঢাবি উপাচার্য যে করেই হোক রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাবোই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
১৭

পাথরঘাটায় নবজাতক হত্যা মামলায় বাবার যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: ১ আগস্ট ২০১৯  

বরগুনার পাথরঘাটায় নবজাতক হত্যা মামলায় বাবার যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের গাফেলতি হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারকে অবজারভেশন দিয়েছে। বুধবার দুপুরে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ মো.হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার ছোট পাথরঘাটা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ফিরোজ। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা উপজেলার ১৪ বছরের কিশোরী ওই ট্রাইব্যুনালে ২০০৫ সালের ৭ মে ফিরোজসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

ওই কিশোরী অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। ফিরোজ তার প্রতিবেশী। ২০০৪ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ঘরে ঢুকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করে ফিরোজ। এরপর ফিরোজ বাদীকে বিয়ে করবে এমন প্রতিশ্রুতিতে প্রতিনিয়ত তাকে ধর্ষণ করে আসছে। একপর্যায়ে বাদীর গর্ভে সন্তান আসে।

বিষয়টি জানালে ফিরোজ কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেয়। পরে বিষয়টি মোস্তফা, নাসির, আশ্রাফ আলী, ইসমাইল ও নুরুল ইসলামের কাছে জানায়। তারাও বাদীকে বিভিন্ন বাড়িতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

বুধবার দুপুরে ওই নারী বলেন, আমি এ ঘটনার পর এলাকার অনেকের কাছে বিচার চেয়ে পাইনি। আস্তে আস্তে আমার গর্ভের সন্তান বড় হতে থাকে। পরে ওই ফিরোজ ও তার সহযোগীরা তাকে গর্ভপাতের একটি ইনজেকশন করায়।

তিনি বলেন, আমি গুরুতর অসুস্থ হলে ২০০৫ সালের ১২ মার্চ তারা আমাকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে আমার গর্ভপাত করায়। তখন আমার সন্তানের বয়স ৭ মাস। আমার একটি জীবন্ত পুত্রসন্তান জন্ম হয়।

তিনি বলেন, আমার সন্তানের কান্না আমি শুনতে পেয়েছি। ওইদিন রাত ১১টায় আমার সন্তানটি আমার কাছ থেকে নিয়ে সালাম খলিফা গলাটিপে হত্যা করে। মাসুদা আমার সন্তানটির পা চেপে ধরে। পরে ওই আসামিরা আমার সন্তানের লাশ গুম করে।

ওই নারী বলেন,পরের দিন আসামিরা একটি মাইক্রোবাসে আমাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। তারা আমার ও আমার বাবার কাগজে স্বাক্ষর নেয়। যাতে আমরা মামলা করতে না পারি। কিছুদিন পর একটু সুস্থ হয়ে পাথরঘাটা থানায় মামলা করতে গেলে তারা মামলা নেয়নি। মামলাটি তদন্ত করে পাথরঘাটা থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ ২০০৫ সালের ১৫ আগস্ট একমাত্র ফিরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বাকি ৮ জনকে অব্যাহতি দেয়।

আদালত রায় ঘোষণার সময় অবজারভেশনে বলেন, এ মামলায় ১৩ জন সাক্ষী দিয়েছে।সব সাক্ষী বাদীর ঘটনা সমর্থন করেছে। তার পরও তদন্তকারী কর্মকর্তা একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।আদালত মনে করেন,মামলা তদন্তে পুলিশর গাফেলতি রয়েছে। আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তার গাফেলতির বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বলবেন। মামলার আসামি ফিরোজ বলেন, আমি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।

এই বিভাগের আরো খবর