রোববার   ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৩০ ১৪২৬   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
বন্দে আলী মিয়ার জন্ম ‘২ ঘণ্টার মধ্যে উড়ে যাবে সালমান খানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট!’ গরুর খামারে কম্বল দান করলেই মিলবে বন্দুকের লাইসেন্স! আজ প্রকাশ হবে রাজাকারদের তালিকা সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞ খুঁজছেন ব্রিটেনের রানি শামীমের ৩৬৫ কোটি টাকা, খালেদের ৩৪, সম্রাটের ‘তেমন নেই’ মাকাসিদুশ শরিয়া তত্ত্বের প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ লড়েছেন মোসাদ্দেক, জিতেছে ঢাকা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে সচেতন থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী মোশতাক, জিয়ার মতো মীরজাফররা আর যেন ক্ষমতায় না আসে-প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন বরগুনায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত বুদ্ধিজীবী দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের শাহাদতবার্ষিকী আজ বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় শেখ হাসিনা আজকের নবীন কর্মকর্তারাই হবেন ৪১ সালের সৈনিক : প্রধানমন্ত্রী ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বয়স্ক বাবা-মাকে না দেখলে জেল
১১৭

সাগরে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০১৯  

 

৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা পর কাঙ্খিত  ইলিশ ধরা পড়ায় খুশি তারা। পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়ায় স্বরূপে ফিরেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র (বিএফডিসি) বরগুনার পাথরঘাটা।
মৌসুমের শুরুতে ৬৫ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় এত দিন জেলেরা মাছ শিকার করতে পারেনি। নিষেধাজ্ঞা শেষে এখন বঙ্গোপসাগর ও তার মোহনাসংলগ্ন বিষখালী, বলেশ্বর নদী ও গভীর সমুদ্রে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। কাঙ্খিত ইলিশ ধরা পড়ায় হাসি ফুটে উঠেছে জেলে, আড়ৎদার ও মৎস্যজীবীদের মুখে। তাই স্বরূপে ফিরেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র (বিএফডিসি) বরগুনার পাথরঘাটা।
মাছভর্তি নৌযান কিংবা ট্রলার নিয়ে জেলেরা গভীর সমুদ্র থেকে হাসিমুখে ফিরছেন ঘাটে। আবার অনেকে মাছ ধরার জন্য ছুটছেন সাগরপানে। জেলে, আড়ৎদার ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের এখন দম ফেলার ফুরসত নেই। কেউ ইলিশ মাছের ঝুড়ি টানছেন, কেউ প্যাকেট করছেন, আবার কেউ কেউ সেই প্যাকেট দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে তুলে দিচ্ছেন ট্রাকে। সব মিলিয়ে যেন আনন্দের জোয়ার বইছে। অন্য দিকে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বরফ কলের শ্রমিকরাও। ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় উপকূলীয় জেলে পল্লিগুলোতে স্বস্তি ফিরেছে।
এদিকে, অবরোধ চলাকালে ভারতীয় জেলেরা মাছ না ধরলে ইলিশের পরিমাণ আরও বাড়ত বলে দাবি উপকূলের জেলেদের। মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, গত দুই মাস ধরেই এমন ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়েছে। যা ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় জেলেরা।
মৎস্য বিভাগ বলছে, মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধিতে ৬৫ দিন সাগরে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা সব ধরনের মাছ শিকার থেকে বিরত ছিলেন। যা ফলপ্রসূ হয়েছে। সাগর ও নদীতে ইলিশের পরিমাণ বাড়ছে।
গতকাল শনিবার গ্রেড অনুযায়ী মণপ্রতি ইলিশ বিক্রি হয়েছে, ফিশিং প্রথম গ্রেট ২১ থেকে ২৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় গ্রেট ১৭ থেকে ১৯ হাজার টাকা। লোকাল প্রথম গ্রেট ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকায়। দ্বিতীয় গ্রেট ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা, তৃতীয় গ্রেট ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা ধরে কেনাবেচা চলছে। এছরাও এক কেজির বড় সাইজ ৫৫ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা ধর পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।
জেলেরা জানান, ইলিশ মৌসুমের শুরুতেই সরকার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। মাছ ধরতে না পেরে জেলেদের না খেয়ে দিন পার করতে হয়েছে এতদিন। ট্রলার মালিকসহ মৎস্য পেশার সঙ্গে জড়িত সবাই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। তবে সাগরে এখন প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। সামনের দিনগুলোতে আরও বেশি ইলিশ পাবেন এমনটাই আশা করছেন তারা।
উপজেলার রুইতা এলাকার ট্রলার শ্রমিক বাবুল মিয়া জানান, ট্রলার সকালেই ঘাটে নোঙর করেছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে গিয়ে যে মাছ পেয়েছেন তাতে খুশি তিনি। এবার প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো মাছ বিক্রি করতে পারবেন।
আড়তদার শেখর চন্দ্র জানান, সাগর থেকে কিছু ট্রলার ঘাটে আসছে, তাদের প্রতেকেই কম-বেশি মাছ পাচ্ছে। বিক্রি করেও ভালোই লাভ করছে তারা। তাই ইলিশের দাম মধ্যম পর্যায়ে রয়েছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাহ্ফুজুল হাসনাইন জানান, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি প্রশাসনের ব্যাপক ভূমিকা ছিল। বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতাবিষয়ক সভা-সভাবেশ করা হয়েছে। এতে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা এসেছে। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা সব ধরনের মাছ শিকার থেকে বিরত ছিলেন। যে কারণে বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবার ইলিশ ধরা পড়ছে বেশি। প্রচুর বৃষ্টি হলে আরও বেশি ইলিশ ধরা পড়বে।

এই বিভাগের আরো খবর