• মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৭ ১৪২৭

  • || ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
দেশে একদিনে ৩৩ মৃত্যু, আক্রান্ত ২৯৯৬ করোনায় আরও ৩৯ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৯০৭ পদ্মা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সাহেদ ৭ দিনের রিমান্ডে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৪৮৭ দলীয় পরিচয় কোনো অপরাধীকে রক্ষা করতে পারেনি: কাদের লাইসেন্স নবায়ন না করলেই বেসরকারি হাসপাতাল বন্ধ দেশে করোনায় আরও ৩২ মৃত্যু, শনাক্ত ২৬১১ কাল অনলাইনে শুরু একাদশের ভর্তি, যেভাবে আবেদন করবেন সুযোগ আছে, করোনা সংকটেও বিনিয়োগ আনতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী আবের ফোন করোনায় আরও ৩৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২৬৫৪ কামাল বেঁচে থাকলে সমাজকে অনেক কিছু দিতে পারতো: শেখ হাসিনা সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহার মাকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৫০ মৃত্যু, শনাক্ত ১৯১৮ করোনায় আরও ৪৮ মৃত্যু, শনাক্ত ২৬৯৫ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অসচ্ছল গর্ভবতী নারীরা পাবে চার হাজার টাকা ঈদ-বন্যা ঘিরে করোনা সংক্রমণের হার বাড়তে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ট্রাফিক পুলিশ বক্সে বিস্ফোরণ, ‘নব্য জেএমবির সদস্য’ আটক করোনায় আরও ৩৫ মৃত্যু, শনাক্ত ৩০০৯ ১২ কোটি টাকা আত্মসাত করে গ্রেফতার যমুনা ব্যাংকের ম্যানেজার
১৬২

যেসব বান্দাকে জান্নাত দিয়ে খুশি হবেন আল্লাহ

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২০  

মৃত্যু যে কোনো সময় যে কোনো বয়সের মানুষেরই হতে পারে। আপন-পর, ছোট-বড় যে কেউ যে কোনো সময়ই মৃত্যুবরণ করতে পারে। আত্মীয়-স্বজন, আপন কিংবা পর যে বা যারাই মারা যাক, মৃত্যুর পর হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা শোক পালন করতে পারবে।

কোনো মানুষ যদি আত্মীয়-স্বজন কিংবা আপন জনের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ করে তবে আল্লাহ তাআলা ওই বান্দাকে চিরস্থায়ী জান্নাত দান করে সন্তুষ্ট হন। আল্লাহর কাছে বান্দার জন্য এটা অনেক বড় নেয়ামত। হাদিসে এসেছে-
 

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দুনিয়ার মধ্যে কারও কোনো আপনজন (আত্মীয়-স্বজন) মারা গেলে, সে যদি ধৈর্য ধারণ করে এবং আল্লাহর কাছে পুণ্যের (পুরস্কারের) আশা করে তবে আল্লাহ তাআলা ওই বান্দাকে জান্নাত দান করে তবেই সন্তুষ্ট হবেন।’ (সহিহ জামে)

মৃত্যুর পর শোক পালন সম্পর্কেও রয়েছে একাধিক হাদিসে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে-
>> হজরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘(ওহুদ যুদ্ধে) আমার পিতা (আব্দুল্লাহ) শহিদ হয়ে গেলে আমি তার মুখমণ্ডল থেকে কাপড় সরিয়ে কাঁদতে লাগলাম। লোকেরা আমাকে নিষেধ করতে লাগল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিষেধ করেননি। আমার ফুফি ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহাও কাঁদতে লাগলেন। এতে রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কাঁদ বা না-ই কাঁদ (উভয় সমান), তোমরা তাকে তুলে নেয়া পর্যন্ত ফেরেশতারা তাদের ডানা দিয়ে ছায়া দিয়ে রেখেছেন।’ (বুখারি, মুসলিম)

>> হজরত আবু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা আমাকে বলেছেন, ‘(রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের খবর পেয়ে) আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু সুনহে অবস্থিত তাঁর বাড়ি থেকে ঘোড়ায় চড়ে চলে এলেন এবং (ঘোড়া থেকে) নেমে মসজিদে প্রবেশ করলেন। সেখানে লোকদের সাথে কোনো কথা না বলে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘরে প্রবেশ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে অগ্রসর হলেন। তখন তিনি (রাসুলুল্লাহ) একখানি ‘হিবারাহ’ ইয়ামানী চাদর দ্বারা আবৃত ছিলেন।
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখমণ্ডল উম্মুক্ত করে তার উপর ঝুকে পড়লেন এবং চুমু খেলেন, তারপর কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন-
‘হে আল্লাহর নবি! আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আল্লাহ আপনার জন্য দুই মৃত্যু একত্রিত করবেন না। তবে যে মৃত্যু আপনার জন্য নির্ধারিত ছিল তা তো আপনি কবুল করেছেন।’ (বুখারি)

>> হজরত আব্দুল্লাহ ইবন জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাফর-এর পরিবারকে কান্না-কাটি করার জন্য তিনদিন সময় দিলেন। অতঃপর তিনি জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পরিবারের কাছে এসে বললেন, তোমরা আমার ভাইয়ের জন্য আজকের দিনের পরে আর কাঁদবে না।’ (আবু দাউদ)

মৃত্যু সুনিশ্চিত। এ মৃত্যু সম্পর্কে কুরআনের ঘোষণা- `প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর তোমরা কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ প্রতিদান পাবে। তারপর যাকে দোযখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, তার সফলতা ঘটবে। আর পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া অন্যকিছু নয়।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৮৫)

সুতরাং মৃত্যুতে শোক পালন করা গোনাহ নয়। আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুতে কান্না কিংবা চোখের পানি ফেলা নিষেধ নয়। তবে হাউমাউ করে কান্নাকাটি, বিলাপ বা রোনাজারি করা উচিত নয়।

বরং যারা হাউমাউ করে কান্নাকাটি বা বিলাপ করার পরিবর্তে শোক পালনের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ করবে আল্লাহ তাআলা সেসব ধৈর্যশীলদের জান্নাত দান করে সন্তুষ্টি লাভ করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আত্মীয়-স্বজন ও আপন জনের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহর দেয়া উপহার গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বরগুনার আলো