বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ১৮ ১৪২৬   ০৮ শা'বান ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে সমালোচনা করছে বিএনপি : কাদের দেশে আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৬ জন সুস্থ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেনাবাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে সরকার বিবেচনা করবে: সেনাপ্রধান করোনায় খাদ্য ঘাটতি হবে না : কৃষিমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখ‌ছেন প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে ৬৪ জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কনফারেন্স পিপিই যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনা মোকাবিলায় সরকার জনগণের পাশে আছে -প্রধানমন্ত্রী ছুটিতে কর্মস্থল ছাড়া যাবে না : সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন করোনা সংকটকালে জনগণের পাশে থাকবে আ.লীগ: কাদের আমি করোনায় আক্রান্ত হইনি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত নেই : আইইডিসিআর পদ্মা সেতু‌তে বসলো ২৭তম স্প্যান, দৃশ্যমান হলো ৪ হাজার ৫০ মিটার সব পোশাক কারখানা বন্ধের নির্দেশ পবিত্র শবে বরাত ৯ এপ্রিল অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাবেন না : প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মুক্তি পেলেন খালেদা জিয়া সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে আজ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
২৩৪৯

মেয়েকে দেখতে এসে গুজবের নিষ্ঠুরতায় লাশ হলেন মা

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০১৯  

সাভারের তেঁতুলঝোড়া এলাকায় ‘ছেলেধরা’ গুজবে পিটিয়ে হত্যা করা নারীর পরিচয় মিলেছে। ঘটনার চারদিন পর নিহত নারীর নাম সালমা বেগম (৪০) বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

নিহত সালমা বেগম মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার মুসলিমাবাদ গ্রামের বিল্লাল বেপারীর মেয়ে। তিনি ‘ছেলেধরা’ ছিলেন না। সন্তানদের দেখতে এসে গুজবে লাশ হলেন। বুধবার সাভার ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এমারত হোসেন নিহতের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত সালমা বেগমের চাচা কোহিনূর ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাতিজি সালমার সঙ্গে সাভারের ইমান্দিপুর এলাকার সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মিজানুরের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। ১০-১২ বছর আগে মিজানুর ভাতিজিকে ডিভোর্স দিয়ে আবারও বিয়ে করে। সালমা ও মিজানুরের ঘরে তিন মেয়ে আছে। দ্বিতীয় বিয়ের পর তিন মেয়ে মিতা, মনিকা ও মিসকাতকে নিজের কাছেই রেখে দেয় মিজানুর। ডিভোর্সের পর থেকে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার মুসলিমাবাদ গ্রামে বাবার বাসায় থাকতো সালমা। মাঝে মধ্যে মেয়েদের দেখতে মিজানুরের বাড়ি যেত। সাভারে এলে ব্যাংক কলোনি এলাকায় আমার বাড়িতেও আসতো সালমা।

কোহিনূর ইসলাম বলেন, মেয়েদের দেখতে সাভারের ইমান্দিপুর এলাকায় গেলে সালমাকে মারধর করতো মিজানুরের দ্বিতীয় স্ত্রী ও স্বজনরা। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আগেও সাভার মডেল থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০-২৫ দিন আগে মিজানুর বিদেশ থেকে সাভারের ইমান্দিপুরের নিজ বাড়ি আসে। ২০ জুলাই (শনিবার) ভোরে বাবার বাড়ি থেকে ইমান্দিপুরে মিজানুরের বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয় সালমা। সোমবার বিকেলে সালমাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। এরই মধ্যে বিষয়টি পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি আমরা। মিজানুর ও তার স্বজনরা সালমাকে ‘ছেলেধরা’ গুজবে গণপিটুনি দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এমারত হোসেন বলেন, তেঁতুলঝোড়া এলাকায় গণপিটুনিতে নিহত নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম সালমা বেগম। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। শনিবার দুপুরে তেঁতুলঝোড়া এলাকায় বাসাভাড়া নিতে গিয়েছিলেন সালমা।

নিহত সালমা বেগমের চাচা কোহিনূর ইসলামের অভিযোগের বিষয়ে এমারত হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের স্বামী মিজানুরের বাড়ির দূরত্ব অনেক বেশি। ফলে এ ঘটনায় স্বামীর সম্পৃক্ততা থাকার কথা নয়।

ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের দিন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এমারত হোসেন বলেছিলেন, প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আমরা জানতে পেরেছি ওই নারী বাসা খুঁজতে তেঁতুলঝোড়া এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে প্রথমে ফারুক নামের একজনের বাসায় যান ওই নারী। পরে ওই এলাকার সাবেক মেম্বার সোলায়মানের বাসায় যান তিনি। সেখান থেকে লোকজন তাকে ‘ছেলেধরা’ গুজবে আটক করে। পরে একই বাড়ির সামনের দোকানে ওই নারীকে গণপিটুনি দেয় উৎসুক জনতা।

খবর পেয়ে আমি তেঁতুলঝোড়া কলেজের পাশ থেকে গুরুতর অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাই। তবে পরবর্তীতে সোলায়মান মেম্বার ও ফারুকের বাসায় গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এফএম সায়েদ বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে। এটি ‘ছেলেধরা’ নয়, গুজবের কারণে ওই নারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

বরগুনার আলো
এই বিভাগের আরো খবর