• সোমবার   ১৭ মে ২০২১ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৮

  • || ০৪ শাওয়াল ১৪৪২

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
২৪ ঘণ্টা করোনায় আরও ৪০ মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৪০ আল-আকসা মসজিদে হামলায় প্রধানমন্ত্রীর নিন্দা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে সরকার আন্তরিক: হানিফ লাইলাতুল কদর এক মহিমান্বিত রজনী: প্রধানমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় করোনায় দেশে ৪৫ মৃত্যু খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার প্রয়োজন নেই : হানিফ তাণ্ডবকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইনে পরীক্ষা নিতে পারবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজই ফিরছেন সাকিব-মুস্তাফিজ খালেদা জিয়ার আবেদন পেয়েছি, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে: আইনমন্ত্রী গ্রামে বাড়ি নির্মাণে ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি লাগবে: তাজুল করোনা প্রাণ নিল আরও ৫০ জনের, নতুন শনাক্ত ১৭৪২ ধান-চাল ক্রয়ের জন্য অত্যন্ত যৌক্তিক দাম নির্ধারণ: কৃষিমন্ত্রী শপিংমল খোলা রাত ৮টা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডবের ঘটনায় আরো ১০ জন গ্রেফতার করোনায় একদিনে আরও ৬১ জনের মৃত্যু জুনায়েদ আল হাবিব আরও ৪ দিনের রিমান্ডে নাশকতার মামলায় ফের ৫ দিনের রিমান্ডে মামুনুল হক জামায়াত-শিবিরের ৮ নেতাকর্মী আটক করোনায় প্রাণ গেল আরও ৬৫ জনের, শনাক্ত ১৭৩৯

যেসব বান্দাকে জান্নাত দিয়ে খুশি হবেন আল্লাহ

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২০  

মৃত্যু যে কোনো সময় যে কোনো বয়সের মানুষেরই হতে পারে। আপন-পর, ছোট-বড় যে কেউ যে কোনো সময়ই মৃত্যুবরণ করতে পারে। আত্মীয়-স্বজন, আপন কিংবা পর যে বা যারাই মারা যাক, মৃত্যুর পর হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা শোক পালন করতে পারবে।

কোনো মানুষ যদি আত্মীয়-স্বজন কিংবা আপন জনের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ করে তবে আল্লাহ তাআলা ওই বান্দাকে চিরস্থায়ী জান্নাত দান করে সন্তুষ্ট হন। আল্লাহর কাছে বান্দার জন্য এটা অনেক বড় নেয়ামত। হাদিসে এসেছে-
 

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দুনিয়ার মধ্যে কারও কোনো আপনজন (আত্মীয়-স্বজন) মারা গেলে, সে যদি ধৈর্য ধারণ করে এবং আল্লাহর কাছে পুণ্যের (পুরস্কারের) আশা করে তবে আল্লাহ তাআলা ওই বান্দাকে জান্নাত দান করে তবেই সন্তুষ্ট হবেন।’ (সহিহ জামে)

মৃত্যুর পর শোক পালন সম্পর্কেও রয়েছে একাধিক হাদিসে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে-
>> হজরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘(ওহুদ যুদ্ধে) আমার পিতা (আব্দুল্লাহ) শহিদ হয়ে গেলে আমি তার মুখমণ্ডল থেকে কাপড় সরিয়ে কাঁদতে লাগলাম। লোকেরা আমাকে নিষেধ করতে লাগল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিষেধ করেননি। আমার ফুফি ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহাও কাঁদতে লাগলেন। এতে রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কাঁদ বা না-ই কাঁদ (উভয় সমান), তোমরা তাকে তুলে নেয়া পর্যন্ত ফেরেশতারা তাদের ডানা দিয়ে ছায়া দিয়ে রেখেছেন।’ (বুখারি, মুসলিম)

>> হজরত আবু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা আমাকে বলেছেন, ‘(রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের খবর পেয়ে) আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু সুনহে অবস্থিত তাঁর বাড়ি থেকে ঘোড়ায় চড়ে চলে এলেন এবং (ঘোড়া থেকে) নেমে মসজিদে প্রবেশ করলেন। সেখানে লোকদের সাথে কোনো কথা না বলে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘরে প্রবেশ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে অগ্রসর হলেন। তখন তিনি (রাসুলুল্লাহ) একখানি ‘হিবারাহ’ ইয়ামানী চাদর দ্বারা আবৃত ছিলেন।
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখমণ্ডল উম্মুক্ত করে তার উপর ঝুকে পড়লেন এবং চুমু খেলেন, তারপর কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন-
‘হে আল্লাহর নবি! আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আল্লাহ আপনার জন্য দুই মৃত্যু একত্রিত করবেন না। তবে যে মৃত্যু আপনার জন্য নির্ধারিত ছিল তা তো আপনি কবুল করেছেন।’ (বুখারি)

>> হজরত আব্দুল্লাহ ইবন জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাফর-এর পরিবারকে কান্না-কাটি করার জন্য তিনদিন সময় দিলেন। অতঃপর তিনি জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পরিবারের কাছে এসে বললেন, তোমরা আমার ভাইয়ের জন্য আজকের দিনের পরে আর কাঁদবে না।’ (আবু দাউদ)

মৃত্যু সুনিশ্চিত। এ মৃত্যু সম্পর্কে কুরআনের ঘোষণা- `প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর তোমরা কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ প্রতিদান পাবে। তারপর যাকে দোযখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, তার সফলতা ঘটবে। আর পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া অন্যকিছু নয়।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৮৫)

সুতরাং মৃত্যুতে শোক পালন করা গোনাহ নয়। আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুতে কান্না কিংবা চোখের পানি ফেলা নিষেধ নয়। তবে হাউমাউ করে কান্নাকাটি, বিলাপ বা রোনাজারি করা উচিত নয়।

বরং যারা হাউমাউ করে কান্নাকাটি বা বিলাপ করার পরিবর্তে শোক পালনের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ করবে আল্লাহ তাআলা সেসব ধৈর্যশীলদের জান্নাত দান করে সন্তুষ্টি লাভ করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আত্মীয়-স্বজন ও আপন জনের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহর দেয়া উপহার গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বরগুনার আলো