• বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১১ ১৪৩১

  • || ১৫ শাওয়াল ১৪৪৫

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী আজ থাইল্যান্ড যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরালো হয়েছে ঢাকা ও দোহার মধ্যে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কাতারের বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাতার আমিরের বৈঠক ঢাকা সফরে কাতারের আমির, হতে পারে ১১ চুক্তি-সমঝোতা জলবায়ু ইস্যুতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি নিয়েছে বাংলাদেশ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সর্বদা প্রস্তুত : প্রধানমন্ত্রী দেশীয় খেলাকে সমান সুযোগ দিন: প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার মধ্য দিয়ে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে: রাষ্ট্রপতি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা নেই: প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশুপালন ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের তাগিদ জাতির পিতা বেঁচে থাকলে বহু আগেই বাংলাদেশ আরও উন্নত হতো মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রতি নজর রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী আজ প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন মন্ত্রী-এমপিদের প্রভাব না খাটানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দলের নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানায় শেখ হাসিনা মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

প্রহসন এবং কলঙ্কিত সেই ১৫ ফেব্রুয়ারি আজ

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি। ১৯৯৬ সালের এই দিনে বাংলাদেশে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিরোধী দলগুলোর বর্জন ও প্রতিরোধের মুখে অনুষ্ঠিত হয়। বিতর্কিত এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে এক কলঙ্কের ছাপ রেখেছিল। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচনকে ভুতুড়ে নির্বাচন হিসেবেও আখ্যা দেওয়া হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি ২৭৮টি আসন লাভ করে, বিরোধী কোনো রাজনৈতিক দল এই সংসদে ছিল না।

ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রচলনের আন্দোলনের পটভূমিতে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি ছিল সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রচলন করা, যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সব রকমের সহায়তা দেবে। ওই সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি। বিএনপির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র জামায়াত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে অনড় থাকায় ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও গোটা ১৯৯৫ সাল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে সংসদ ও সংসদের বাইরে আন্দোলন অব্যাহত রাখে। বিরোধী দল আওয়ামী লীগ সংসদ থেকে পদত্যাগও করে।

তারপরও খালেদা জিয়া পঞ্চম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আনা প্রস্তাব তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিষয়ে কোনো আলোচনা করতে রাজি হননি। সে কারণে দেশে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। সরকারি দল বিএনপি এবং বিরোধী দল আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে বিরোধ সৃষ্টি হয় সেটি নিরসনের জন্য কমনওয়েলথ মহাসচিবের বিশেষ দূত স্যার নিনিয়ান স্টেফান ঢাকায় এসে মধ্যস্থতা করার মাধ্যমে নিষ্পন্নের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ঢাকা ত্যাগ করেন। এরপর বিএনপি এককভাবে বিচারপতি এ কে এম সাদেকের নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ যেকোনো মূল্যে অনুষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেয়।

সব রাজনৈতিক দল এই নির্বাচন শুধু বর্জনই করেনি, প্রতিহত করতে রাস্তায় নামে। নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তাদের কেউই তেমন কোনো প্রচারে অংশগ্রহণ করেননি। নির্বাচনের দিন অনেক জায়গায় ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ ভোটারদের তীব্র ক্ষোভের প্রকাশ ঘটে। এরপরও নির্বাচনে ২১ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি দেখানো হয়। বস্তুত ওই দিন ভোটকেন্দ্রে বিএনপির দলীয় ভোটাররাও আতঙ্কিত হওয়ার কারণে ভোট দিতে উপস্থিত হননি। বিভিন্ন কেন্দ্রে সিল মারার দৃশ্য পরদিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এভাবেই ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্নের ব্যবস্থা করা হয়।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচনটি সব মহলের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়। এই অগ্রহণযোগ্য নির্বাচনে জয় লাভ করে বিএনপি বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারেনি।বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে ৩০ মার্চ সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে ষষ্ঠ সংসদ এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয় মেয়াদের সরকারও বিদায় নেয়।

বরগুনার আলো