শনিবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৪ ১৪২৬   ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
বিপিএলে প্রথম শিরোপার স্বাদ পেলো রাজশাহী আদালতে মজনুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেমে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা যাবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি শুরু প্রথম আলোর সম্পাদকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আমরা ক্রসফায়ারকে সাপোর্ট করতে পারি না : ওবায়দুল কাদের পোশাক রপ্তানিকে ছাড়িয়ে যাবে আইসিটি : জয় বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু কাল বিশ্ব ইজতেমার ২য় পর্বে ময়দানে আসতে শুরু করেছেন মুসল্লিরা অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথে বাংলাদেশ: সংসদে প্রধানমন্ত্রী রিফাত হত্যা : দুই আসামি জামিনে মুক্ত দুর্নীতি মামলা : বিএনপি প্রার্থী ইশরাকের বিচার শুরু কাদেরের বাইপাস পরবর্তী স্বাস্থ্যের উন্নতি, দেশে ফিরছেন রাতেই  এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ সঠিক পথে রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী আবুধাবি থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী সরকারের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে: আইআরআই ওমানের সুলতানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা আবুধাবি থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী পদ্মাসেতুতে বসলো ২১তম স্প্যান,দৃশ্যমান হলো ৩ হাজার ১৫০ মিটার রিট খারিজ, নির্ধারিত তারিখেই হচ্ছে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন
১২৮

প্রধানমন্ত্রীকে প্রথম দেখতে চান একই পরিবারের চার অন্ধ

প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  


ভৈরব শহরের কালীপুর গ্রামের একই পরিবারের জন্ম থেকেই অন্ধ ৪ ভাই-বোন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অন্ধ হওয়ায় তিন বোনের আজও বিয়ে হয়নি। পুরো পরিবার চলছে প্রতিবন্ধী আরেক ভাইয়ের সামান্য আয়ে। অভাবে আজ পর্যন্ত চোখের চিকিৎসা করাতে পারেননি তারা।

অন্ধ চার ভাই-বোন হলেন, ভৈরব পৌর শহরের কালিপুর গ্রামের মৃত ওসমান গনির বড় ছেলে মো. গোলাম হোসেন (৪৮), মেয়ে রহিমা বেগম (৪২), জায়েদা বেগম (৩৫) ও সাজেদা বেগম (৩০)। অন্ধ হওয়ার কারণে তিন বোনের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে কেউ কোনোদিন আসেনি। তবে ভাই গোলাম হোসেন বিয়ে করেছেন। তার দুটি ছেলেও রয়েছে বলে জানান তিনি।


গোলাম হোসেন জানান, আমরা চার ভাইবোন জন্ম থেকেই অন্ধ। পৃথিবীর কোনো কিছুই আমরা দেখতে পাই না। জন্মের পর শিশুকাল থেকে আমার বয়স ৩০ বছর পর্যন্ত বাবা আমার চোখের চিকিৎসা করেছেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামে চোখের অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি কিন্তু কাজ হয়নি।
আমার জন্মের পর একে একে জন্ম নেয়া তিনটি বোনও জন্মান্ধ। আমার চোখ চিকিৎসায় ভালো হয়নি, তাই বাবা বোনদেরকে আর চোখের ডাক্তার দেখাননি।

তিনি বলেন, ভৈরব উপজেলা সমাজ কল্যাণ অফিস থেকে প্রতিবন্ধী অন্ধ হিসেবে তিন বোন তিন মাস পর পর ২১০০ টাকা করে সরকারি ভাতা পায়, কিন্তু আমি পাই না। এ টাকা ছাড়া আমাদের আর কোনো আয় নেই। কিন্তু বোনদের সামান্য এ টাকায় সংসার চলে না।

জন্মান্ধ জায়েদা বেগম বলেন, আমরা মনে হয় পাপী। তা না হলে আল্লাহ আমাদের ৪ ভাই-বোনকেই অন্ধ করে জন্ম দিলেন কেন? চলতে পারি না, খেতে পারি না, পরার মতো কাপড়ও নেই আমাদের। সরকার তিন মাস পর পর ২১০০ টাকা ভাতা দেয়, কিন্তু এ টাকায় চলতে পারি না।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী এক ভাই শ্রমিকের কাজ করে কিছুটা সহযোগিতা করে। সরকার যদি আমাদেরকে চলার মতো অর্থ দিয়ে সহযোগিতাসহ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতো তাহলে হয়তো আমরা পৃথিবীর আলো দেখতে পেতাম।

অন্ধ আরেক বোন রহিমা বেগম বলেন, জীবনে বিয়ের সাধ পেলাম না। যদি বিয়ে হতো তাহলে দুটি সন্তান থাকলে আমাদের সেবা যত্নসহ খাবার জোগাড় করতো। এলাকার এমপি বা নেতারাও কোনোদিন আমাদের খবর নেননি। মাঝে মধ্যে মনে হয় বেঁচে থাকাটাই আমাদের বৃথা। সবসময় ভাই-ভাবিসসহ অন্যের সহযোগিতায় চলাফেরা করতে হয়। বছরে দুটি পুরান কাপড় পরেই কোনোরকম বেঁচে আছি।

অন্ধ সাজেদা বলেন, এ জীবন বড় কষ্টের। মাঝে মধ্যেই মনে হয় মরে যাব। কিন্তু মরার কোনো পথ পাই না। জীবনে বড় সাধ ছিল পৃথিবী দেখার। কিন্তু এ সাধ হয়তো কোনোদিন আমাদের পূরণ হবে বলে মনে হয় না।

অন্ধ গোলাম হোসেন বলেন, শুনেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুব দয়ালু। তিনি আমাদের চোখের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিলে তাকে প্রথমে দেখতাম।

এই বিভাগের আরো খবর