• রোববার ২৬ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪৩১

  • || ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪৫

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
ঢাকাবাসীকে সুন্দর জীবন উপহার দিতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড় রেমাল : ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়: প্রধানমন্ত্রী সকালেই প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে রেমাল, আছড়ে পড়বে মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড় রেমাল : পায়রা ও মোংলা বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত ঢাকায় কোনো বস্তি থাকবে না, দিনমজুররাও ফ্ল্যাটে থাকবে অগ্নিসংযোগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি বঙ্গবাজারে বিপণী বিতানসহ চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন নজরুলের বলিষ্ঠ লেখনী মানুষকে মুক্তি সংগ্রামে উদ্দীপ্ত করেছে জোটের শরিক দলগুলোকে সংগঠিত ও জনপ্রিয় করতে নির্দেশ সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে রেমাল বঙ্গবাজার বিপনী বিতানসহ ৪ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী কৃষিতে ফলন বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তি সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী বাজার মনিটরিংয়ে জোর দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদক’ দেবে বাংলাদেশ ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক রাইসি-আমির আব্দুল্লাহিয়ান মারা গেছেন: ইরানি সংবাদমাধ্যম সকল ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিতে কাজ করছে বিএসটিআই: প্রধানমন্ত্রী চাকরির পেছনে না ছুটে যুবকদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান

সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৩  

সারা দেশেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। সরকারি হিসাবে ইতোমধ্যে দেশের ৫৭টি জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও জেলা-উপজেলায় মশক নিধন কার্যক্রম তেমন একটা নেই। এ অবস্থায় দেশজুড়ে ডেঙ্গু আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

দেশে গত একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সর্বোচ্চ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ডেঙ্গুতে চলতি বছর মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ জনে। সেই সঙ্গে রেকর্ড হয়েছে এক দিনে হাসপাতালে রোগী ভর্তিতেও। এ দিন নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৩৬ রোগী। এ নিয়ে চলতি মাসের ৯ দিনে দেশে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলো ৪ হাজার ৪৭৬ জন। আর এ সময় মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত একদিনে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৩৬ জন। এরমধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৫১৬ জনকে। আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৩২০ জনকে।

ঢাকায় সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী সামাল দেওয়া মুগদা হাসপাতালে সপ্তার ব্যবধানে রোগী বেড়েছে দ্বিগুণ। গত ১ জুলাই সেখানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ৬০ জন, সেদিন চিকিৎসাধীন মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২৩২ জন। এক সপ্তাহ পরে সেখানে ভর্তি হয়েছে ১১১ জন আর চিকিৎসাধীন মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৪৩৬।

প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। ফলে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলার ৬০১, ৬০২ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে পুরুষ এবং অষ্টম তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে নারী রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ৭ম তলার একটি ওয়ার্ডে নারী এবং আরেকটি ওয়ার্ডে পুরুষ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আশরাফুল আলম বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেলে সারাবছরই রোগীর চাপ থাকে। এরমধ্যে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। তবে হাসপাতালে চিকাৎসা বা থাকার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। হাসপাতালের ওয়ার্ডের বারান্দায় অতিরিক্ত বিছানা করা হয়েছে। অনেকেই বিছানা না পেয়ে ফ্লোরিং করছেন।

ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া যাচ্ছে চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম বিভাগে এখন রোগী যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে মৃত্যু। এরপরই বা তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বরিশাল বিভাগ।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় যশোর সদর ও অভয়নগরকে ডেঙ্গুর ‘রেডজোন’ ঘোষণা করেছে উপজেলাকে স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলায় লাফিয়ে-লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গুজ্বর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ৯ দিনে জেলায় মোট ৮০ জন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।

জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক বলেন, দ্রুত গতিতে যশোরে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। জেলার সদর উপজেলা এবং অভয়নগর উপজেলাকে ‘রেডজোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। ডেঙ্গু মোকাবেলায় সব ধরণের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নিয়েছি।

তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, ‘আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু আরও বাড়তে পারে। সরকার একা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না, জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। যার যার বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। যেখানে মশা জন্ম নেয় সেখানে স্প্রে করে লার্ভা ধ্বংস করতে হবে।’

গতকাল দুপুরে মানিকগঞ্জের গড়পাড়ায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে ডেঙ্গুতে প্রায় ১২ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে আড়াই হাজার রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ৯ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি। চিকিৎসক ও নার্সদের এ ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশে যত মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন, তার ৬০ ভাগই ঢাকায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনেক রোগী ভর্তি আছেন। আমরা ডেঙ্গু মোকাবিলা করে চলেছি। আমরা সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাকে আহ্বান করব তারা যেন বেশি বেশি মশা নির্মূলে স্প্রে করে। এখন বৃষ্টি হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় আটকে থাকা পানিতে মশা জন্ম নিচ্ছে, লার্ভা হচ্ছে।’

সরকারি হিসাবে ৫৭ জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়লেও সিটি করপোরেশন এলাকা ছাড়া জেলা-উপজেলা শহর ও গ্রামে মশকনিধন কার্যক্রম খুব একটা চোখে পড়ছে না। সিটি করপোরেশন এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চললেও জনবল ও যন্ত্রপাতির অনেক ঘাটতি রয়েছে। তবে পৌর এলাকার পরিস্থিতি অনেকটাই নাজুক। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মশক নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যক্রমই নেই। কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া সব ইউনিয়ন পরিষদই মশা নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র, ওষুধ ও জনবলশূন্য।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন শুধু সিটি করপোরেশন এলাকায় নয়, ইউনিয়ন পর্যায়েও মশক নিয়ন্ত্রণে সক্রিয়তা প্রয়োজন।

মশক বিশেষজ্ঞ ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘সিটি করপোরেশনেরই তো প্রয়োজনীয় যান-যন্ত্রপাতি নেই। তাহলে জেলা-উপজেলা-ইউনিয়নে কীভাবে থাকবে। পৌরসভাগুলোতে দু-একটি ফগার মেশিন আছে। তাদের রুটিনমতো কাজ করার কোনো লোক নেই। উপজেলা পর্যায়ে তো কোনো কিছুই নেই।’

বরগুনার আলো