শুক্রবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২১ ১৪২৬   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
বিএনপিপন্থিদের হট্টগোল কলঙ্কজনক-আদালত অবমাননা অন-অ্যারাইভাল ভিসাসহ বাংলাদেশ-ভারতের নৌপথে খুলছে অনেক জট ‘বিশ্বসুন্দরী’র রোমান্টিক গান নিয়ে হাজির সিয়াম-পরী মেয়েদের রৌপ্য, বাকী জিতেছেন ব্রোঞ্জ আইনজীবী তালিকাভুক্তি নিবন্ধন পরীক্ষা ২৮ ফেব্রুয়ারি পদক পাচ্ছেন ডিজিসহ বিজিবির ৬০ সদস্য আখেরাতের জীবন চিরস্থায়ী ডাক ও টেলিযোগাযোগের নতুন সচিব নূর-উর রহমান মানুষের রক্ত চুষে বড় লোক হবেন না: রাষ্ট্রপতি অপরাধীদের স্থান আওয়ামী লীগে নেই: ওবায়দুল কাদের সরকারিভাবে স্যানিটারি ন্যাপকিন ফ্রি পাবে মেয়েরা হ‌লি আ‌র্টিজান মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের স্নেহশীল হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির কিডনি দান করা যাবে, কেনাবেচা যাবে না: হাইকোর্ট বাংলাদেশে কোনো আর্থিক সংকট নেই: স্পিকার টেলিযোগাযোগ বিভাগে নতুন সচিব, ট্যারিফ কমিশনে চেয়ারম্যান গণতন্ত্র এখন মজবুত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত: রাষ্ট্রপতি বাড়াবাড়ির একটা সীমা থাকা দরকার: প্রধান বিচারপতি তরুণদের মেধাশ্রম মানব কল্যাণে ব্যয় করার আহ্বান
১৬২

৪ বছর গর্তে আটকে থাকা কাদেরের রহস্যময় গল্প

প্রকাশিত: ৩ আগস্ট ২০১৯  

বাংলা-ইংরেজি দুই ভাষাতেই সমানে লিখতে পড়তে পারেন। শুদ্ধ সুন্দর করে কথা বলতে পারেন। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে হেঁটেছেন উচ্চশিক্ষার পথেও। অথচ ভাগ্যবিড়ম্বিত কাদেরের জীবন এখন আটকে গেছে একটি গর্ত ও তার ভেতরে পড়ে থাকা মেহগনি গাছের গুঁড়িতে।

আব্দুল কাদের একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। বয়স প্রায় ৫৩ বছর। বাড়ি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের শাহাজাতপুর গ্রামে। পাইকগাছার রাড়ুলি আর.কে.বি.কে হরিশচন্দ্র কলেজিয়েট ইন্সটিটিউট থেকে ১৯৮২ সালে মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। ১৯৮৫ সালে কপিলমুনি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর একই কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় আকস্মিক মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটে তার।

পারিবারিক সূত্র জানায়, তালা উপজেলার শাহাজাতপুর গ্রামের শওকত আলী মোড়লের তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে এম এম আব্দুল কাদের সবার বড়। একসময় পারিবারিক সচ্ছলতা ভালো না থাকলেও শওকতের বিদ্যানুরাগী মনোভাব সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে অনুপ্রাণিত করে। তবে ভাগ্য বিড়ম্বিত আব্দুল কাদেরকে আর এগুতে দেয়নি নির্মম নিয়তি। জমি-জমা সংক্রান্ত একটি পারিবারিক বিরোধ আকস্মিক থমকে দেয় তার গতিময় জীবন। যার জের ধরে তারই এক চাচাতো ভাই তাকে হত্যার উদ্দেশে তাল কাঠের রুল দিয়ে নির্মম নির্যাতন করে। এতে সে প্রাণে বেঁচে গেলেও চরমভাবে মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটে তার। এরপর সর্বস্ব বিক্রি করে চিকিত্সায় সেবারের মত প্রাণে বেঁচে গেলেও আর ভাল হয়ে ওঠেননি আব্দুল কাদের। বন্ধ হয়ে যায় তার পড়া-লেখা। এরপর কিছু দিন অন্তর অন্তর আকস্মিক মাথায় গণ্ডগোল, স্থানীয় চিকিত্সায় আবার ভাল হয়ে ওঠা। এলাকাবাসীর পরামর্শে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত আসে হয়তো দাম্পত্য জীবনে মস্তিষ্কের সফলতা অসতে পারে। বিয়েও দেয়া হয় তাছলিমা নামে এক মেয়ের সাথে। দাম্পত্য জীবনে এক মেয়ে ফাতেমার জন্ম হয়। তবে মেয়ের জন্মের কিছুদিন পর তাছলিমার মৃত্যু ঘটে। নিঃসঙ্গতায় ফের পাগলপ্রায় অবস্থা হয় তার। এরপর ফের তাকে জুলেখা নামে এক মেয়ের সাথে বিয়ে দেয়া হয়। নতুন করে দাম্পত্য জীবনে তাদের দু’কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। যার একজন আসমা খাতুন ও অপরজন ফাইম খাতুন।

আব্দুর কাদেরর দাম্পত্য জীবন শুরু হলেও সুখের হয়নি। ছোট মেয়ে ফাইমার জন্মের পরেই একেবারেই বিগড়ে যান কাদের। স্বজনদের ধরে মারপিট, ভাঙচুর ও প্রতিবেশীদের ক্ষতিসাধন শুরু করতে থাকেন। প্রতিদিন বাড়তে থাকে তার পাগলামি। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা বাধ্য হয়ে তাকে প্রথমে বারান্দায় হাতে-পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা শুরু করেন। তবে, সারাক্ষণ উচ্চস্বরে চিত্কার ও অশ্লীল বাক্যবাণে বিরক্ত হয়ে পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ ফুট দূরে বাগানের মধ্যে গাছে বেঁধে রাখা শুরু করেন। বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানদের ফেলে এখন তার ঠাঁই হয়েছে বাড়ির পাশের বাগানের মধ্যে অন্ধকার গর্তে। রাত-দিন ঝড়-বৃষ্টিতে এক হাত ও পায়ে শিকলে বাঁধা পড়েছে তার গদ্যময় নিঃসঙ্গ জীবন। সব আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন-সাধ আটকে গেছে আঁটসাঁট একটি গর্ত ও তার উপর পড়ে থাকা একটি ছোট মেহগনি গাছের উপর। এভাবেই গত প্রায় চারটি বছর অন্ধকার গর্তেই নিঃসঙ্গতায় কাটছে তার জীবন।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে চিরাচরিত স্বভাবেই দেখা যায় তাকে। তবে কথোপকথনে মোটেও মস্তিষ্ক বিকৃত বলে মনে হয়নি। প্রথম দেখাতেই সাংবাদিকদের দেখে সালাম দেন তিনি। তারপর একে একে তার জীবনের সব ঘটনার নির্ভুল বর্ণনা দিতে থাকেন। কখনো পুরনোকে মনে করে আবেগ আপ্লুত হতে দেখা যায় তাকে। এ সময় তিনি তার শৈশব-কৈশোরের সব স্মৃতির রোমন্থন করতে থাকেন। তবে তাকে করা সব প্রশ্নের উত্তর দেন মধুর কণ্ঠে সুরে সুরে। তবে কথার ফাঁকে ফাঁকে নিজের শিকলে বাঁধা জীবন থেকে ক্ষণিকের জন্য হলেও মুক্তির আকুতি জানান।

এই বিভাগের আরো খবর