রোববার   ২৬ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১২ ১৪২৬   ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
র‍্যাবের সঙ্গে `বন্দুকযুদ্ধে` দুই ডজন মামলার আসামি নিহত চীনে ভয়াবহ মহামারি : ইসলাম কী বলে? অনলাইনে যেভাবে সার্টিফিকেটের ভুল সংশোধন করবেন `ভয়াবহ পরিস্থিতি` মোকাবিলা করছে চীন: শি জিনপিং দারিদ্র্যতা দূর করলে সীমান্তে মাদক ব্যবসা বন্ধ হবে-র‍্যাব ডিজি যাত্রাপালা গ্রামীণ মানুষের বিনোদনের উত্তম মাধ্যম- ফরহাদ হোসেন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে মূল চালিকা শক্তি হবে তরুণরা: পলক রাবিতে র‌্যাগিংয়ের দায়ে শিক্ষার্থী বহিষ্কার বন্ধ হয়ে গেছে ফেসবুক নোটিফিকেশন! ছয় দিনে ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল বানাবে চীন! চীনের করোনা ভাইরাস নেপালে, সতর্কতা জারি ভারতে পদ্মশ্রী পাচ্ছেন বলিউডের চার তারকা  বাংলাদেশিদের জরুরি হটলাইন নম্বর জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাবেক ফুটবলার হোসে মোরিনহোর জন্ম চর উন্নয়ন অথরিটি থাকা জরুরি : ডেপুটি স্পিকার বঙ্গবন্ধু প্লান্টে মিটবে সুপেয় পানির সঙ্কট জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত খুবির দুই শিক্ষার্থী ১০ দিনের রিমান্ডে অনলাইনে পরিশোধ করা যাবে ভ্রমণ কর-এনবিআর চেয়ারম্যান ‘পদ্মভূষণ’ ও ‘পদ্ম শ্রী’ পুরস্কার পেলেন মোয়াজ্জেম-এনামুল নামাজে মনোযোগ ধরে রাখার বিশেষ কিছু উপায়
১৯

মানবতাবিরোধী অপরাধ: কায়সারের মৃত্যুদণ্ড বহাল

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২০  

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি)  প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ তার আপিল আংশিক মঞ্জুর করে রায় দেন।

এর আগে শুনানি শেষে গত ৩ ডিসেম্বর রায়ের জন্য ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন।

আদালতে কায়সারের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এস এম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

গত ১০ জুলাই এ আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নিজের নামে ‘কায়সার বাহিনী’ গঠন করে যুদ্ধাপরাধ সংঘটনকারী হবিগঞ্জ মহকুমার রাজাকার কমান্ডার ও শান্তি কমিটির সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে সর্বোচ্চ সাজাসহ ২২ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

একাত্তরে ১৫২ জনকে হত্যা-গণহত্যা, দুই নারীকে ধর্ষণ, পাঁচজনকে আটক, অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায় এবং দুই শতাধিক বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন ও ষড়যন্ত্রের ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে ১৪টিই প্রমাণিত হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে প্রথমবারের মতো অন্য অপরাধের পাশাপাশি ধর্ষণের দায়ে ফাঁসির আদেশ পান কায়সার। সাঁওতাল নারী হীরামনি ও অপর নারী মাজেদাকে ধর্ষণের অপরাধ দু’টি প্রমাণিত হয় রায়ে। ওই দুই বীরাঙ্গনা নারী ও ধর্ষণের ফলে বীরাঙ্গনা মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার প্রথমবারের মতো ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্যও দেন কায়সারের বিরুদ্ধে।

২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ফাঁসির সাজা বাতিল ও বেকসুর খালাসের আরজি জানিয়ে আপিল করেন (নম্বর: ০৪/২০১৫) কায়সার। ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিলের পক্ষে মোট ৫৬টি যুক্তি দেখিয়েছেন তিনি।

কায়সারের বিরুদ্ধে ৪৮৪ পৃষ্ঠার ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, একাত্তরে সৈয়দ কায়সার প্রথমে হবিগঞ্জ মহকুমার রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ৫০০/৭০০ স্বাধীনতাবিরোধী লোক নিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতা করতে নিজের নামে ‘কায়সার বাহিনী’ নামে বাহিনী গঠন করেন। তিনি নিজে ওই বাহিনীর প্রধান ছিলেন। ‘কায়সার বাহিনী’ নামাঙ্কিত এ বাহিনীর নিজস্ব ইউনিফর্মও ছিল।

কায়সার এ বাহিনীর মাধ্যমে হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বৃহত্তর কুমিল্লায় হত্যা, গণহত্যা, মুক্তিযোদ্ধা হত্যা, ধর্ষণ, হামলা, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালান। তিনি পাকিস্তানি সেনাদের পথ দেখিয়ে বিভিন্ন গ্রামে নিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের লোক এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ চালান।

রায়ের পর্যবেক্ষণে কায়সার বাহিনীকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী বাহিনী বা অক্সিলারি ফোর্স না বললেও ট্রাইব্যুনাল বলেন, এ বাহিনী ও সৈয়দ কায়সার ভিকটিম ও অপরাধ সংঘটনস্থল এলাকাগুলোর মানুষের কাছে ঘৃণিত হয়ে থাকবেন।

ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দেওয়ায় যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহারকে সাহসিকতার জন্য এবং সব নির্যাতিত নারী ও বীরাঙ্গনাদের স্যালুট জানান ট্রাইব্যুনাল।

বরগুনার আলো
এই বিভাগের আরো খবর