বুধবার   ২৩ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৭ ১৪২৬   ২৩ সফর ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
সুস্মিতা সেন আজ ঢাকায় আসছেন নুসরাত হত্যা মামলার রায় আগামীকাল একজন মায়ের গল্প ইমিগ্রেশন: চোখের আইরিশের তথ্য দেবে ইসি তরুণদের দেখে আমি গর্বিত: সজীব ওয়াজেদ তিন হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা বুধবার বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল করেছে স্থিতিশীল সরকার- আইন মন্ত্রী সেতু বিভাগ, পাট ও পিএসসিতে নতুন সচিব ঘুষের টাকাসহ দুদকের হাতে রাজস্ব কর্মকর্তা আটক আবারও ১৪ ভারতীয় জেলে আটক সাতটি অভ্যাস মানুষের ধ্বংস ডেকে আনে দেশজুড়ে তরুণদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে: সজীব ওয়াজেদ চিফ হুইপের সঙ্গে ত্রিপুরা কংগ্রেসের চিফ হুইপের সাক্ষাৎ বাড়তি সুযোগের আশায় ভাসানচর যেতে রাজি রোহিঙ্গারা সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ পথ ছাড়লেন নেতানিয়াহু একনেকে ৫ প্রকল্পের অনুমোদন, ব্যয় হবে ৪৬৩৬ কোটি কানাডায় আবারও জয়ী জাস্টিন ট্রুডো নকশা না মেনে গাড়ি নামালে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী গতিশীল নেতৃত্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী এখন বিশ্ব নেতা- কাদের বছরের প্রতিটি দিনই সড়ক নিরাপদ রাখতে হবে: পলক
২০

হ্রদে নামতেই পাথর হয়ে যাচ্ছে পশুপাখি !

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

হ্রদে নামতেই পাথর হয়ে যাচ্ছে পশুপাখি! বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও বিষয়টি সত্যি। দক্ষিণ আফ্রিকার তানজানিয়ার উত্তর প্রান্তে রয়েছে এই হ্রদটি। এর নাম নেট্রন। এই লবণাক্ত হ্রদে পশুপাখি নামলেই আর উঠতে পারে না।

নেট্রন হ্রদটি দৈর্ঘ্যে ৫৭ কিলোমিটার এবং প্রস্থে ২২ কিলোমিটার। এওয়াসো নায়াগ্রা নদীর পানি এসে পড়ে এখানে। আশপাশের বেশ কয়েকটি উষ্ণ প্রস্রবণের পানিও এই হ্রদে পড়ে। এর ফলে বিভিন্ন খনিজে সমৃদ্ধ এর পানি। এই হ্রদ নিয়ে বহু কথা শোনা গেলেও কোন কিছুরই প্রমাণ ছিল না।

২০১১ সালে নিক ব্রান্ডট নামে এক ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার নেট্রন হ্রদের সামনে গিয়ে চমকে গিয়েছিলেন। হ্রদের তীরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ছিল অসংখ্য পশুপাখির দেহ। ব্রান্ডট জানান, সেগুলো দেখে মনে হচ্ছিল যেন কোন পাথরের মূর্তি সাজিয়ে রাখা হয়েছে!

এর পর এই রহস্য জানতে শুরু হয় গবেষণা। এই গবেষণায় উঠে আসে, নেট্রন হ্রদের পানিতে সোডিয়াম কার্বোনেট এবং সোডার পরিমাণ অত্যধিক বেশি। এর কারণ হিসেবে পাওয়া যায়, প্রচুর সোডিয়াম ও কার্বোনেট যুক্ত ট্র্যাকাইট লাভা দিয়ে প্রায় ২৬ লাখ বছর আগে প্লিসটোসিন যুগে তৈরি হয়েছিল নেট্রন হ্রদের তলদেশ।

বিভিন্ন পরীক্ষায় উঠে আসে, নেট্রন হ্রদের পানি অস্বাভাবিক ক্ষারধর্মী, যার পিএইচ ১০.৫। এই ক্ষারধর্মী পানি ত্বককে পুড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। যা পশুপাখির পক্ষে অসহনীয়।

বছরের বেশির ভাগ সময় হ্রদের পানির তাপমাত্রা থাকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যার ফলে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। আর তলদেশে পড়ে থাকে পানির মতো তরল লাভা। সোডিয়াম ও কার্বোনেটের জন্য হ্রদে জন্ম নেয় সায়োনোব্যাকটিরিয়া নামে অণুজীব। এই অণুজীবের শরীরে লাল রঞ্জক থাকে। ফলে হ্রদের পানি লাল রঙের দেখা যায়। 

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই রঙেই আকৃষ্ট হয়ে পশুপাখি হ্রদে নামে। কিন্তু পানির অতিরিক্ত ক্ষারধর্মীর জন্য সেগুলো আর উঠতে পারে না, মৃত্যু হয় অবধারিত।

নেট্রন হ্রদের পানি ক্ষারধর্মী হলেও এই হ্রদই পূর্ব আফ্রিকার লেসার ফ্লেমিঙ্গোদের সবচেয়ে বড় এক প্রজনন ক্ষেত্র। প্রায় ২৫ লাখ লেসার ফ্লেমিঙ্গো এই হ্রদে দেখতে পাওয়া যায়। কারণ এই হ্রদের অগভীর পানিতে পাওয়া যায় প্রচুর নীলাভ-সবুজ শৈবাল। এই শৈবাল খেয়েই তারা বেঁচে থাকে এবং বংশ বৃদ্ধি করে।

এক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের ধারণা, হ্রদের এই ক্ষারধর্মীর সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়েছে এই ফ্লেমিঙ্গোরা। যার কারণে নেট্রন হ্রদের পানিতে ফ্লেমিঙ্গোদের জমাট দেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি।