• সোমবার   ২৫ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৯ ১৪২৮

  • || ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
দেশের ভাবমূর্তি নষ্টকারীদের বিষয়ে সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী মাঝে মধ্যে কিছু ঘটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন পায়রা সেতুতে হাঁটতে পারলে ভালো লাগতো: প্রধানমন্ত্রী সিলেট-ঢাকা চার লেনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন বাংলাদেশকে কেউ আর পিছিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী স্বপ্নের পায়রা সেতু উদ্বোধন ‘বাসযোগ্য গ্রহ থেকে অনেক অনেক দূরে রয়েছে বিশ্ব’ পায়রা সেতুর উদ্বোধন আজ, দক্ষিণাঞ্চলের আরেকটি স্বপ্নপূরণ নেতাকর্মীদের নজরদারি বাড়াতে বললেন শেখ হাসিনা কুমিল্লার ঘটনা দুঃখজনক, অপরাধীর বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী ‘দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য হবে ডিজিটাল ডিভাইস’ সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলেই উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী বিদেশে বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী পূর্বাচলে প্রদর্শনীকেন্দ্র উদ্বোধন করবেন আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রদায়িক অপশক্তির তৎপরতা প্রতিরোধের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে শিশুরা বড় হবে সুন্দর পরিবেশে’ একটা অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশকে গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী আমাদের ছোট রাসেল সোনা: শেখ হাসিনা শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন

রাজধানীর ৪২ রুটে বাস পরিচালনা করবে ২২ কোম্পানি

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২১  

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) ঢাকার জন্য বাস রুট র‍্যাশনালাইজেশন বা কোম্পানিভিত্তিক বাস সেবা প্রবর্তনের একটি রূপরেখা তৈরি করেছে। সংস্থাটির প্রস্তাব অনুযায়ী, ঢাকার বিদ্যমান গণপরিবহন নেটওয়ার্ক ৭ হাজার ৩৩৫টি বাস দিয়ে পুনর্গঠন করা হবে। 

৪২টি রুটে বাসগুলো পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে ২২টি বেসরকারি কোম্পানি। প্রত্যেকটি কোম্পানি তাদের জন্য নির্ধারিত রুটেই কেবল বাস পরিচালনা করবে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) এ নিয়মের আওতায় নেই। পুনর্গঠিত সব রুটেই বিআরটিসির বাস চলতে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। 

আর ঢাকা চাকা ও গুলশান চাকা নামের দুটি কোম্পানি বর্তমানে যেভাবে বাস সেবা পরিচালনা করছে, তারা ঠিক সেভাবেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। ডিটিসিএকে কোম্পানিভিত্তিক বাস সেবা প্রবর্তনের রূপরেখাটি তৈরি করে দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি)। 

বাস সার্ভিস, রুটস রিস্ট্রাকচারিং অ্যান্ড ক্লাস্টারিং শিরোনামে একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে এ রূপরোখা তৈরি করেছে আইআইএফসি। এতে ঢাকার জন্য ২২টি বাস কোম্পানি এবং এদের জন্য রুট প্রস্তাব করার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনার পদ্ধতিও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিসির হিসাবে বর্তমানে রাজধানীর ২৯১টি রুটে চলাচল করা বাসের সংখ্যা ৯ হাজার ২৭। ঢাকার জন্য কোম্পানিভিত্তিক বাস সেবা প্রবর্তনের যে রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে, তাতে বাসের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৩৩৫টি। এগুলোর মধ্যে থাকবে ৫০ আসন বিশিষ্ট ৪ হাজার ৫২৩টি বড় বাস। তার মধ্যে ১ হাজার ১৫৮টি থাকবে এসি বাস। বাকি বাসগুলো হবে ৩৬ থেকে ৪০ আসন বিশিষ্ট বা মিনিবাস।

কোম্পানিভিত্তিক বাস সেবায় যুক্ত করতে ২ হাজার ৪১৬টি বড় বাস কিনতে হবে। এসি বাস কিনতে হবে আরো ১ হাজার ১৫৮টি। বর্তমানে ঢাকায় যেসব বাস চলাচল করছে, সেগুলোর মধ্যে ৯৪৯টি বড় বাস এ সেবায় যুক্ত করা হবে। তবে কোনো মিনিবাস কেনা হবে না। যে ২ হাজার ৮১২টি মিনিবাস চলবে, তার সবই সংগ্রহ করা হবে বিদ্যমান বহর থেকে।

এ রূপরেখায় রুটের সংখ্যা ২৯১ থেকে কমিয়ে ৪২-এ নামানোর কথা বলা হয়েছে। তবে রুট সংখ্যা কমলেও ঢাকা ও আশপাশের সব এলাকা এর আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন ডিটিসিএর কর্মকর্তারা। বাসগুলো পরিচালনার জন্য ২২টি কোম্পানি গঠন করার কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক কোম্পানিতেই এসি ও নন-এসি থাকবে। কোনো কোম্পানিতেই ৫০০-এর বেশি বাস না রাখারও প্রস্তাব করা হয়েছে।

রূপরেখা অনুযায়ী পিংক ১, পিংক ২ ও পিংক ৩ নামে গঠন করা হবে তিনটি কোম্পানি। আব্দুল্লাহপুর-ঝিলমিলের চারটি রুটে চলাচল করবে এসব কোম্পানির ১ হাজার ১৪৩টি বাস। এর মধ্যে এসি বাস চলবে ২২৫টি। ব্লু ১ ও ব্লু ২ নামে গঠিত হবে দুটি কোম্পানি। আব্দুল্লাহপুর-আজিমপুর-হেমায়েতপুরের চারটি রুটে এ দুই কোম্পানি ৭০টি এসি বাসসহ ৪৬৭টি বাস পরিচালনা করবে।

মেরুন ১ ও মেরুন ২ নামে গঠিত কোম্পানি দুটি হেমায়েতপুর-সদরঘাটের পাঁটটি রুটে বাস পরিচালনা করবে। এ দুই কোম্পানির বাসের সংখ্যা হবে ৭৪৯, যার মধ্যে ৮৬টি থাকবে এসি বাস। একইভাবে অরেঞ্জ ১, অরেঞ্জ ২ ও অরেঞ্জ ৩ কোম্পানির বাসের সংখ্যা হবে ৯০৪। মিরপুর-নারায়ণঞ্জ রুটে বাস পরিচালনা করবে অরেঞ্জ কোম্পানি তিনটি।

গ্রিন ১, গ্রিন ২, গ্রিন ৩ ও গ্রিন ৪ কোম্পানি পরিচালনা করবে ১ হাজার ৩২৯টি বাস। এগুলো চলবে ঘাটারচর-আব্দুল্লাহপুরের আটটি রুটে। ভায়োলেট ১, ভায়োলেট ২ ও ভায়োলেট ৩ নামে কোম্পানির মাধ্যমে চলবে ১ হাজার ৭০টি বাস। এগুলো চলবে কাঁচপুর-আব্দুল্লাহপুরের ছয়টি রুটে।

নর্থ ১ ও নর্থ ২ নামে গঠন করা হবে দুটি কোম্পানি। কালিয়াকৈর-আব্দুল্লাহপুরের তিনটি রুটে এসব কোম্পানির ৭৬৩টি বাস চলবে। অন্যদিকে নর্থওয়েস্ট ১ ও নর্থওয়েস্ট ২ কোম্পানি দুটি ৮৪৫টি বাস পরিচালনা করবে চন্দ্রা-হেমায়েতপুরের তিনটি রুটে। সাউথ ১ নামে আরেকটি কোম্পানি গঠন করা হবে, যার মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জ-ঝিলমিলের দুটি রুটে চলাচল করবে ৬৫টি বাস।

জয়েন্ট ভেঞ্চার পদ্ধতিতে কোম্পানিগুলো গঠন করা হবে। কোম্পানির স্টেকহোল্ডারদের মালিকানা, রাজস্বের ভাগসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো সমন্বয় করতে একটি নীতিমালা তৈরি করেছে ডিটিসিএ, যার আলোকে কোম্পানিগুলো পরিচালিত হবে।

ঢাকার জন্য কোম্পানিভিত্তিক বাস ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য বাস রুট র‍্যাশনালাইজেশন কমিটি গঠন করে দিয়েছে সরকার, পদাধিকারবলে যার সভাপতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। 

বাস রুট র‍্যাশনালাইজেশন কমিটির অন্যতম সদস্য ও গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এসএম সালেহ্ উদ্দিন বলেন, ঢাকায় কোম্পানিভিত্তিক বাস সেবা প্রবর্তনের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করার ধারাবাহিকতায় বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। কোম্পানিগুলো ঢাকা শহর এবং এর আশপাশের এলাকাগুলোয় গণপরিবহনের চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে একটি নিরাপদ, সহজ ও সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হবে।

বরগুনার আলো