• মঙ্গলবার   ০৭ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২২ ১৪২৭

  • || ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪১

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
চলে গেলেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর করোনায় আরও ৪৪ মৃত্যু, শনাক্ত ৩২০১ ভিসার মেয়াদ বাড়ালো সৌদি আরব: পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ২৭৩৮, মৃত্যু ৫৫ কাউকেই ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে না: বিদ্যুৎ সচিব আজ থেকে অধস্তন আদালতে আত্মসমর্পণ করা যাবে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ২৯ মৃত্যু, শনাক্ত ৩২৮৮ বেতন-ভাতা পরিশোধে মালিকরা সহমর্মিতার নজির দেখাবেন : কাদের পাটকল শ্রমিকরা দুই ধাপে সব পাওনা পাবে: পাটমন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ৪০১৯, মৃত্যু ৩৮ চালের বাজার অস্থিতিশীল করলে কঠোর ব্যবস্থা : খাদ্যমন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ৩৭৭৫, মৃত্যু ৪১ যত্রতত্র পশুরহাটের অনুমতি দেওয়া যাবে না- ওবায়দুল কাদের জঙ্গিবাদ দমনে সফলতা ধরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছি: র‌্যাব ডিজি ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৬৪ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৬৮৩ শিগগিরই আরও ৪ হাজার নার্স নিয়োগ: প্রধানমন্ত্রী করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ মৃত্যু, শনাক্ত ৪০১৪ অর্ধশত যাত্রী নিয়ে বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি, উদ্ধার কাজ চলছে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৮০৯
৮৪

৭০ হাজার মানুষের কঙ্কালে সাজানো গির্জা!

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০১৯  

ভ্রমণপিপাসুদের কাছে জনপ্রিয় একটি নাম কুতনা হোরা। চেক প্রজাতন্ত্রের ছোট্ট এই শহরটি এমনিতে বেশ ছিমছাম আর সাজানো-গোছানো। তবে, সেখানে পর্যটকেরা যান আরও একটি জায়গা দেখতে। সেটি হচ্ছে বিখ্যাত সেডলেক ওসারি বা কঙ্কালের গির্জা। প্রায় ৪০ থেকে ৭০ হাজার মানুষের হাড়গোড় দিয়ে বানানো হয়েছে গির্জার বিভিন্ন জিনিসপত্র। প্রতি বছর অন্তত দুই লাখ পর্যটক কঙ্কালের গির্জা দেখতে এ শহরে যান।  

বাইরে থেকে একেবারেই সাধারণ,  দেখতে আর দশটা গির্জার মতোই। কিন্তু, ভেতরে গেলে মনে হবে, কোনো এক অস্থি সংরক্ষণাগারে চলে এসেছেন। রক্ত-মাংসের নিচে মানুষ যে একটি কঙ্কাল ছাড়া কিছু নয়, হয়তো সেটাও মনে পড়ে যাবে। 

কী আছে সেডলেক ওসারিতে?

গির্জাটি ইউরোপের মধ্যযুগীয় স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম নিদর্শন। গির্জার গম্বুজের চূড়ায় সোনালি রঙের মাথার খুলি ও হাড়ের নান্দনিক নকশা (ক্রসবোন)। আর চারপাশে অনেকখানি জায়গা জুড়ে রয়েছে একটি কবরস্থান।  

গির্জার ভেতরের দেয়ালসহ বিশালাকার ছাদ সাজাতে ব্যবহার করা হয়েছে অসংখ্য মানুষের হাড়গোড়। ছাদ থেকে ঝুলছে বিরাট এক ঝাড়বাতি, সেটাও তৈরি হয়েছে মানুষের মাথার খুলি ও হাড়গোড় দিয়ে। ধারণা করা হয়, ঝাড়বাতিটি তৈরি করতে মানুষের শরীরের ২০৬ ধরনের হাড়ের প্রতিটিই ব্যবহার করা হয়েছে।

কঙ্কালের তৈরি ঝাড়বাতি। ছবি: সংগৃহীত

এছাড়া, গির্জার ভূগর্ভস্থ কক্ষে পিরামিড আকারে নান্দনিকভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে অসংখ্য কঙ্কাল। 

একসময় এই জায়গায় কোনো গির্জা ছিল না, শুধু ছোট একটি কবরস্থানই দেখা যেতো। ১২০০ সালের দিকে এক পাদ্রী জেরুজালেম থেকে কিছু মাটি সংগ্রহ করে ওই কবরস্থানে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনার পর ওই এলাকার মানুষ পূণ্যলাভের আশায় মৃত্যুর পরে সেখানে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছাপোষণ করেন। ধীরে ধীরে জায়গাটি সবচেয়ে জনপ্রিয় সমাধিক্ষেত্র হয়ে ওঠে।  

১৪০০ সালের দিকে ইউরোপে ‘ব্ল্যাক ডেথ’-এর কারণে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়। তাদের অনেককেই কুতনা হোরার ওই কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। একসময় সমাধিক্ষেত্রটিতে নতুন করে কাউকে সমাহিত করার মতো আর জায়গা পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন অনেকটা ‘অস্থি সংরক্ষণাগার’ হিসেবে সেখানে একটি গির্জা নির্মাণ করা হয়। এরপর গির্জার ভেতরেই সমাহিত করা হতো মৃতদের।

বিভিন্নভাবে সাজানো মাথার খুলি ও হাড়গোড়। ছবি: সংগৃহীত
১৫০০ সালের দিকে মৃত মানুষের মাথার খুলি ও হাড়গোড় গির্জায় সাজিয়ে রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয় এক খ্রিস্টান মঠকে। ১৭০০ সালের দিকে স্থপতি জ্যান সান্তিনি আইচেল গির্জাটি পুনর্নির্মাণ করেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্নজন গির্জার ভেতরে মৃতের হাড়গোড় ও কঙ্কাল সাজিয়ে রাখার দায়িত্ব পালন করেছেন। 

সম্প্রতি এই গির্জার ভেতরে সেলফি তোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে, দর্শনার্থীরা একেবারেই ছবি তুলতে পারবেন না, তা নয়। গির্জার ভেতরে ছবি তোলার জন্য তিন দিন আগে থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে রাখতে হবে। মৃতদের অসম্মান করে অশালীন ছবি তোলা ঠেকাতে এই উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বরগুনার আলো
ইত্যাদি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর