মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
এজেন্টদের টাকা দিয়ে মালয়েশিয়া গেলে পুনঃনিয়োগের অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ করলে ক্ষমা করা হবে না: কাদের পাথরঘাটায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ টাকা বিতরণ র‌্যাব-৮ এর অভিযানে ১১,৫০০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধার ট্রেন দুর্ঘটনা : তূর্ণা নিশীথার মাস্টার-সহকারী মাস্টার বরখাস্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিতে প্রতারণা : রাজস্ব কর্মকর্তার কারাদণ্ড ঘূর্ণিঝড় বুলবুল : কৃষি ফসলের ক্ষতি ২৬৩ কোটি টাকা চার দিনের সফরে আজ নেপাল গেলেন রাষ্ট্রপতি ট্রেন দুর্ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক শুধু কৃষিতে নির্ভর না করে শিল্প উৎপাদন বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী রেল দুর্ঘটনা: সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়ার নির্দেশ ৬ ঘণ্টা পর চালু হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারকে ১ লাখ,আহতদের ১০ হাজার দেয়ার ঘোষণা নুসরাত হত্যা:ফাঁসির আসামিদের পাঠানো হলো কুমিল্লা কারাগারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দুর্ঘটনাস্থলে রেলমন্ত্রী দুই ট্রাভেল এজেন্সিতে র‌্যাবের অভিযান, ১০৫০ পাসপোর্ট জব্দ কসবায় ট্রেন সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর সংসদে বাংলাদেশের পতাকবাহী জাহাজ (সুরক্ষা) বিলের রিপোর্ট উপস্থাপন মুজিব বর্ষ উদযাপনে ভারতের আগ্রহ রয়েছে: রাম মাধব
১৩৪

ফেরত যেতে চাচ্ছে না রোহিঙ্গারা, প্রত্যাবাসন স্থগিত

প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০১৮  

 

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা তাদের দেশ মিয়ানমারে ফেরত যেতে চাচ্ছে না। ‘না, না, আমরা ফেরত যাবো না’ এমন স্লোগান দিয়ে বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে বিক্ষোভও করেছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। তাদের এ বিক্ষোভের পর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে।

বিকেলে ঘুমধুম ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বলেন, রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের কারণে শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়নি। প্রত্যাবাসন শুরু করার তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে। এ পর্যন্ত তারা এভাবেই থাকবেন। তাছাড়া রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চাইলেই তাদের পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, কাউকে তো জোর করে পাঠানো যাবে না। আমরা বিকেল পর্যন্ত চেষ্টা করেছি। কিন্তু মিয়ানমারকে রোহিঙ্গারা এখনো নিরাপদ মনে করছেন না। যে কারণে তারা রাজি না হওয়ায় প্রত্যাবাসন কাজ শুরু করা যায়নি। তবে এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

ফলে আবারো অনিশ্চয়তার মুখে পড়লো প্রত্যাবাসন কার্যক্রমটি।

এদিকে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে।

গত অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম দফায় দুই হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে রাখাইনে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা ছিল বৃহস্পতিবার। কিন্তু তখন থেকেই এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার শুরু হওয়া নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ দেখা দেয়।

জাতিসংঘের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা রাখাইনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিরোধীতা করে বলছে, সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য এখনো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা হয়নি। বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি রাখাইনে ব্যাপক সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গারাও মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিরোধীতা করে আসছে।

মিয়ানমার সীমান্তের কাছে কক্সবাজারের উঁচিপ্রাং শরণার্থী শিবিরে আজ বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। এ সময় ‘না, না, আমরা ফেরত যাবো না’ বলে স্লোগান দিতেও দেখা যায় তাদের। অনেকের হাতে প্ল্যাকার্ডে দেখা যায়, আমরা ন্যায়বিচার চাই, নাগরিত্ব ছাড়া আমরা কখনোই মিয়ানমারে ফিরে যাবো না।

এর আগে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত তিনজন রয়টার্সকে বলেছে, প্রথম দফায় তালিকাভূক্ত রোহিঙ্গাদের কেউই রাখাইনে ফিরতে রাজি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে প্রত্যাবাসন শুরু হবে না। ওই সূত্রের একজন বলেন, ‘কেউই ফিরে যেতে চায় না।’

আজ প্রথম দফায় দুই হাজার ২০০ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর কথা ছিল। এদিকে, মিয়ানমারের কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে প্রস্তুত ছিলেন। তবে বাংলাদেশ বলছে, জোরপূর্বক কাউকে ফেরত পাঠানো হবে না। তালিকাভূক্ত রোহিঙ্গারা আসলেই মিয়ানমারে ফিরতে চায় কি-না তা নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র বলছে, কেউই রাখাইনে ফিরতে রাজি নয়; এমন তথ্য জানাতে সীমান্তে মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। তবে এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কিছু ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সীমান্তের ওপারে একটি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে অপেক্ষা করছেন মিয়ানমারের কর্মকর্তারা। গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইনে দেশটির রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। রক্তাক্ত ওই অভিযানের মুখে প্রায় সাত লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা প্রতিবেশি বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।