রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৬ ১৪২৬   ২২ মুহররম ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
ক্যাসিনো মালিকদের গল্প প্রয়োজনে ঋণ নেব, তবু ডোনেশন নয়-পরিকল্পনামন্ত্রী খেলাধুলার বিকল্প নেই: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী কুরআনের ১০০ নির্দেশনা গ্রানাদার কাছে বার্সার পরাজয় চলমান অভিযান জনমনে প্রত্যাশার সৃষ্টি করবে: টিআইবি ৪০ কোটি টাকা নিয়ে পালানো সেই টার্কি বাবলু স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা, গুলিবিদ্ধ ১ ৪ দিনের সফরে ঢাকায় ভারতের নৌবাহিনী প্রধান ধোনির বাড়িতে প্রতিদিন লোডশেডিং, বিরক্ত স্ত্রী আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী পদোন্নতি না নিলে শাস্তি ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে : রাষ্ট্রপতি পাঁচ বছর আফগানিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ ভূতের আড্ডায় অভিযান, বাতি জ্বালাতেই অপ্রীতিকর দৃশ্য কথাসাহিত্যিক শরদিন্দুর প্রয়াণ বিষাক্ত মদ পান করে ২ যুবকের মৃত্যু ঠাকুরগাঁওয়ের বাস কাউন্টারে মিলল মানুষের ৪ বস্তা খুলি ও হাড় রিফাত হত্যা মামলার আলামত আদালতে দাখিল, সাক্ষী ৭৫ কুমিল্লায় আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবাসহ যুবক আটক

বাংলাদেশকে কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলল আফগানিস্তান

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

লজ্জাই কী শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গী হবে? ইতিহাস গড়বে আফগানিস্তান? চট্টগ্রাম টেস্ট যেভাবে এগিয়ে চলেছে তাতে বাংলাদেশকে কঠিন চ্যালেঞ্জেই ফেলে দিয়েছে আফগানিস্তান। তৃতীয়দিন শেষে ৩৭৪ রানে এগিয়ে গেছে আফগানরা। এই রানের সঙ্গে আজ হাতে থাকা ২ উইকেটে আর যত রান করবে আফগানিস্তান, তত রানই বাংলাদেশের সামনে টার্গেট পড়বে। সেই টার্গেট কী অতিক্রম করা সহজ? আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের হারের শঙ্কা ভালভাবেই জেগে উঠেছে।

উপমহাদেশের কোন দলই আজ পর্যন্ত নিজেদের প্রথম তিন টেস্টের দুটিতে জিততে পারেনি। আফগানিস্তান যেন জয়ের পথেই হাঁটছে। তাতে ইতিহাস গড়ার দিকেই এগিয়ে চলেছে। সেই ইতিহাস গড়বে আফগানরা, এমনই আত্মবিশ্বাসী সুরে কথা বলেছেন আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রান করা ওপেনার ইবরাহিম জাদরান। জয়ের আশা দেখছেন তিনি। তার এমন ব্যাটিংয়েই দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয়দিন শেষ হওয়ার আগে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৩৭ রান করতে পেরেছে আফগানিস্তান। প্রথম ইনিংসে ৩৪২ রান করার পর বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস রশীদ খানের (৫/৫৫) ঘূর্ণিতে ২০৫ রানেই গুটিয়ে দেয় আফগানিস্তান। নেতৃত্বে অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসেই ব্যাট হাতে হাফ সেঞ্চুরি করার পর বল হাতে ৫ উইকেট নেয়ার একমাত্র কীর্তি এখন রশীদের দখলে। দ্বিতীয়দিনের ৮ উইকেটে ১৯৪ রানের সঙ্গে বাকি ২ উইকেটে তৃতীয়দিন মাত্র ১১ রান যোগ করতে পারে বাংলাদেশ। রশীদের সঙ্গে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নামা মোহাম্মদ নবীর (৩/৫৬) স্পিন জাদুর সামনে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (৪৮*) টিকে থাকতে পারেন। প্রথম ইনিংস শেষেই ১৩৭ রানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর সাকিব আল হাসানের (৩/৫৩) বোলিং তোপে শুরুতে ২৮ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে আফগানিস্তান। কিন্তু এরপর চতুর্থ উইকেটে ইবরাহিম ও আসগর আফগান (৫০) মিলে যে ১০৮ রানের জুটি গড়ে সেই বিপদ দুর করেন। আফগানরাও ভরসা পেয়ে যান। দেখতে দেখতে আফগানিস্তান ২৩৭ রানেও চলে যায়। উইকেটও হারাতে থাকে। রানও স্কোরবোর্ডে জমা করতে থাকে। এমন মুহূর্তে ঘন কালো মেঘের জন্য আলোস্বল্পতা দেখা দেয়। ২০ মিনিট আগেই তৃতীয়দিনের খেলা শেষ হয়। আফসার জাজাই (৩৪*) অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন। আজ আফসারের সঙ্গে ইয়ামিন আহমদজাই ব্যাট হাতে নামবেন।

আফগানিস্তান যে রানে এগিয়ে রয়েছে এই রান করাই তো বাংলাদেশের জন্য কঠিন। এত বড় টার্গেট যে কখনই অতিক্রম করতে পারেনি বাংলাদেশ। ২১৫ রানের টার্গেট (২০০৯ সালে গ্রেনাডায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে) অতিক্রম করাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য। চতুর্থ ইনিংসে একবারই চার শ (২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে মিরপুরে ৪১৩ রান) রানের বেশি করতে পেরেছিল বাংলাদেশ। দুইবার করতে পেরেছিল তিন শ’ (৩০১ ও ৩৩১ রান)। দেশের মাটিতে ১০১ রানের (২০১৪ সালে মিরপুরে জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে) টার্গেটে জয়ই সর্বোচ্চ সাফল্য। বোঝাই যাচ্ছে, ২৯ বার টার্গেট অতিক্রম করতে গিয়ে মাত্র তিনবার জয় পাওয়া বাংলাদেশের জন্য আফগানদের ছুড়ে দেয়া টার্গেট পেরিয়ে যাওয়া অসম্ভবই হয়ে উঠতে পারে। দেশের মাটিতে ১৬ বার টার্গেট অতিক্রম করতে গিয়ে শুধু একবার জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে জয় মিলেছে। সেখানে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তো টার্গেট অতিক্রম করতে গিয়ে ৭ ম্যাচের মধ্যে একটিতেও জয় নেই।

চট্টগ্রাম টেস্টে রেজাল্ট আসবে যে তা ধরেই নেয়া যাচ্ছে। হাতে যে আরও দুইদিন বাকি। ড্র’র সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যদি না দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলেন। কিন্তু যে ব্যাটসম্যানরা প্রথম ইনিংসে দলকে ২০৫ রানের বেশি পুঁজি এনে দিতে পারেননি, তারা কী দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানদের বৈচিত্র্যময় স্পিনের সামনে কুলিয়ে উঠতে পারবেন?

টানা তিনদিন যে দাপট দেখিয়েছে আফগানিস্তান, তাতে ইবরাহিম জাদরান জয়ের সুবাতাস পাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রথম ইনিংসে ওদের ৬৪ ওভারে আমরা অলআউট করেছিলাম। আশা করছি আবারও তা করব। আমরা জেতার মতো অবস্থায় আছি।’

আফগানিস্তানের ভয় আবহাওয়ায়। আবহাওয়া যে খেলা দেখিয়ে দিতে পারে। বাংলাদেশের আশাও একই পরিস্থিতিতে। এখন সবার মুখে একটিই কথা; মেঘ, বৃষ্টির খেলাই বাংলাদেশকে বাঁচাতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসও আশা দেখাচ্ছে। আজ ও সোমবার চট্টগ্রামে হতে পারে ভীষণ বৃষ্টি। তা হলে বাকি দুইদিন খেলা ভেস্তে যাবে। তাতে করে এ মুহূর্তে যে অবস্থা, তাতে বাংলাদেশেরই লাভ হবে। ইবরাহিম তাই বলেছেনও, ‘আমরা বলতে পারব না আগামী দুইদিন আবহাওয়া কেমন থাকবে। কিন্তু ক্ষণে ক্ষণে এটা (আবহাওয়া) রঙ পাল্টাচ্ছে, মাঝে মাঝে রোদ উঠছে, মাঝে মাঝে মেঘ থাকছে। আশা করছি কাল (আজ) আমরা আরও ১০-১৫ ওভার ব্যাট করব। তাহলে লক্ষ্যটা চার শ’ ছাড়িয়ে যাবে। তখন ওদের জন্য কাজটা কঠিন হবে।’

অবশ্য মেহেদী হাসান মিরাজ এখনও জয়ের আশা দেখছেন। ক্রিকেটে সবকিছুই সম্ভব। অসম্ভব বলে কোন কথা নেই। সেই কিছুটা হয়ে গেলেই তো হলো। মিরাজ তাই বলেছেন, ‘ক্রিকেটে সবকিছুই হতে পারে। আমরা চেষ্টা করব। যেহেতু আমাদের হাতে দুটো দিন সময় আছে। প্রথম কাজ হলো, দ্রুত ওদের বাকি দুটি উইকেট নেয়া। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বটা হবে ঠিকভাবে বুঝে সেটা পালন করা। অবশ্যই আমি মনে করি, ক্রিকেট খেলায় সবই হতে পারে। জেতা ম্যাচও হেরে যেতে পারে কেউ কিংবা হেরে যাওয়া ম্যাচ সহজেই জিততে পারে। এমন অনেক ঘটনাই আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমরা আমাদের প্রসেসে থাকব। ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। এমন বড় স্কোর তাড়া করতে গেলে, অবশ্যই আমাদের ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে। আমাদের জন্য এই রান তাড়া করাটা সত্যিই কঠিন। তারপরও আমাদের চেষ্টা করতে তো বাধা নেই। আমাদের সুযোগ নিতে হবে। দুইদিন সময় আছে, চেষ্টাটা আমরা করতে চাই। তারপর হেরে যাই কিংবা জিতে যাই, সেটা পরের ব্যাপার। আমাদের হাতে যেটা আছে, সেটা হচ্ছে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করা।’ মিরাজ জয়ের কথা বললেও বাস্তবতাও বুঝতে পারছেন। এত বড় রান তাড়া করা কঠিন। আফগানিস্তান সেই কঠিন চ্যালেঞ্জেই ফেলেছে বাংলাদেশকে।

এই বিভাগের আরো খবর