শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৬ ১৪২৬   ২১ মুহররম ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
জলবায়ু আন্দোলনে গ্রেটার পাশে গোটা বিশ্ব জি কে শামীমকে গুলশান থানায় হস্তান্তর কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি এখন কারাগারে আজ বিশ্ব শান্তি দিবস সন্ধ্যায় মাঠে নামবে বাংলাদেশ কলাবাগান ক্লাব থেকে অস্ত্র-মাদক উদ্ধার, সভাপতিসহ আটক ৫ আবুধাবি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী আরো দুটি ক্লাব ঘিরে রেখেছে র‌্যাব যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো পদে নেই জি কে শামীম যুবলীগের যেই গ্রেফতার হবে তাকেই বহিষ্কার: যুবলীগ চেয়ারম্যান মাদক ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে: তথ্যমন্ত্রী ক্যাসিনোগুলো বিএনপি আমলেও ছিল, ব্যবস্থা নেয়নি: কাদের জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের পর যুবলীগকে ধরেছি : প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে সংযমের সঙ্গে চলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর সাথে যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি দলের সাক্ষাত অবৈধ জুয়ার আড্ডা বা ক্যাসিনো চলতে দেওয়া হবে না: ডিএমপি কমিশনার পটুয়াখালীতে ধর্ষণ মামলার বাদীকে পেটানো প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার-৪ শাহজালালে বিমানের জরুরি অবতরণ শুক্রবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
৪৮

বিতর্কিত সেই তাহেরীর বিরুদ্ধে মামলা খারিজ

প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

বিতর্কিত বক্তা ও দাওয়াতে ইমানি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুফতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরীর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন মামলা খারিজের আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন মামলার আবেদনকারী ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী সদস্য মো. ইব্রাহিম খলিল। তিনি বলেন, তাহেরীর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন দুইদিন অপেক্ষমান রেখে আজ খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

গত রোববার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনাল আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে এ মামলার আবেদন করেছিলেন আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল। ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধের ওপর আঘাত সৃষ্টির অভিযোগে এ মামলার আবেদন করা হয়েছিল।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৮ ও ৩১ ধারায় মামলাটি করা হয়। গিয়াস উদ্দিন তাহেরী ছাড়াও এই মামলায় আরও ১০/১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী ইব্রাহিম খলিল আরজিতে উল্লেখ করেন, আসামি একজন ভণ্ড। তিনি নিজেকে মুফতি দাবি করলেও ইসলাম সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান নিয়ে সন্দেহ আছে। ওয়াজ-মাহফিলে আসামি ভক্তদের নিয়ে নেচে গান গাওয়া শুরু করেন। তাঁর এসব কর্মকাণ্ড ইসলামে বিদআত বলে গণ্য। তিনি ইসলাম ধর্মের অপপ্রচারকারী, ভণ্ড ও প্রতারক।

আরজি থেকে জানা গেছে, গেলো শনিবার সকাল ১০টায় বাদী ইব্রাহিম খলিল চেম্বারে এসে মেঘনা টিভি সিএম নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেখতে পান, ওয়াজে ইসলামকে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। ওয়াজ করছিলেন মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী।

মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর বিরুদ্ধে ইসলামকে ব্যঙ্গ করার অভিযোগে করা মামলার আরজিতে বলা হয়, যেহেতু বাদী একজন বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক, পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, অত্যন্ত শান্তশিষ্ট, সহজ-সরল, দেশপ্রেমিক, আইন মান্যকারী একজন প্রথম শ্রেণির নাগরিক বটে। অপরদিকে আসামি (তাহেরী) একজন ভণ্ড, প্রতারক, স্বার্থপর, ধর্ম ব্যঙ্গ প্রচারকারী।

আরজিতে বলা হয়, আসামি ইউটিউব চ্যানেলের লিংকের চার মিনিট ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, যেখানে আসামি একটি ওয়াজে বলেন, ‘ইউনিভার্সিটির কিছু মাইয়া আছে। হেরা মডেলিং করে তোয়ার কপালে বেহেশত নেই।’তাঁর এ বক্তব্য গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। কে বেহেস্তে যাবে, কে যাবে না— সেটা একমাত্র ধর্ম অনুযায়ী আল্লাহই জানেন।

আরজিতে আরো বলা হয়, আসামির করা অপর ভিডিওতে বলা হয়, একজন তাহাকে জিজ্ঞাসা করেন, বিড়ি খাওয়ার দোয়া কোনটা? তখন আসামি বক্তব্যে বলেন, ‘আল্লাহুম্মা বারেক লানা ফি মা বিড়ি টানা’ এ ধরনের কোনো দোয়া ইসলামের কোথাও বলা নেই। ওই বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মকে ব্যঙ্গ ও অবমাননা করা হয়েছে।

অপর ভিডিও লিংকে দেখা যায়, আসামি বলেছেন, ‘বসেন, বসেন বইসা যান। ঢেলে দেই।’ এ ধরনের সম্পূর্ণ অশ্লীল শব্দ ইসলাম ধর্মে উল্লেখ নেই। আসামি ওই লিংকের ভিডিওতে আরো বলেন, কিছু কিছু ইউটিবার ‘ধান্দাবাজ’ তিনি ‘চিশতীবিডি’ (chistybd) নামের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করার আহ্বান জানান।

আরজিতে উল্লেখ করা হয়, তাহেরীর এসব কর্মকাণ্ড ইসলামে বিদআত বলে গণ্য। তিনি ইসলাম ধর্মের অপপ্রচারকারী, ভণ্ড ও প্রতারক। ইউটিউব, ফেসবুকসহ তাঁর প্রচারিত ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, তিনি ওয়াজের মধ্যে নাচ-গান করেন।

ইসলাম ধর্মে নাচ-গান হারাম হলেও তিনি ভক্তদের নিয়ে নাচছেন। একটি ভিডিওর লিংকে ১০-১২ জন ভক্তকে তাঁকে নিয়ে নাচতে দেখা যায়। যেহেতু আসামির (গিয়াস উদ্দিন তাহেরী) এসব কর্মকাণ্ড আসামি নিজে ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মধ্যম ফেসবুকে প্রচার করে ইসলামের ধর্মীয় অনূভূতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর আঘাত সৃষ্টি করেছেন।

আসামির এসব ওয়াজ মাহফিলের নামে ভণ্ডামি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনলাইনে প্রচার করে ইসলাম ধর্মের মধ্যে ঘৃণা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে এবং মানুষকে ধর্মীয় সঠিক শিক্ষা না দিয়ে ভুল বুঝিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্ট করে আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটানোর উপক্রম রয়েছে।

আসামির এসব বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ড ভাইরাল হয়ে আলোচনার জন্ম দেয়। আসামির এসব কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও মুসলিম সম্প্রদায়সহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণার সৃষ্টি হয়েছে। মামলায় যথেষ্ট চাক্ষুষ ও দালিলিক সাক্ষ্য-প্রমাণাদি রয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর