রোববার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১০ ১৪২৬   ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
দৃশ্যমান পদ্মা সেতুর পৌনে চার কিলোমিটার সারা দেশে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত ইংরেজি উচ্চারণে বাংলা বলার সমালোচনা প্রধানমন্ত্রীর উন্নত দেশ গড়তে বেসরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুজিববর্ষে বিএনপিকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে: কাদের ভণ্ডপীরসহ ৯ জনের কারাদণ্ড প্রধানমন্ত্রী সব সময় শিক্ষাকে গুরুত্ব দেন: পরিকল্পনামন্ত্রী মুজিব বর্ষে নতুন শিল্প কারখানা স্থাপন করা হবে: শিল্প প্রতিমন্ত্রী আসন্ন সেচ মৌসুমে লোডশেডিংয়ের শঙ্কা নেই : বিদ্যুৎ বিভাগ একুশে পদক হাতে তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস শুক্রবার একুশে পদক মেধা ও মনন চর্চার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করবে : রাষ্ট্রপতি আজ একুশে পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী এনামুল বাছিরের পদোন্নতির আবেদন হাইকোর্টে খারিজ ডাকঘর সঞ্চয়ের সুদহার পুনর্বিবেচনা করা হবে : অর্থমন্ত্রী মুঠোফোন প্রতারক জিনের বাদশা গ্রেফতার করোনাভাইরাস নিয়ে গুজবে কান দিবেন না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাগর তীরে উঁচু স্থাপনা নির্মাণ না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিএনপি জ্বালাও-পোড়াও না করলে দেশ আরো এগিয়ে যেত : তথ্যমন্ত্রী শহীদ দিবসে জঙ্গি হামলার কোনো সম্ভাবনা নেই : ডিএমপি কমিশনার
৬৮

ফাইভ-জি’র নীতিমালা জানুয়ারিতে, সময়ের আগেই চালু

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ২০২১-২৩ সালের মধ্যে দেশে ফাইভ-জি সেবা দিতে পরিকল্পনা ও নীতিমালা প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

এই কমিটি ফাইভ-জি প্রযুক্তি প্রবর্তনের লক্ষ্যে আগামী বছরের জানুয়ারি নাগাদ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা এবং পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করবে বলে জানান বিটিআরসি’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন খাঁন।

বিটিআরসি জানায়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৮ এর লক্ষ্য ও পরিকল্পনায় ‘২০২১-২৩ সালের মধ্যে ফাইভ-জি চালু করা হবে’ মর্মে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। নির্বাচনী ইশতেহারের লক্ষ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান বিকাশের ধারাবাহিকতায় সরকার শিগগিরই ফাইভ-জি সেবা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকারের ফাইভ-জি সেবা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফাইভ-জি সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা ও একটি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতিনিধি, বিটিআরসি’র প্রতিনিধি, অপারেটরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে কমিশন থেকে গত ৪ আগস্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ফাইভ-জি প্রযুক্তি প্রবর্তনের রূপরেখা, সম্ভাব্য তরঙ্গ, সম্ভাব্য তরঙ্গমূল্য এবং বাস্তবায়ন সময়কাল প্রণয়ন করবে। সেইসঙ্গে ফাইভ-জি’র একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করবে। আশা করা যায়, ওই কমিটি আগামী বছরের জানুয়ারি নাগাদ ফাইভ-জি সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করবে।

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত সময়ের আগেই ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সহায়তায় ফাইভ-জি সেবা চালু করা সম্ভব হবে।’

মোবাইল ব্রডব্যান্ড সেবার সর্বশেষ সংস্করণ হলো ফাইভ-জি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে ফোর-জি প্রযুক্তি অপেক্ষা নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি বহুগুণ বৃদ্ধি করা যায়। এই প্রযুক্তিতে গ্রাহক প্রতি ডাটা রেট, গতিশীলতা এবং সময় বিলম্বেও নেটওয়ার্কে মাত্রাগুলো অনেকগুণে উন্নত হবে। বর্তমানে প্রচলিত মোবাইল গ্রাহক হিসেবে শুধুমাত্র মানুষকে বিবেচনা করা হলেও ফাইভ-জি প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান সার্ভিস হলো ইন্টারনেট অব থিংকস, যেখানে যন্ত্রের মাধ্যমে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত ডিভাইসগুলোকেও গ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সরকারের ফাইভ-জি সেবা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২৮ গিগাহার্জ ব্যান্ডে ফাইভ-জি সার্ভিসের উপর ভেন্ডরের মাধ্যমে একটি ডেমোনেস্ট্রেশন প্রদর্শন করা হয়েছে। বর্তমানে ২.৬ গিগাহার্জ, ৩.৫ গিগাহার্জ ইত্যাদি ব্যান্ডগুলো ফাইভ-জি সেবার জন্য জনপ্রিয় ব্যান্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফাইভ-জি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ২.৬ গিগাহার্জ, ৩.৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডের সঙ্গে অন্যান্য ব্যান্ডের বিষয়ে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড রেডিও কনফারেন্সে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে আর্ন্তজাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মাধ্যমে ২৫০০-২৬৯০ মেগাহার্জ, ৩৩০০-৪২০০ মেগাহার্জ, ২৬-২৮ গিগাহার্জ, ৩২ গিগাহার্জ, ৩৮ গিগাহার্জ, ৪০ গিগাহার্জ এবং ৪৩ গিগাহার্জ ব্যান্ডগুলো ফাইভ-জি প্রযুক্তির জন্য তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ফাইভ-জি প্রযুক্তির লাইসেন্স দেওয়া করা হয়েছে। প্রতিটি দেশেই অপারেটরকে ৩৩০০-৪২০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডে প্রায় ১০০ মেগাহার্জ এবং মিলিমিটার ওয়েভের জন্য ২৬-২৮ গিগাহার্জ বা তদূর্ধ্ব ব্যান্ডে ৮০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু কিছু দেশ ২.৫ গিগাহার্জ (২৫০০-২৬৯০ মেগাহার্জ) ব্যান্ডে ৫-জি এর জন্য তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ফাইভ-জি প্রযুক্তির জন্য শুধুমাত্র তরঙ্গের প্রাপ্যতাই যথেষ্ট নয় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত থাকা আবশ্যক। উন্নত দেশে ফাইভ-জি প্রযুক্তি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত থাকায় তারা এই প্রযুক্তি চালু করার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সমসাময়িক সময়ে ফাইভ-জি প্রযুক্তি প্রবর্তনে কমিশন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

স্বল্প খরচে মোবাইল কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক স্থাপনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো একই তরঙ্গ ব্যাপক ভিত্তিতে ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা। আইটিইউ বিশ্বব্যাপী এই ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ফাইভ-জি’র জন্য তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া মিলিমিটার ওয়েভের জন্য প্রস্তাবিত ব্যান্ডগুলো বরাদ্দ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে তরঙ্গ আছে।

বরগুনার আলো