• সোমবার   ০৪ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২০ ১৪২৯

  • || ০৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
জাতির পিতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা, মোনাজাত পদ্মা সেতুতে সন্তানদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সেলফি ‘পদ্মা সেতু ও রপ্তানি আয় জাতির সক্ষমতা প্রমাণ করছে’ টোল দিয়ে পদ্মা সেতুতে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী, গাড়ি থামিয়ে উপভোগ করলেন সৌন্দর্য পদ্মা সেতু নির্মাণের সব কৃতিত্ব জনগণের: প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতায় দেশকে এগিয়ে নিতে পেরেছি পারিবারিক আদালত আইনের খসড়া অনুমোদন ঈদের আগে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলছে না ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভোলেনি সরকার: প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুতে নাশকতার চেষ্টা: আটক ১ সঞ্চয় বাড়ানোর পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা হচ্ছে নতুন মুদ্রানীতি সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পাস হচ্ছে আজ নির্মল রঞ্জন গুহের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক সায়মা ওয়াজেদের মমত্ববোধ রেল ক্রসিংয়ে ওভারপাস করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে সেতু-উড়াল সড়ক নির্মাণের নির্দেশ ব্যবসা বৃদ্ধিতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তিন বাহিনীর সমন্বয়ে নিশ্চিত হবে পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা

খালেদাকে পদ্মায় ফেলতে আর ইউনূসকে চুবিয়ে তুলতে বললেন শেখ হাসিনা

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২২  

পদ্মা সেতুকে জোড়াতালির বলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সেতুর ওপর থেকে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা, আর টাকা বন্ধের চেষ্টা করা ড. মুহম্মদ ইউনূসকে পদ্মা নদীতে চুবানোর কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘খালেদা জিয়া বলেছিল, ‘জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানাচ্ছে, ওখানে চড়া যাবে না, চড়লে ভেঙে পড়বে।’’ পদ্মা সেতুতে নিয়ে গিয়ে ওখান থেকে (খালেদা জিয়াকে) টুস করে নদীতে ফেলে দেওয়া উচিত। আর যিনি আমাদের একটা এমডি পদের জন্য পদ্মা সেতুর মতো সেতুর টাকা বন্ধ করেছেন, তাকেও আবার পদ্মা নদীতে নিয়ে দুই চুবানি দিয়ে উঠিয়ে নেওয়া উচিত। মরে যাতে না যায়। একটু পদ্মা নদীতে দুইটা চুবানি দিয়ে সেতুতে তুলে দেওয়া উচিত। তাহলে যদি এদের শিক্ষা হয়।’

বুধবার (১৮ মে) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। দলের  সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কানফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মা সেতুর অর্থ বন্ধ করালো ড. ইউনূস। কেন? গ্রামীণ ব্যাংকের একটা এমডির পদে তাকে থাকতে হবে। তাকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম গ্রামীণ ব্যাংকের উপদেষ্টা হতে। একটা উপদেষ্টা হিসেবে থাকা আরও উচ্চমানের। সেটা সে ছাড়বে না, তার এমডিই থাকতে হবে। কিন্তু তার বয়সে কুলায় না। ড. ইউনূস কিন্তু আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিল। কিন্তু কোর্ট আর যাই পারুক, তার বয়স তো কমিয়ে দিতে পারে না, ১০ বছর। কারণ, গ্রামীণ ব্যাংকের আইনে আছে ৬০ বছর পর্যন্ত থাকতে পারে। তখন তার বয়স ৭১ বছর। এই বয়সটা কমাবে কীভাবে? সেই মামলায় সে হেরে যায়। কিন্তু প্রতিহিংসা নেয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ড. ইউনূস এবং যেটা আমরা শুনেছি মাহফুজ আনাম, তারা আমেরিকায় চলে যায়। স্টেট ডিপার্টমেন্টে যায়। হিলারির কাছে ইমেইল পাঠায়। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মি. জোলি, যিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তার শেষ কর্মদিবসে কোনও বোর্ড সভায় না, পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দেয়। যাক, একদিকে শাপেবর হয়েছে। কেন হয়েছে? বাংলাদেশ যে নিজের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করতে পারে, সেটা আজকে আমরা প্রমাণ করেছি। কিন্তু আমাদের এখানের একজন জ্ঞানী লোক বলে ফেললেন যে পদ্মা সেতুতে যে রেল লাইন হচ্ছে—৪০ হাজার কোটি টাকার খরচ হচ্ছে। ৪০ হাজার কোটি টাকা তো ঋণ নিয়ে করা হচ্ছে। এই ঋণ শোধ হবে কীভাবে? দক্ষিণবঙ্গের কোনও মানুষ তো রেলে চড়বে না। তারা তো লঞ্চে যাতায়াত করে। তারা রেলে চড়তে যাবে কেন? এই রেল ভায়াবল হবে না।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘‘সেতুর কাজ হয়ে গেছে, এখন সেতু নিয়ে কথা বলে পারছে না। এখন রেলের কাজ চলছে, এখন রেলের কাজ নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। আমার মনে হয়, আমাদের সবার উনাকে চিনে রাখা উচিত। রেলগাড়ি যখন চালু হবে, তখন উনাকে নিয়ে রেলে চড়ানো উচিত। আর খালেদা জিয়া বলেছিল, ‘জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানাচ্ছে।’ কারণ, বিভিন্ন স্প্যানগুলো যে বসাচ্ছে, ওটা ছিল তার কাছে জোড়াতালি দেওয়া। তো বলেছিল, ‘জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানাচ্ছে, ওখানে চড়া যাবে না, চড়লে ভেঙে পড়বে।’ তার সঙ্গে তার কিছু দোসররাও। এখন তাদের কী করা উচিত?’’

তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুতে নিয়ে গিয়ে ওখান থেকে টুস করে নদীতে ফেলে দেওয়া উচিত। আর যিনি আমাদের একটা এমডি পদের জন্য পদ্মা সেতুর মতো সেতুর টাকা বন্ধ করেছে, তাকেও আবার পদ্মা নদীতে নিয়ে দুটা চুবানি দিয়ে উঠিয়ে নেওয়া উচিত। মরে যাতে না যায়। একটু পদ্মা নদীতে দুটা চুবানি দিয়ে সেতুতে তুলে দেওয়া উচিত। তাহলে যদি এদের শিক্ষা হয়। বড় বড় অর্থনীতিবিদ, জ্ঞানী-গুণী এই ধরনের অর্বাচীনের মতো কথা বলে কীভাবে? সেটাই আমার প্রশ্ন। মেগা প্রজেক্টগুলো করে নাকি খুব ভুল করছি। তারা আয়েশে বসে থাকে, আর আমার তৈরি করা সব টেলিভিশনে গিয়ে কথা বলে। বিদ্যুৎ সরবরাহ করি। সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি, সেটা নিয়েও এত টাকা দিয়ে স্যাটেলাইট করে কী হবে? এই প্রশ্নও কিন্তু তুলেছে তারা। অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু করলে তাদের গায়ে লাগে। কেন? তাহলে তারা কি এখনও সেই পাকিস্তানি সামরিক জান্তাদের পদলেহনকারী, খোশামোদি, তোষামোদির দল? গালিটালি দিই না, দেওয়ার রুচিও নাই। তবে একটু না বলে পারি না, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে বাংলাদেশের মেয়েদের ওপর অত্যাচার করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, অগ্নিসংযোগ করেছে, পোড়ামাটি নীতি নিয়ে বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, সেই পাকিস্তানিদের পদলেহনকারীর দল এখনও বাংলাদেশে জীবিত—এটা হচ্ছে সব থেকে দুঃখজনক। এখনও তারা বাংলাদেশের ভালো কিছু হলে ভালো দেখে না। বাংলাদেশ এগিয়ে গেলে তাদের ভালো লাগে না।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশে আমরা ২০০৯-এর পরে যে সরকার গঠন করেছি, তারপরেও আমাদের কম ঝামেলা পোহাতে হয়নি। অগ্নিসন্ত্রাস করে বিএনপি জীবন্ত মানুষগুলোকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মারে। পেট্রোল বোমা মারে। আমরা রাস্তাঘাট বানাই, তারা রাস্তাঘাট কাটে। আমরা বৃক্ষরোপণ করি, তারা গাছ কাটে। এভাবে দেশকে তারা বারবার ধ্বংসের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। সরকার উৎখাত করার তারা উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাদের ডাকে তো জনগণ সাড়া দেয়নি।’

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে। ওই ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় এবং একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক জিয়া। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে মুচলেকা দিয়েছিল জীবনে কোনও দিন রাজনীতি করবে না। এই মুচলেকা দিয়েই কিন্তু দেশ ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু এই মামলায় বিচারের রায়ে সে সাজাপ্রাপ্ত। এতিমের অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া।’

খালেদা জিয়াকে করুণা ভিক্ষা দিয়েছি

খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে বাসায় থাকার সুযোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে সরকার প্রধান বলেন, ‘কারাগার থেকে এখন বাসায় থাকার সুযোগ দিয়েছি। অসুস্থ সেজন্য। এটুকু মানবিকতা দেখিয়েছি। যে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে, তাকেই আমি করুণা ভিক্ষা দিয়েছি, সে বাসায় থাকতে পারে। সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেও তাকে এটুকু সুযোগ দিয়েছি। এটা নির্বাহী আদেশে দেওয়া হয়েছে।’

নির্বাচন নিয়ে কোন মুখে কথা বলে বিএনপি

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমার এখানে একটা প্রশ্ন, আজকে বিএনপি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিএনপির আমলে নির্বাচনের ইতিহাস এতই কলুষিত যে তাদের তো এ নিয়ে কথা বলার অধিকারই নাই। কোন মুখে তারা বলে? ঢাকা-১০-এ ফালু ইলেকশন করেছিল, সেই ইলেকশনের চিত্র নিশ্চয়ই সবার মনে আছে। মাগুরা ইলেকশন, যে ইলেকশন নিয়ে আমরা আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে উৎখাত করলাম। মিরপুর ইলেকশন, প্রত্যেকটা সময় তো আমরা দেখেছি, তাদের ইলেকশনের চিত্র। আর এমনিতে সেই ৭৭-এর হ্যাঁ/না, ৭৮-এর রাষ্ট্রপতি, ৭৯-র সাধারণ নির্বাচন, ৮১-র নির্বাচন। প্রত্যেক নির্বাচনই তো আমাদের দেখা। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন। যাদের নির্বাচনের এত কলুষিতের রেকর্ড, তাদের মুখে এখন নির্বাচনের প্রশ্ন।’

নির্বাচনের যতটুকু উন্নতি আমরা করেছি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে নির্বাচনের যতটুকু উন্নতি আমরা করেছি, সেগুলো আমাদেরই সিদ্ধান্ত। আমাদেরই চিন্তা। ছবিসহ ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ইভিএম—একটা আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে, এর সবকিছু তো আমরা। নির্বাচনে যাতে মানুষ ভোট দেবার অধিকার পায়, সে অধিকারটাই তো সব থেকে বড়। সেটাই আমরা করতে চেয়েছি। এটা নিয়ে তো তাদের প্রশ্ন তোলার কোনও অর্থই হয় না। কারণ, আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত। আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই শক্তিটা আছে বলেই এবং জনগণের শক্তিতে আমরা ক্ষমতায় আছি বলেই জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পেরেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। এর ভেতরে আমাদের কিছু আঁতেল আবার জুটেছে। একজন অর্থনীতিবিদ বলেই দিলো—আমরা যে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছি, এটা নাকি অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ ক্ষতিকর। আমার প্রশ্ন হচ্ছে—যে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র, এটা হচ্ছে সব থেকে পরিবেশবান্ধব। গ্যাস তো চিরদিন থাকে না। একেকটা কূপ খনন করে তার একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে। তেলভিত্তিক, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ আমরা করি। অনেক খরচেরও ব্যাপার। যদি কোনও দিন এমন হয় যে আমাদের গ্যাস ফুরিয়ে যাচ্ছে, তখন এই নিউক্লিয়ার পাওয়ারপ্ল্যান্টই তো আমাদের বিদ্যুৎ দেবে। এটা সব থেকে পরিবেশবান্ধব একটা বিদ্যুৎকেন্দ্র। এখানে বিনিয়োগটা বড় করে দেখা যায়। কিন্তু এর বিদ্যুৎ যখন উৎপাদন হবে আর এই বিদ্যুৎ যখন মানুষ ব্যবহার করবে, আমাদের অর্থনীতিতে অনেক অবদান রাখবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি বলেই সারা বাংলাদেশে প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পেরেছি। আমরা যখন শুরু করলাম, রেন্টাল পাওয়ারপ্ল্যান্ট নিয়ে, তখন সেটা নিয়েও অনেক কথা বলে গেছে। আজকে যে বিদ্যুৎ আমরা করেছি, সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করেই আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলে। ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়েছিলাম। সেই ঘোষণা নিয়ে ব্যঙ্গ করে। আজকে সেই ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করেই আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলে। এটা বোধহয় ভুলে যায়, তারা যে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে, সেটা কিন্তু আমরা দিচ্ছি।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার আমলে, জিয়ার আমলে, এরশাদের আমলে তাদের কী কথা বলার কোনও সুযোগ ছিল? কতটুকু অধিকার ভোগ করতো তারা? বেসরকারি টেলিভিশন এত দিয়ে দিয়েছি যে সারা দিন-রাত টকশো করে। আমি মাঝে মাঝে বলি, এত টক টক কথা না বলে একটু মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেন। কত আর টক টক কথা বলবেন। টকশো তারা করে যাচ্ছে। কেউ তো তাদের গলা চিপে ধরে নাই। মুখ চেপেও ধরি না। কথা বলেই যাচ্ছে। তবে হ্যাঁ, সব কথা বলার শেষে বলে কথা বলতে দেওয়া হয় না।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির এক নেতা তো সারা দিন মুখে মাইক লাগিয়েই আছে। সারাক্ষণ কথা বলেই যাচ্ছে। একবার কথা বলতে বলতে গলায় অসুখও হলো। যাক, চিকিৎসা করে এসে আবার কথা বলছে। তার কথা তো কেউ বন্ধ করছে না। তাদের আন্দোলনে যদি জনগণ সাড়া না দেয়, সে দোষটা কাদের? রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে যে অর্থনীতিবিদ—তাকে আমি বলবো, তিনি কি এটা প্রকৃতপক্ষে জেনেই বলছেন, নাকি না জেনে বলছেন? আমি তার জ্ঞান নিয়ে কোনও প্রশ্ন তুলবো না, তারা অনেক ভালো লেখাপড়া জানেন। কিন্তু একটা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পেয়ে মানুষের, একটা জাতির যে কতটুকু উন্নতি হতে পারে, সেটা আজকের বাংলাদেশ। বাংলাদেশের উন্নয়নটা বাইরের লোকও দেখে, কিন্তু তারা দেখে না।’

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেদিন যখন এয়ারপোর্টে নামি, হাজার হাজার মানুষ। ৩০ জুলাই যখন ঢাকা ছেড়ে যাই—কামাল, জামাল ও তাদের স্ত্রী, রাসেল সবাই এয়ারপোর্টে ছিল। আর ১৭ মে যখন নেমে আসি, আমার আপনজনদের কাউকেই পাইনি। তবে পেয়েছিলাম অগণিত বাংলাদেশের মানুষ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। তাদের মাঝেই খুঁজে পেয়েছিলাম হারানো বাবা-মায়ের স্নেহ, আস্থা-বিশ্বাসের ঠিকানা। নিজের ব্যথা বেদনা শোক সবকিছু বুকে নিয়ে ফিরে এসেছিলাম, এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আমাকে সভাপতি করা হয়। একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলাম। ছাত্রলীগের সদস্য ছিলাম। তবে, প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে স্কুলজীবন থেকেই সক্রিয় ছিলাম। কিন্তু আওয়ামী লীগের মতো একটি সংগঠনে আসবো কখনও ভাবিনি। আমি কখনও চিন্তা করিনি। যেদিন এই ঘোষণাটা আসে, রেহানা আমার কাছেই ছিল। আমরা সিদ্ধান্ত নিই, আমি দেশে আসবো। যাহোক আমি ফিরে আসি।’

তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে দেখা করতে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি গিয়েছিল। তাদের শর্ত দিয়েছিলাম—আওয়ামী লীগের একটি কাউন্সিলও যদি বলে আমাকে চায় না, সেদিন কিন্তু আমি থাকবো না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে ফেরার পর আমার একটাই কাজ ছিল দলকে সুসংগঠিত করা। আওয়ামী লীগের নির্যাতিত নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের খবর নেওয়ার চেষ্টা করি।’

প্রসঙ্গ: ১৯৮২’র দল ভাগ

কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো ১৯৮২ সালে আমাদের পার্টিটা আবার ভাগ হয়ে গেলো। যেটা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। ভাগটি করলো তারাই, যাদের ওপর বেশি ভরসা করেছিলাম এবং প্রবাসে থেকে যাদের সংগঠন গড়ে তুলতে সহযোগিতা করেছিলাম। যাদের বেশি সহযোগিতা করেছি, আমি আসার পর তারাই বেইমানি করে চলে গেলো এবং তারা দলের একটি ভালো অংশই নিয়ে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আর তারপর থেকেই আমার যাত্রা শুরু হয়—প্রথম দলটিকে সুসংগঠিত করার। আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করা ছিল বড় কাজ। সেটাই আমি করার চেষ্টা করি। পঁচাত্তরের পর জনগণের ক্ষমতা যে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, আমার লক্ষ্য ছিল—সেই ক্ষমতা ক্যান্টনমেন্ট থেকে ফিরিয়ে এনে জনগণের হাতে ‍তুলে দেওয়া। আজ দাবি করতে পারি, সেটা আমরা করতে সক্ষম হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্ট আমরা কেবল আপনজন হারিয়েছি তা নয়, এ দেশের জনগণ হারিয়েছিল তাদের ভোট, গণতন্ত্র ও বেঁচে থাকার অধিকার। জীবনমান উন্নয়নের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, সেটাও হারিয়ে গেছে।’

প্রধানমন্ত্রী আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, ‘১৫ আগস্ট আমাদের পরিবারের সব সদস্য হারিয়েছিলাম আমি ও আমার ছোট বোন রেহানা। আমরা বিদেশে ছিলাম বলে বেঁচে গিয়েছিলাম। কিন্তু এই বাঁচা কোনও আনন্দের বাঁচা ছিল না। এ বাঁচা ছিল অনেক যন্ত্রণা ভোগ করার বাঁচা। এ বাঁচা ছিল মৃত্যুর থেকেও কঠিনভাবে বাঁচা। রিফিউজি হিসেবে বিদেশের মাটিতে থাকতে হয়েছে। নিজেদের নামটাও ব্যবহার করতে পারিনি। পরিচয়টাও দিতে পারিনি। থাকা-খাওয়ার সমস্যা ছিল না। ভারতের সেই সময়কার প্রধানমন্ত্রী সব ব্যবস্থাই আমাদের জন্য করেছিলেন। কিন্তু যে কষ্ট, যন্ত্রণা ভোগ করেছি, পাশাপাশি দেশের মানুষেরও খবর রাখতে চেষ্টা করেছি।’

‘হত্যার বিচার প্রথম চায় রেহানা’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭৯ সালে সুইডেনে রেহানা প্রথম ১৫ আগস্টের হত্যার প্রতিবাদ করেছিল। অ্যাম্বাসেডর ড. রাজ্জাক ১৫ আগস্টের পর পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি হত্যার প্রতিবাদে একটা সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে রেহানাকে অনেক কষ্ট করে যেতে হয়েছিল। সেখানে সে প্রথম হত্যার বিচার চায় এবং প্রতিবাদ জানায়। ১৯৮০ সালে লন্ডনে গিয়ে সংগঠনটাকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করি। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কয়েকজন এমপিকে নিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশনের পক্ষ থেকে টমাস উইলিয়াম কিউসিকে বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নিলে জিয়াউর রহমান তাকে ভিসা দেয়নি।’

জিয়াউর রহমান বিএনপিতে নেওয়ার জন্য মামলা মোকদ্দমা দিয়ে ঘরবাড়ি দখল করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভাগিয়ে নিতে চেষ্টা করে। কিন্তু কয়েকজন দালাল ছাড়া কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারেনি।’

জিয়াউর রহমান হত্যার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে গিয়েছিল। তখন নিজেই নিহত হয়।’

নির্বাচনকে কলুষিত করে জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমানের সময়কালে নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সেই নির্বাচনে ভোটের দরকার পড়েনি। নির্বাচন মানেই সিল মারা, বাক্স ভরা এবং রেজাল্ট ঘোষণা দেওয়া। জিয়াউর রহমানের আমলে যতটা নির্বাচন তার সবই এভাবে হয়েছিল। ১৯৮১ সালের প্রহসনের নির্বাচন দেখেছি। ১৯৭৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে কয়টা সিট দেবে, তা আগেই ঠিক করা ছিল। নির্বাচন নিয়ে খেলা, প্রহসন ও নির্বাচনকে কলুষিত করা জিয়াউর রহমানই শুরু করে। সেই সাতাত্তর, আটাত্তর, ঊনআশি সালে শুরু হয়। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া, গণতন্ত্র কেড়ে নেওয়া, মার্শাল ল দিয়ে রাষ্ট্র চালানো। প্রতি রাতে কারফিউ। ৭৫-এর পর যে কারফিউ দেওয়া শুরু হয়, সেটা ১৯৮৬ সালে এসে প্রত্যাহার হয়। এটাই ছিল বাংলাদেশের চিত্র। অনেকে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু ৭৫-এর পর দেখেছি, ভোটের বাক্স ছিনতাই, বাক্স ভরা। প্রতিপক্ষকে আঘাত করা। খুব বেশি দূর যাওয়া লাগবে না, ২০০১ সালের নির্বাচনটি যদি দেখা যায়…। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রহসনের নির্বাচন।’

জিয়ার সঙ্গে আ.লীগের কিছু বেইমানও যুক্ত হয়

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখলের পর সেনাপ্রধান, স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি, এরপর আবার রাষ্ট্রপতি প্রার্থী। এরপর দল গঠন শুরু। প্রথমে জাগো দল, তারপর ১৯ দফা বাস্তবায়ন কমিটি। তৃতীয় ধাপে এসে বিএনপি। সেখানে যত রকমের স্বাধীনতাবিরোধী ও খুনিরা যুক্ত হয়। আমাদের দলের কিছু বেইমানও যুক্ত হয়। খন্দকার মোশতাকও চেষ্টা করেছিল আওয়ামী লীগকে ভাঙতে, কিন্তু পারেনি। এরপর জিয়াও এই চেষ্টা করে।’

বরগুনার আলো