শনিবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৪ ১৪২৬   ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
বিপিএলে প্রথম শিরোপার স্বাদ পেলো রাজশাহী আদালতে মজনুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেমে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা যাবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি শুরু প্রথম আলোর সম্পাদকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আমরা ক্রসফায়ারকে সাপোর্ট করতে পারি না : ওবায়দুল কাদের পোশাক রপ্তানিকে ছাড়িয়ে যাবে আইসিটি : জয় বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু কাল বিশ্ব ইজতেমার ২য় পর্বে ময়দানে আসতে শুরু করেছেন মুসল্লিরা অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথে বাংলাদেশ: সংসদে প্রধানমন্ত্রী রিফাত হত্যা : দুই আসামি জামিনে মুক্ত দুর্নীতি মামলা : বিএনপি প্রার্থী ইশরাকের বিচার শুরু কাদেরের বাইপাস পরবর্তী স্বাস্থ্যের উন্নতি, দেশে ফিরছেন রাতেই  এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ সঠিক পথে রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী আবুধাবি থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী সরকারের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে: আইআরআই ওমানের সুলতানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা আবুধাবি থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী পদ্মাসেতুতে বসলো ২১তম স্প্যান,দৃশ্যমান হলো ৩ হাজার ১৫০ মিটার রিট খারিজ, নির্ধারিত তারিখেই হচ্ছে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন
১৭৭

১৪ বছর ধরে শিকলে বন্দি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র বজলুর রহমান

প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

 

ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র বজলুর রহমান (৪৯) গত ১৪ বছর ধরে শিকলে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের টুংরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে। 

বজলুর রহমান ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে ১৯৯৬ সালে বিএসসি এজি অনার্স পাস করেন। সে সময় কারও সঙ্গে দেখা হলে অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের কী পরিহাস, সে দিনের সেই মেধাবী ছাত্রের এখন কাটাতে হচ্ছে শিকলবন্দি জীবন।

সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি দরজা খোলা ঘরের ভেতরে পাতলা একটি কাপড় গায়ে জড়িয়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় বসে আছেন বজলুর রহমান। মেঝের মাঝখানে পোঁতা একটি বাঁকা লোহার সঙ্গে কয়েকটি তালা দিয়ে দেড়ফুট লম্বা শিকল পায়ের সঙ্গে লাগানো। ঘরে মধ্যে মলমূত্র ত্যাগ করায় প্রতিদিন ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করেন। তাছাড়া অপুষ্টিতে ভোগার কারণে শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ। তার চেহারায় দেখা যায় বার্ধক্যের ছাপ। কোনো কিছু জানতে চাইলে প্রলাপ বকেন। স্মৃতিভ্রষ্ট হওয়ায় নিজ সন্তানদের কথাও কিছু বলতে পারেন না তিনি।

বজলুর রহমানের বৃদ্ধা মা জানান, প্রায় ২০/২২ বছর আগে তার ছেলে মানসিক ভরসাম্যহীন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করিয়ে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তাকে বিয়ে করানো হয়। বিয়ের পর শিফাত ও সুপ্তি নামে দুটি কন্যা সন্তানের বাবা হন তিনি। পুনরায় তার অবস্থা খুব খারাপের দিকে গেলে পাঁচ/ছয় বছরের মাথায় তার দুই মেয়েকে রেখে স্ত্রী চলে যায়। 

এরপর মস্তিস্ক সম্পূর্ণ বিকৃত হওয়ার কারণে নানা রকম উৎপাত শুরু করায় নিরাপত্তার জন্য ভাইয়েরা তাকে শিকলে বেঁধে ঘর বন্দি রাখেন। ঘুমান কীভাবে জানতে চাইলে তিনি জানান, হাঁটু ঘেরে মেঝেতে উভো হয়ে কখনো বা বসা অবস্থায় ঘুমান। 

পারিবারিকভাবে জানা যায়, বজলুর রহমানের চাচাদের তত্ত্বাবধানে দুই মেয়ের লেখাপড়া চলাকালীন সিফাতের বিয়ে দেওয়া হয়। বজলুর ছোট মেয়ে সুপ্তি এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

এ ব্যাপারে কথা হয়, বজলুর রহমানের বন্ধু ও তার সহপাঠী ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অধ্যাপক ওমর ফারুক মানিকের সঙ্গে। তিনি জানান, ৮৮/৮৯ ব্যাচে তারা দুজনেই ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি এজি অনার্স ভর্তি হন। বজলু ‘এ’ সেকশনে সোহরাওয়ার্দী হলে আর তিনি ‘বি’ সেকশনে আশরাফুল হক হলে ছিলেন। বজলু লেখাপড়ায় বরাবরই এগিয়ে থাকত। দেখা হলে অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলত। সেশন জটের কারণে ১৯৯৬ সালে তারা অনার্স ফাইনাল সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়।

ভালুকা উপজেলা ধীতপুর ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আশরাফুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বজলুর রহমান অত্যন্ত ভালো একজন মানুষ। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। 

এ অবস্থায় এ লাকাবাসী বজলুর রহমানের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে একজন কৃষিবিদকে অকাল মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করার সরকারের কাছে আকুল আবেদন ও দাবি জানান।

এই বিভাগের আরো খবর