• সোমবার   ০১ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৬ ১৪২৭

  • || ১৭ রজব ১৪৪২

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
দেশে কোনো গরিব মানুষ থাকবে না : তথ্যমন্ত্রী বেসরকারি চিকিৎসা সেবা ব্যয় নির্ধারণ শিগগিরই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাটকা সংরক্ষণে কাল থেকে ৬ জেলায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৮, শনাক্ত ৩৮৫ আমরা শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ৬০ কর্মদিবস পর পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী এ এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের কৃতিত্ব নতুন প্রজন্মের : প্রধানমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৫, শনাক্ত ৪০৭ উৎসবমুখর পরিবেশে হবে ৫ম ধাপের পৌরসভা নির্বাচন: কাদের মুজিবনগর-কলকাতা স্বাধীনতা সড়কের কাজ শেষ পর্যায়ে: এলজিআরডি মন্ত্রী রেলে ১২ হাজার লোক নিয়োগ দেয়া হবে: রেলপথ মন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৫, শনাক্ত ৪১০ বঙ্গবন্ধুর পরিবার সততা, মেধা ও সাহসের প্রতীক: কাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ সাত কলেজের পরীক্ষা চলবে: শিক্ষা মন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে সাধারণ মানুষও চিকিৎসা পাবেন: আইজিপি জনগণ ভালোবেসে আমাদের সরকার গঠনের সু্যোগ দিয়েছে: কাদের সাত কলেজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত সন্ধ্যায় বিএনপির অনেক নেতা গোপনে টিকা নিয়েছেন : তথ্যমন্ত্রী

বরগুনায় স্বামীকে হত্যার কথোপকথনের রেকর্ডিং পরকীয়া প্রেমিকের ফোনে

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

প্রেমিকের মুঠোফোনের কথপোনের সূত্র ধরে বরগুনায় এক স্কুল শিক্ষক স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, নিহতের স্ত্রী ফাতেমা মিতু (২৪) ও তার পরকীয়া প্রেমিক রাজু মিয়া (২০)। বৃহস্পতিবার ভোররাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেহেদী হাসান, বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) তারিকুল ইসলাম ও ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আবুল বাশারের নেতৃত্বে তাদের গ্রেফতার করা হয়। 

বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের বড়ইতলা গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নাসির উদ্দিন হাওলাদারকে (৪০) খুনের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। নাসিরের বাবার নাম গয়জদ্দিন হাওলাদার।

বরগুনা সদর থানা সূত্রে জানায়,এ ঘটনায় নিহত নাসিরের ভাই আবদুল জলিল হাওলাদার বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে গ্রেফতার ফাতেমা মিতু ও রাজুকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নাসির উদ্দিন হাওলাদারের সাথে দশ বছর আগে বরগুনা পৌরসভার শহীদ স্মৃতি সড়কের দলিল লেখক মাহতাব হোসেন মৃধার মেয়ে ফাতেমা মিতুর বিয়ে হয়। তাদের নুসরাত নামে ৮ বছরের একটি মেয়ে ও নাঈম নামে ৫ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফাতেমা মিতুর পরকীয়া প্রেমিক রাজুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বরগুনার একটি দোকানে চার্জ করাতে দেন রাজু। সেখান থেকে তার মোবাইলটি হারিয়ে যায়। হারিয়ে যাওয়া ফোনে নাসিরকে হত্যার পরিকল্পনা এবং পরবর্তী বিষয়ে রাজু ও মিতুর কথোপকথনের রেকর্ড জমা থাকে। পরে হারিয়ে যাওয়া ওই ফোনের কথোপকথন পায় নাসিরের স্বজনরা।অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ঘুমের আগে কৌশলে নাসিরকে অতিরিক্ত পরিমান ঘুমের ঔষধ খাওয়ানো হয়। রাত ১১ টার পরে রাজুকে মোবাইলে জানানো হয়, নাসির ঘুমিয়ে পড়েছে তুমি চলে আসো। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে মিতু ও রাজু মিলে নাসিরকে কম্বল চাপা দিয়ে মেরে ফেলে। এর প্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগ করেন নাসিরের বড় ভাই জলিল হাওলাদার। এ অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে রাজু ও মিতুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে নাসিরের বড় ভাই ও মামলার বাদি মোঃ জলিল হাওলাদার বলেন, "মিতুর কাছ থেকে আমার ভাইয়ের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর খবর পাই আমরা। তখন আমাদের কোন কিছু সন্দেহ হয়নি। তাই স্বাভাবিক নিয়মেই আমরা নাসিরকে দাফন করি। এঘটনার নয় মাসেরও বেশি সময় পর মিতু ও তার পরকীয়া প্রেমিক রাজুর মোবাইল ফোনে কথোপকথনের বেশ কয়েকটি রেকর্ড পাই আমরা। সে রেকর্ডে নাসিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের কথোপকথন রয়েছে। তখন আমরা নাসিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হই। এরপর পুলিশে অভিযোগ করলে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।

বরগুনা থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, রাজুর হারিয়ে ফেলা মোবাইল ফোনটি ঢলুয়া ইউনিয়নের পোটকখালী বাজারের দোকানদার আরেক রাজু পেয়েছে। ওই মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডে হত্যার পরিকল্পনার কথা জানা যায়। তাদের কল রেকর্ডসহ মোবাইল ফোনটি ওসির হাতে চলে আসলে বুধবার রাতেই মিতু ও রাজুকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরও জানিয়েছেন, নাসিরের বড় ভাই আবদুল জলিল হাওলাদার বাদী হয়ে মিতু ও রাজুকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

বরগুনার পুলিশ সুপার মুহম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক বলেন, মিতু ও রাজু দুজনই তাদের কাছে নাসিরকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আরও জানান, ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে রাজী হয়েছেন। তারপরেই আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হবে।

বরগুনার আলো