শনিবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১২ ১৪২৬   ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
নাসিরুদ্দিন শাহ ও অনুপম খেরের বাকযুদ্ধ আকাশ থেকে মোবাইলে পদ্মাসেতুর ছবি তুললেন প্রধানমন্ত্রী চীনের রহস্যময় ভাইরাস বাদুড় ও সাপ হয়ে মানবদেহে! `শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি` এত গুণ পুদিনা পাতার? হাঁসের মাংসের কালিয়া দেশ গঠনে ক্যাডেটদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে-সেনাপ্রধান মুজিববর্ষ ঘিরে বিদেশিদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখি মেলা শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য মানবসম্পদ তৈরি: শিক্ষা সচিব মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যেই আ’লীগ কাজ করে যাবে-শেখ হাসিনা সোলেইমানি হত্যার নিন্দা জানানোয় কসোভোতে নারীর কারাদণ্ড বরিশাল বোর্ডে এসএসসিতে অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ২১ শতাংশ টুঙ্গিপাড়া যাত্রায় টোল পরিশোধ করলো আওয়ামী লীগ বিক্ষোভে জনসমুদ্র বাগদাদ, স্লোগানে কাঁপছে রাজপথ বিএনপি ভোট কারচুপির রাজত্ব সৃষ্টি করেছিল বলেই ইভিএম আনা হয়েছে বরগুনায় জেলেদের জালে ধরা পড়লো ৪শ কেজি ওজনের শাপলাপাতা মাছ বৈশ্বিক স্বাস্থ্যে এখনো ঝুঁকি নয় করোনা ভাইরাস: ডব্লিউএইচও সাকিবকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেন তামিম বাবার কবরের পাশে বসে প্রধানমন্ত্রীর কোরআন তেলাওয়াত

লাখো ফানুসের দখলে পুরান ঢাকার আকাশ

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২০  

পুরান ঢাকাবাসীর প্রাণের উৎসব ‘সাকরাইন’ শুরু আজ থেকে। দিনভর ঘুড়ি ওড়ানোর পর সন্ধ্যায় আতশবাজি, আগুন খেলা ও ফানুশ নিয়ে মেতে উঠেছে সবাই। কোনো ভবনের ছাদে দাঁড়ালে মনে হবে, লাখো ফানুসের দখলে পুরো আকাশ।

পঞ্জিকা মতে, বাংলা পৌষ মাসের শেষের দিন উদযাপন করা হয় পৌষসংক্রান্তি। তবে গত কয়েক বছর ধরে দু’দিন ধরে চলে সাইরাইনের আয়োজন। দুই দিনের এ উৎসবটি পুরান ঢাকাবাসী দুই অংশে বিভক্ত হয়ে উদযাপন করে।

সকালে ঢাকায় ঘন কুয়াশা থাকায় দুপুরের পর থেকে শুরু হয় এ উৎসব। সন্ধ্যা পর্যন্ত আকাশ জুড়ে উড়েছে নানান রঙের শত শত ঘুড়ি। ছাদে ছাদে সব বয়সীদের ভিড়। শিশু-কিশোররা ব্যস্ত ছিলেন ঘুড়ি নিয়ে। যুবক-বৃদ্ধারাও বসে ছিলেন না, একদিনের জন্য তারাও ফিরে গেছেন কৈশোরে। এ যেন আকাশ দখলের উৎসব!

বিকেল ঘনিয়ে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে চারপাশের পুরো চিত্রটাই বদলে গেল! যারা এতক্ষণ ঘুড়ি নিয়ে কাটাকাটিতে ব্যস্ত ছিল, তারা খেলছে আগুন খেলা। মুখে কেরোসিন নিয়ে আগুন ছুড়ে মারছে আকাশের দিকে। প্রতি সাকরাইনে মুখে কেরাসিন নিয়ে আগুন ফুঁ দেন তন্ময়। এই খেলায় কখনো দুর্ঘটনা ঘটেছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগুন নিয়ে খেলা করার সময় পুরান ঢাকায় এখনো কোনো দুর্ঘটনার খবর জানি না। তবে ছাদে ঘুড়ি উড়ানোর সময় অনেকেই ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

 

 

সাকরাইনের ইতিহাস অনেক পুরনো। একসময় শুধু ঘুড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এই উৎসব। এরপর যোগ হলো ফানুস ও আতশবাজী। গত কয়েকবছর ধরে একই সঙ্গে চলে গভীর রাত পর্যন্ত গান বাজনার আয়োজন। অনেকে এ নিয়ে বিরক্ত। 

পুরান ঢাকার বাসিন্দা আকমল সিকদার বলেন, ঘুড়ি উৎসবটি শুরু হয়েছে ব্রিটিশ আমলে। তখন উৎসবটি সনাতন ধর্মের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, আর এখন আমরা সবাই পালন করি। কিন্তু এরমধ্যে যে পশ্চিমা সংস্কৃতি ঢুকে পড়েছে, তা নিয়ে আমরা হতাশ।

সাকরাইনে পুরান ঢাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইদের নাটাই, বাহারি ঘুড়ি উপহার দেয়া এবং পিঠার ডালা পাঠানো একটি অবশ্য পালনীয় অঙ্গ। ডালা হিসেবে আসা ঘুড়ি, পিঠা আর অন্যান্য খাবার বিলি করা হয় আত্মীয়-স্বজন এবং পাড়ার লোকদের মধ্যে।

প্রাচীনকাল থেকেই পৌষকে বিদায় জানাতে মাঘ মাসের প্রথমদিন পুরান ঢাকাইয়ারা আয়োজন করে সাকরাইন উৎসব। সাকরাইন উৎসব আজ পুরান ঢাকার বর্ণিল ঐতিহ্যের অংশ হয়ে গেছে। 

পুরান ঢাকার লক্ষীবাজার, জুরাইন, সূত্রাপুর, ওয়ারী, বংশাল, বাবু বাজার, মিলব্যারাক, হাজারীবাগ, সদরঘাট, নবাবপুর, লালবাগ, চকবাজার এলাকায় আজ চলছে এ উৎসব। বুধবার তাঁতীবাজার, শাঁখারি বাজার, পাটুয়াটুলি, রায় সাহেব বাজার, নয়াবাজার, আরমানিটোলা ও বংশালের প্রতিটি ভবনের ছাদে থাকবে উৎসবের আমেজ।

বরগুনার আলো
এই বিভাগের আরো খবর