বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ১ ১৪২৬   ১৭ সফর ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
মুখের কথায় চলে সাইদের ‘আশ্চর্য মোটরসাইকেল’ নীলনদের তীরে মিললো ‘গুরুত্বপূর্ণ’ প্রাচীন কফিন    পর্দা নামলো ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড এক্সপোর কুষ্টিয়ায় শুরু হলো তিনদিন ব্যাপী লালনমেলা বাংলাদেশই বিশ্বসেরা, প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৮ শতাংশ হাজার কোটি টাকার চেকের কপি প্রতারক চক্রের বাসায়! ৯ কর্মীকে তলব, একজনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ইন্দোনেশিয়া থেকে সরাসরি পণ্য আমদানির সুযোগ চায় বাংলাদেশ পার্বত্য জেলায় সন্ত্রাস-মাদক নির্মূল করা হবে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাবেক সহকারী কর কমিশনারকে গ্রেপ্তার করল দুদক র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ পেলেই শাস্তি: আইনমন্ত্রী একাদশ সংসদের পঞ্চম অধিবেশন শুরু ৭ নভেম্বর যেখানে দুর্নীতি-টেন্ডারবাজি সেখানে অভিযান- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফাহাদ হত্যা মামলায় বিশেষ প্রসিকিউশন টিম হবে: আইনমন্ত্রী ন্যাম সম্মেলনে যোগ দিতে বাকু যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী রিফাত হত্যা : প্রধান আসামির জামিন নামঞ্জুর বিএসএমএমইউয়ে বিশ্ব অ্যানেসথেসিয়া ও মেরুদণ্ড দিবস পালিত মুন্সিগঞ্জের ১৩টি সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
১৬

শিশু ধর্ষণে কোনও সেনা সদস্যের সম্পৃক্ততা মিললে সিভিল জেল

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০১৯  

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আইএসপিআর (আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর) থেকে বিফ্রিং দেওয়া হয়েছে। বিগ্রেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে কোনও সেনা সদস্যের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে শুধু চাকরিচ্যুৎ নয়, তাকে সিভিল জেলেও পাঠানো হবে।’ বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সকালে তিনি বগুড়া সেনানিবাসে আর্মার্ড কোর সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে ষষ্ঠ সাঁজোয়া কোরের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমাদের সব কার্যক্রম অতি স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হয়, কোনও কিছু লুকানোর নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় ১.২ মিলিয়ন রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতা প্রশংসিত হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি সেনাবাহিনীও এদের নিয়ে কাজ করছে। শিশু ধর্ষণের ঘটনাস্থলে শুধু সেনাবাহিনী নয় অন্যান্য বাহিনীর টহলও ছিল। ক্যাম্পগুলো থেকে রোহিঙ্গারা বের হয়ে যাচ্ছে, বিভিন্ন স্থানে ধরাও পড়ছে। তারা দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টাও করছে। তাই অপরাধ ঠেকাতে, রোহিঙ্গাদের গতিবধি নিয়ন্ত্রণ ও তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাতটি ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে।’

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাসদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী হামলাসহ বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, ‘শান্তি চুক্তির আওতায় সেখানে সেনা সদস্য কমিয়ে ও অনেক ইউনিট গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। শান্তি চুক্তিতে শর্ত ছিল শান্তি বাহিনী ও অন্যরা কোনও অস্ত্র রাখবে না। কিন্তু তারা সে শর্ত ভঙ্গ করে যাচ্ছে। ইউপিডিএফের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেফতারও করা হচ্ছে। চাঁদাবাজিসহ অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিজেদের মধ্যে অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা শান্তি চুক্তির শর্ত পালন করছে না। তাই আমরা অতীতের চেয়ে কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছি।’

সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হচ্ছে। এরপর সব নিয়ন্ত্রণ হবে।’

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের সাংবাদিকরা যুদ্ধ বিগ্রহ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেননি। আমরা এটা কামনাও করি না। এরপরও শান্তিকালীন বা যুদ্ধকালীন ডিফেন্সের জন্য সাংবাদিকের জন্য একটি ফ্যাকাল্টি খোলা হয়েছে। আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকরা এতে প্রশিক্ষণ লাভ করবেন।’

এর আগে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সাঁজোয়া কোরের পুনর্মিলনী প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। বগুড়া সেনানিবাসের আর্মার্ড কোর সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে এই পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সামরিক-অসামরিক কর্মকর্তারা ছাড়াও আর্মার্ড কোরের অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিরত কর্মকর্তারা অংশ নেন।

প্যারেড পরিদর্শন শেষে সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ তার বক্তব্যের শুরুতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার রূপকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সেনা বাহিনীর সাঁজোয়া কোরের সদস্যরা ‘প্রাণ দেবো, মান নয়’ মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত। এ কোরের সদস্যরা দেশের অভ্যন্তরে যে কোনও দুর্যোগময় মুহূর্তে ও জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকার সাঁজোয়া কোরের আধুনিকায়নে অত্যাধুনিক যুদ্ধযান ট্যাংক এমবিটি-২০০০ ও রিকভারি যান সংযোজন করেছে। এছাড়াও ১৬ ক্যাভ্যালরি ও ২৬ হর্স নামে আরও দুটি রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দেশ এবং দেশের বাইরের যে কোনও হুমকি মোকাবেলায় সেনাবাহিনীকে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শীতায় অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আরও যুগোপযোগী ও আধুনিক হয়ে গড়ে উঠবে।’

এই বিভাগের আরো খবর