• শুক্রবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৯

  • || ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
আওয়ামী লীগ কারও পকেটের সংগঠন নয়: প্রধানমন্ত্রী তারেককে এনে সাজা বাস্তবায়ন করা হবে: শেখ হাসিনা নয়াপল্টনে লাশ ফেলার দুরভিসন্ধি কার্যকর করেছে বিএনপি: কাদের ক্রিকেট দলের জয়ের ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে: রাষ্ট্রপতি ২০২৪-এর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন, ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী মিরাজের অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের ২৭১ সমুদ্রকে নিরাপদ রাখতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী চলমান সকল যুদ্ধ থামান: বিশ্ব নেতাদের প্রতি শেখ হাসিনা বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থে সমুদ্রকে নিরাপদ রাখা আবশ্যক ছাত্রলীগের প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমুদ্র সৈকতে ইন্টারন্যাশনাল ফ্লিট রিভিউ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে বিকেলে জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী আজ দ্বিতীয় ওয়ানডে, ভারতের বিপক্ষে আরেকটি সিরিজ জয়ের হাতছানি জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আ.লীগকে ভোট দেয়: শেখ হাসিনা ব্যাংকে টাকা আছে, সমস্যা নাই: প্রধানমন্ত্রী জনগণ স্বতস্ফুর্তভাবে আ.লীগকে ভোট দেয়: শেখ হাসিনা ছাত্রলীগকে গুজবের জবাব দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৩০০ কোটি মানুষের বাজার ধরতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান কৃষি জমি নষ্ট করে শিল্পকারখানা নয়: প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ: শেখ হাসিনা

আত্মস্বীকৃত ১০১ ইয়াবা কারবারির মামলার রায় আজ

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০২২  

কক্সবাজারের টেকনাফে প্রথম দফায় আত্মসমর্পণকারী ১০১ জনের বিরুদ্ধে করা পুলিশের দুটি মামলার রায় বুধবার (২৩ নভেম্বর) ঘোষণা করবেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল। সব ঠিক থাকলে দুপুরে মামলা দুটির রায় ঘোষণা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম।

এ মামলায় এরই মধ্যে ১৭ জন কারাগারে থাকলেও পলাতক ৮৪ জন। পলাতকদের মধ্যে মোহাম্মদ হোছাইন নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

টেকনাফ থানার ওসি আবদুল হালিম জানিয়েছেন, মোহাম্মদ হোছাইন আত্মসমর্পণকারীদের একজন। তার বিরুদ্ধে অন্য একটি হত্যা মামলা থাকায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে আত্মসমর্পণকারীদের যাদের জামিন বাতিল হয়েছে–এ সংক্রান্ত আদালতের আদেশ হাতে পাননি তিনি। আদেশ পাওয়ার পর তাদের গ্রেফতার করা হবে।

তবে আদালতের সবশেষ ধার্য দিন অনুপস্থিত থাকায় ৮৪ জনের জামিন বাতিল ঘোষণা করেন আদালত। এর মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হলেও এখনও পলাতক ৮৩ জন। পলাতকদের মধ্যে অনেক জনপ্রতিনিধিসহ প্রভাবশালী রয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছেন: সাবেক সংসদ সদস্য আব্দু রহমান বদির চার ভাই আব্দুল আমিন, আব্দু শুক্কুর, শফিকুল ইসলাম, ফয়সাল রহমান, ভাগিনা সাহেদ রহমান নিপু, চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আলম, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ ও বড় ভাই আব্দু রহমান, বর্তমান জেলা পরিষদ সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমেদের ছেলে দিদার মিয়া, টেকনাফ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল বশর নুরশাদ, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের এনামুল হক এনাম মেম্বার প্রমুখ।

টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সরওয়ার কামাল বলেন, গত ১৭ নভেম্বর থেকে চেয়ারম্যান অনুপস্থিত রয়েছেন। এ কারণে তিনি যতদিন অনুপস্থিত থাকবেন, ততদিন প্যানেল চেয়ারম্যান জহির আহমেদ দায়িত্ব পালন করবেন। তবে এক মাসের অধিক সময় যদি অনুপস্থিত থাকেন তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম জানান, ধার্য দিনেই এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল। ওই দিন কারাগারে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করা হবে। তাদের উপস্থিতিতে ঘোষণা করা হবে রায়। ইয়াবা কারবারি হিসেবে এরা সবাই আত্মসমর্পণ করেছিলেন।

এজাহারের বিবরণমতে, ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ সৈকতের নিকটবর্তী এলাকায় ইয়াবা ও অস্ত্রসহ একদল ইয়াবা কারবারি অবস্থান নেয়ার খবরে পুলিশ অভিযান চালায়। ওই সময় ১০২ জন মাদক কারবারি আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ওইদিন টেকনাফ সদরের টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উপস্থিতিতে ১০২ জন আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি ও গডফাদার সাড়ে ৩ লাখ পিস ইয়াবা, ৩০টি দেশীয় বন্দুক ও ৭০ রাউন্ড গুলিসহ আত্মসমর্পণ করেন। ওইদিনই আত্মসমর্পণকারী ১০২ জনকে আসামি করে টেকনাফ মডেল থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা করা হয়। বাদী হয়ে মামলাটি করেন টেকনাফ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) শরীফ ইবনে আলম। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় পরিদর্শক এবিএমএস দোহাকে। মামলা করার দিনই আদালতের মাধ্যমে সব আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ১০২ জন আসামির মধ্যে মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে ২০১৯ সালের ৭ আগস্ট মোহাম্মদ রাসেল নামে এক আসামি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্ন ফারাহর আদালতে ১০১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরবর্তী সময়ে মামলাটি বিচারের জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। একই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল সব আসামির উপস্থিতিতে শুনানি শেষে মামলার চার্জ গঠন করেন। বিচার শেষে ১৫ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণার জন্য ২৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

এর মধ্যে মামলায় সাজা হওয়ার খবরে পলাতক হন ৮৪ জন। এ পরিস্থিতি মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

কক্সবাজার পিপলস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল জানান, এই ১০১ জন ইয়াবা কারবারির সর্বোচ্চ সাজা হওয়া জরুরি। এরা সবাই চিহ্নিত ইয়াবা গডফাদার এবং আত্মস্বীকৃত। এদের যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড না দিলে ইয়াবা কারবারিরা উৎসাহ পাবে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী জানান, ইয়াবা কারবারিদের জন্য এ মামলার রায় হতে পারে শিক্ষণীয়। কেননা, এরা সবাই আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি। তাদের সবার প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া জরুরি।

এদিকে এ মামলায় ৮৩ জন পলাতক থাকলেও বুধবার রায় ঘোষণা সময় অনেকেই উপস্থিত থাকতে আইনজীবীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করার তথ্য পাওয়া গেছে।

কারাগারে থাকা ১৮ আসামি হলেন: নুরুল হুদা, শাহ আলম, আব্দুর রহমান, ফরিদ আলম, মাহবুব আলম, রশিদ আহমেদ, মোহাম্মদ তৈয়ব, জাফর আলম, মোহাম্মদ হাশেম ওরফে আংকু, আবু তৈয়ব, আলী নেওয়াজ, মোহাম্মদ আইয়ুব, কামাল হোসেন, নুরুল বশর ওরফে কালাভাই, আব্দুল করিম ওরফে করিম মাঝি, দিল মোহাম্মদ, মো. সাকের মিয়া ওরফে সাকের মাঝি ও মোহাম্মদ হোছাইন।

এ ছাড়া পলাতক ৮৩ আসামি হলেন- সাবেক এমপি বদির ভাই আব্দুর শুক্কুর, বদির ভাই আমিনুর রহমান ওরফে আব্দুল আমিন, দিদার মিয়া, বদির ভাগনে মো. সাহেদ রহমান নিপু, আব্দুল আমিন, নুরুল আমিন, বদির ভাই শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক, বদির ভাই ফয়সাল রহমান, এনামুল হক ওরফে এনাম মেম্বার, একরাম হোসেন, ছৈয়দ হোসেন, বদির বেয়াই সাহেদ কামাল ওরফে সাহেদ, মৌলভী বশির আহমদ, আব্দুর রহমান, মোজাম্মেল হক, জোবাইর হোসেন, নুরুল বশর ওরফে কাউন্সিলার নুরশাদ, বদির ফুপাত ভাই কামরুল হাসান রাসেল, বর্তমানে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান ওরফে জিহাদ, মোহাম্মদ শাহ, নুরুল কবির, মারুফ বিন খলিল ওরফে বাবু, মোহাম্মদ ইউনুচ, ছৈয়দ হোসেন ওরফে ছৈয়দু, মোহাম্মদ জামাল ওরফে জামাল মেম্বার, মো. হাসান আব্দুল্লাহ, রেজাউল করিম ওরফে রেজাউল মেম্বার, মো. আবু তাহের, রমজান আলী, মোহাম্মদ আফছার, হাবিবুর রহমান ওরফে নুর হাবিব, শামসুল আলম ওরফে শামশু মেম্বার, মোহাম্মদ ইসমাঈল, আব্দুল গনি, মোহাম্মদ আলী, জামাল হোসেন, আব্দুল হামিদ, নজরুল ইসলাম, মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে দানু, মোহাম্মদ সিরাজ, মোহাম্মদ আলম, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, হোসেন আলী, নুরুল কবির মিঝি, শাহ আজম, জাফর আহমেদ ওরফে জাফর, রুস্তম আলী, নুরুল আলম, শফি উল্লাহ, মো. জহুর আলম, মোহাম্মদ হুসাইন, মোহাম্মদ সিদ্দিক, রবিউল আলম, মঞ্জুর আলী, হামিদ হোসেন, মোহাম্মদ আলম, নুরুল আমিন, বোরহান উদ্দিন, ইমান হোসেন, মোহাম্মদ হারুন, শওকত আলম, হোছাইন আহম্মদ, মোহাম্মদ আইয়ুব, মো. আবু ছৈয়দ, মো. রহিম উল্লাহ, মোহাম্মদ রফিক, মোহাম্মদ সেলিম, নুর মোহাম্মদ, বদির খালাত ভাই মং অং থেইন ওরফে মমচি, মোহাম্মদ হেলাল, বদিউর রহমান ওরফে বদুরান, ছৈয়দ আলী, মোহাম্মদ হাছন, নুরুল আলম, আব্দুল কুদ্দুস, আলী আহম্মেদ, আলমগীর ফয়সাল ওরফে লিটন, জাহাঙ্গীর আলম, নুরুল আলম, সামছুল আলম শামীম, মোহাম্মদ ইউনুচ, নুরুল আফসার ওরফে আফসার উদ্দিন ও মোহাম্মদ শাহজাহান আনছারী।

বরগুনার আলো