বৃহস্পতিবার   ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৬   ০৩ রজব ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
আমার কাছে রিপোর্ট আসছে, কাউকে ছাড়ব না : প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় কিস্তির ২৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা বিটিআরসিকে দিল রবি মাধ্যমিক পর্যন্ত বিজ্ঞান বাধ্যতামূলকের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে বললেন প্রধানমন্ত্রী বরগুনায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত দুই আসামী গ্রেপ্তার আজকের স্বর্ণপদক প্রাপ্তরা ২০৪১ এর বাংলাদেশ গড়ার কারিগর যে কোন অর্জনের পেছনে দৃঢ় মনোবল এবং আত্মবিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পেলেন ১৭২ শিক্ষার্থী আজ ১৭২ শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন অশান্ত দিল্লিতে কারফিউ, নিহত ১৭ পিকে হালদারসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ বহাল ৭ মার্চ জাতীয় দিবস ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় ১৪ দিনেই ভালো হচ্ছেন করোনা রোগী : আইইডিসিআর মুশফিক-নাঈমে ইনিংস ব্যবধানে দূর্দান্ত জয় টাইগারদের পিলখানা ট্র্যাজেডি দিবস আজ রিফাত হত্যা মামলার আসামি সিফাতের বাবা গ্রেফতার কুষ্টিয়ায় জগো বাহিনীর প্রধানের ফাঁসি, ১১ জনের যাবজ্জীবন এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ করোনামুক্ত: আইইডিসিআর লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করতে বললেন রাষ্ট্রপতি নাঈমুল আবরার হত্যা : ৪ আসামিকে গ্রেফতারের নির্দেশ
৬০৯

যাদের আঘাত করলে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠে

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ২০ জুন ২০১৯  

ইসলাম সব শ্রেণির মানুষের অধিকারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে। সমাজে যারা প্রতিবন্ধী তাদের অবহেলা ও অবজ্ঞার চোখে দেখা উচিত নয়। কারণ মনে রাখা দরকার (আল্লাহ না করুন) বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও অসুস্থতার কারণে একজন সুস্থ মানুষও শারীরিক সক্ষমতা হারিয়ে প্রতিবন্ধী হয়ে যেতে পারেন।

তাই প্রত্যেক সুস্থ মানুষের শারীরিক সুস্থতার জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহমর্মিতার হাত বাড়ানো উচিত। কারণ তাদেরও স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে।

পবিত্র ইসলাম ধর্মে প্রতিবন্ধীদের উদ্দেশে আলোকপাত করা হয়েছে। তাদের প্রতি সচেতন হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের (বিত্তশালী) ধনসম্পদে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।’ –সূরা জারিয়াত : ১৯ প্রতিবন্ধী, পাগল, অবলা বা নারীদের শরীরে আঘাত করলে আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সমান চোখে দেখতেন।

মৃদু বাকপ্রতিবন্ধী সাহাবি হজরত বেলালকে (রা.) মসজিদে প্রথম মোয়াজ্জিন নিয়োগ দিয়েছিলেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমকে (রা.) নবী করিম (সা.) দুই-দুইবার মদিনার অস্থায়ী শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) যখনই তাকে (আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম) দেখতেন, তখনই বলতেন, ‘স্বাগতম জানাই তাকে, যার সম্পর্কে আমার আল্লাহ আমাকে ভর্ৎসনা করেছেন।’

প্রসঙ্গত, নবী করিম (সা.) সাহাবি আবদুল্লাহ উম্মে মাকতুমকে (রা.) কোনো এক বিষয়ে অগ্রাধিকার না দেয়ার ফলে আল্লাহতায়ালার সতর্কীকরণের মুখে পড়তে হয়।

এই ঘটনাটির বর্ণনায় পাওয়া যায়, একদিন নবী করিম (সা.) কোরাইশ নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময়ে অন্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.) সেখানে উপস্থিত হয়ে নবী করিমকে (সা.) দ্বীন সম্পর্কে শিক্ষা দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান। এতে আলোচনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হলে নবী করিম (সা.) কিঞ্চিৎ বিরক্তি প্রকাশ করেন।

নবী করিম (সা.) মক্কার জাত্যভিমানী কোরাইশদের মন রক্ষার্থে অন্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমের প্রতি তখন ভ্রুক্ষেপ করলেন না। কিন্তু আল্লাহর কাছে এ বিষয়টি পছন্দনীয় হয়নি। সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবন্ধীদের অধিকারবিষয়ক পবিত্র কোরআনে কারিমের আয়াত নাজিল হয়। ওই আয়াতে তাদের প্রতি ইসলামের কোমল মনোভাবের প্রকাশ পেয়েছে।

আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে, ‘সে ভ্রুকুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল, কারণ তার কাছে অন্ধ লোকটি এল। তুমি কেমন করে জানবে, সে হয়তো পরিশুদ্ধ হতো অথবা উপদেশ গ্রহণ করত। ফলে উপদেশ তার উপকারে আসত।’ -সূরা আবাসা : ১-৪ এরপর থেকে নবী করিম (সা.) প্রতিবন্ধীদের প্রতি সতর্ক হয়ে যান। এর পর থেকে তাদের প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।

প্রতিবন্ধীদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন নবী করিমের (সা.) সুন্নতও বটে। যেখানে নবীকে (সা.) আল্লাহ সতর্ক করেছেন, সেখানে সাধারণ মানুষ প্রতিবন্ধীদের প্রতি উদাসীনতা দেখালে নিশ্চয়ই আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন, এটা বলা অবাঞ্চনীয়।
 
আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব বানিয়েছেন। সমাজে সেই মানুষেরই একটা অংশ প্রতিবন্ধী। তারা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এছাড়া প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহমর্মিতা পরকালে মুক্তির উসিলা।

এদিকে প্রতিবন্ধীদের মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার ন্যূনতম মৌলিক অধিকারগুলো তাদেরও ন্যায্যপ্রাপ্য। তাই প্রতিবন্ধীদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা প্রদর্শন ও সহানুভূতিশীল হওয়া অবশ্যই প্রয়োজনীয়।

প্রসঙ্গত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, অসুস্থ (প্রতিবন্ধী) ব্যক্তির খোঁজখবর নাও এবং বন্দীকে মুক্ত করে দাও।’ –সহিহ বোখারি।

বরগুনার আলো
এই বিভাগের আরো খবর