বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ১ ১৪২৬   ১৭ সফর ১৪৪১

রিফাত হত্যাকান্ড : মিন্নি অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বরগুনার আলো

প্রকাশিত : ১২:১১ পিএম, ১১ জুলাই ২০১৯ বৃহস্পতিবার

হত্যার প্রেক্ষাপট ও কারণঃ
স্কুল জীবন থেকেই আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সাথে তার নিহত স্বামী রিফাত শরীফের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মিন্নি আইডিয়াল কলেজ উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার পর জুয়েল নামক একজন ছেলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। কিছুদিন পর তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয় এবং মিন্নি পুনরায় নিহত রিফাত শরীফের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। মিন্নি ও রিফাত শরিফের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি অনেকেই জানতো।বছর দুয়েক পর তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়।তখন মিন্নি সাব্বির আহম্মেদ নয়ন (ওরফে নয়ন বন্ড) এর দিকে ঝুঁকে পড়ে।এলাকায় নয়ন বন্ডের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকায় মূলত মিন্নি নয়নের প্রতি আকৃষ্ট হলেও নয়ন বন্ডের সান্নিধ্যে মিন্নির ইয়াবায় আসক্তি তৈরি হয় বলে জানা যায়। দুই পরিবারের অভিভাবক দের অজান্তে ও অনুপস্থিতিতে গত ১৫ ই অক্টোবর ২০১৮ তারিখে কাজী অফিসে গিয়ে মিন্নি ও নয়ন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। 

একদিকে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার কারণে নয়নের সাথে মিন্নির দূরত্ব তৈরী হওয়া এবং অন্যদিকে অব্যাহত পারিবারিক চাপে মিন্নি মাত্র ৬ মাস পর নয়নকে ছেড়ে সামাজিকভাবে তার প্রাক্তন প্রেমিক রিফাত শরিফকে গত ২৬ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে বিবাহ করে। দ্বিতীয় বিবাহের পূর্বে মিন্নি নয়ন বন্ডকে তালাক প্রদান করেছিলেন কিনা তার কোন দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নয়ন বন্ড তার বিবাহিত স্ত্রীকে পুনরায় বিবাহ করায় রিফাত শরীফের প্রতি অত্যন্ত ক্ষিপ্ত ছিল। অন্যদিকে ভয়ে অথবা অনুরাগের বশবর্তী হয়ে অথবা ইয়াবা আসক্তির কারণে মিন্নি নয়নের সাথে ও গোপনে যোগাযোগ  রেখে চলেছিল। ফলে নয়নের ক্ষোভ এককভাবে রিফাত শরীফের উপর পড়েছিল এবং তাকে সরাতে পারলেই মিন্নির দখল পাওয়া যাবে ভেবে মূলত নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী মিলে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে খুন করার পরিকল্পনা করে। নয়ন ভন্ড রিফাত ফরাজী কর্তৃক পরিচালিত ‘০০৭’ ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপে  তারা মেসেজ দিয়ে গত ২৬ জুন ২০১৯ তারিখ সকালে সকলকে কলেজ গেটে একত্রিত হতে বলে এবং মাহাথির মোহাম্মদ নামক একজনকে রামদা নিয়ে আসতে বলে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী কতৃক কোপানোর দৃশ্য অত্যন্ত স্পষ্ট এবং রিশান ফরাজী এসময় রিফাত শরীফকে জাপটে ধরে থাকেন বলে দেখা যায়। হত্যাকান্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী এই তিন জন ব্যতীত আরও ১২-১৫ জন এই হত্যা কান্ডের সাথে প্রত্যক্ষ/পরোক্ষ ভাবে জড়িত ছিল।