• বৃহস্পতিবার   ১৯ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৯

  • || ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
কক্সবাজার হবে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের রিফুয়েলিং পয়েন্ট কক্সবাজারে যত্রতত্র স্থাপনা নির্মাণ না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে কউক’র নতুন ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর টোল নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি আওয়ামী লীগ সরকার আছে বলেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে- প্রধানমন্ত্রী ওপেনিংয়ে চতুর্থ সেরা জুটি গড়ে ফিরলেন জয়, তামিমের সেঞ্চুরি নিত্যপণ্যের দাম কেন চড়া, জানালেন প্রধানমন্ত্রী স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: শেখ হাসিনা দেশের মানুষের শেষ ভরসাস্থল শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির নিরাপদ আশ্রয়স্থল শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ইতিহাসে মাইলফলক: রাষ্ট্রপতি চার দশকেরও বেশি সময় শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে আ.লীগ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্য সাশ্রয় করুন: প্রধানমন্ত্রী সবাই স্বাধীনভাবে সরকারের সমালোচনা করতে পারে: প্রধানমন্ত্রী টাকা অপচয় করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী ‌ঢাকায় বসে সমালোচনা না করে গ্রামে ঘুরে আসুন বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছে ফেলতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী আমিরাতের নতুন প্রেসিডেন্টকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন শেখ হাসিনাকে স্পেনের সরকার প্রধানের শুভেচ্ছা পি কে হালদার গ্রেফতার নানামুখী ষড়যন্ত্র হচ্ছে, সতর্ক থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র; নতুন যুগের সূচনা

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২২  

পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে অনেক আগ থেকেই। অর্ধ শতাব্দী আগে শুরু হওয়া এই প্রযুক্তি বিদ্যুৎ উৎপাদনে বর্তমানে ব্যবহার করছে বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশ। তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে পারমাণবিক এই উৎপাদন প্রযুক্তি বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আমাদের দেশে ১৯৬১ সালে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মা নদী তীরবর্তী রূপপুর-কে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

১৯৯৭ সালের ১৬ অক্টোবর তৎকালীন সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরই মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পথে পা দেয় এবং দেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ ক্লাবে পদার্পণ করে। আশা করা যাচ্ছে ২০২৩-২৪ সাল নাগাদ এ কেন্দ্র উৎপাদিত বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে।

তবে বাংলাদেশে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ সম্পর্কে অনেকের মধ্যেই অজানা উদ্বেগ কাজ করছে বলে জানা যায়। 

যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনগণের মধ্যে অনেকের সীমিত জ্ঞানের কারণে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে অহেতুক উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাস্তবতা হলো আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার গাইডলাইন এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রূপপুর প্রকল্প সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এই প্রকল্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে একধরণের সন্দেহ সবসময়ই ছিলো, কিন্তু রাশিয়ার পারমাণবিক নিরাপত্তা ও বিকিরণ নিয়ন্ত্রণের সর্বাধুনিক ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রকল্পের বর্জ্য অপসারণের যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সেটি সত্যিই প্রশংসনীয়।

প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে জানা যায়, পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় এবং রাশিয়ান ফেডারেশনের নির্মিত প্রযুক্তির অ্যাকটিভ ও প্যাসিভ সেফটি সিস্টেমের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় কোনো ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকবে না। এটাও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে যে কোনো দুর্ঘটনায় এর তেজস্ক্রিয় পদার্থ লোকালয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কাজেই এটাকে ঝুঁকিমুক্তই বলা যায়।

দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ অপরিহার্য। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রথমেই প্রয়োজন পর্যাপ্ত এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ। দেশের সকল মানুষের কাছে এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সেক্টরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বর্তমান পারমানবিক বিদ্যুৎ দিয়ে যেসব সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে, তন্মধ্যে: পারমাণবিক প্রযুক্তি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বাধুনিক নিরাপদ প্রযুক্তি এবং নিশ্চয়তাদানকারী টেকসই উৎস, এটা জ্বালানী শক্তি আমদানিতে নির্ভরতা হ্রাস করে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি একটি উপায় যা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে নির্ভরযোগ্য ও উন্নততর করে, আন্তর্জাতিক শক্তি-সরবরাহ বাজারে নিয়মিতভাবে তেল/গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি শক্তিতে উন্নত দেশসমুহে তেল/গ্যাস-এর মজুদ দ্রুত হ্রাস পেতে থাকা, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল/গ্যাস-এর মূল্য সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ হ্রাসের মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান।

প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রকল্পের মোট ব্যয় ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে ১ বিলিয়নের কিছু বেশি। এবং রাশিয়া লোন দেবে ১১ বিলিয়নের মতো। আর ২টি রিএক্টর চালু হওয়ার পর প্রতি বছর কিস্তি পরিশোধ করতে হবে ৫৬৫ মিলিয়ন ডলার। যেহেতু কিস্তি পরিশোধ করতে হবে তাই এই প্রকল্পের রিটার্ন থেকে কিস্তির অর্থ উঠে আসার কথা মাথা রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এখানে ভর্তুকি দেয়ার সুযোগ নেই। 

এ প্রসঙ্গে একজন অর্থনীতিবিদ ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, প্রতি বছর বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে কমপক্ষে ৭৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার লাভ বের হবে। যার ফলে খুব সহজেই ৫৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে পারবে বাংলাদেশ। এভাবে বিশ বছরে কিস্তি পরিশোধ করেও প্রতি বছর ২০০ মিলিয়ন লাভ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ১২ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প থেকে ৬০ বছরে ফেরত আসবে প্রায় ৬৬ বিলিয়ন ৭৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।  এছাড়াও ৬০ বছর পরেও আপগ্রেড করে প্রকল্পটি চালানো যাবে। বিশ্ব পরিস্থিতিতে আমদানি নির্ভর জ্বালানি থেকে তৈরি বিদ্যুতের অনিশ্চয়তার ঝুঁকি কাটবে। এর ফলে নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা। এটা অন্যতম একটি বড় ভ্যালু এ প্রজেক্টের। সাথে এ প্রকল্পকে ঘিরে যে বিপুল সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি তৈরি হচ্ছে তা দেশের অ্যাসেড হিসেবে কাজ করবে।

উল্লেখ্য, বহুল আকাঙ্ক্ষিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হলে উৎপন্ন বিদ্যুৎ জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাবে। দেশের অর্থনীতির চাকাকে আরও সচল ও মজবুত করবে। পরিবেশ দূষণের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে।

বরগুনার আলো