বৃহস্পতিবার   ২৪ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৮ ১৪২৬   ২৪ সফর ১৪৪১

বামনায় তিন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টায় গ্রেফতার ২  

বরগুনার আলো

প্রকাশিত : ০৪:৫৩ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রোববার

 

বরগুনার বামনা উপজেলার রামনা শেরে বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া তিন ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে দুই স্কুল শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে বামনা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বামনা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।   
মামলার আসামিরা হলো, উত্তর রামনা গ্রামের খলিলুর রহমান খানের ছেলে মিলন খান (১৬) ও একই গ্রামের সুলতান হাওলাদারের ছেলে সুজন হাওলাদার (১৬)। 
শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় উপজেলার রামনা লঞ্চঘাট এলাকার সিকদার বাড়ির পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে একই বিদ্যালয়ের তিন স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ওই দুই স্কুলছাত্র।
নির্যাতিতা স্কুল ছাত্রীরা জানায়, তারা তিনজন মিলে গোপনে একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতো। ঘটনাটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানতে পারে। বিষয়টি সে তার এক বন্ধুকে জানায়। বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় ছুটির পর ওই ছাত্রীদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। ওই ফোনটি ফিরে পেতে তারা দুইজন ছাত্রীদের কাছে এক হাজার টাকা দাবি করে। ছাত্রীরা ওই টাকা দিতে রাজি হলে তাদেরকে টাকা নিয়ে রামনা লঞ্চঘাট এলাকার সিকদার বাড়ির একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে আসতে বলে। ছাত্রীরা তাদের মোবাইল ফোন ফেরত নিতে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেখানে যায়। সেখানে ওত পেতে থাকা দুই শিক্ষার্থী তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদেরকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ছাত্রীরা সংখ্যায় তিনজন হওয়ায় তাদের ধর্ষণ চেষ্টা ব্যর্থ হয়। 
ভুক্তভোগী ছাত্রীরা অভিযোগ করে বলে, ওরা ধর্ষণ করতে অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু না পেরে  আমাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় ও তাদের ফোন দিয়ে জোর করে কয়েকটি ছবি তোলে। এই ঘটনাটি কাউকে জানালে ওই ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে আমরা সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি জানাই। 
বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম জানান, নির্যাতিত অষ্টম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী এসে  তার কাছে কান্নায় ভেঙে পরে। পরে তাদের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দশম শ্রেণির ছাত্রকে তাৎক্ষনিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী কক্ষে আটকে রাখে এবং রামনা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। 
অভিযুক্ত ওই স্কুল ছাত্রকে প্রথমে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রাখে পরে রামনা থানা পুলিশ গিয়ে গ্রেফতার করে। অপর অভিযুক্ত ছাত্র পালিয়ে যাওয়ার সময় রামনা খেয়াঘাট থেকে স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। 
রামনা থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম মাসুদুজ্জামান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে পুলিশ তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় নির্যাতিত ছাত্রীদের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে মামলায় দুইজনকে আসামি করা হয়েছে এবং দুজনকেই বরগুনা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।