• সোমবার   ০২ আগস্ট ২০২১ ||

  • শ্রাবণ ১৮ ১৪২৮

  • || ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
‘বঙ্গবন্ধু হত্যায় ষড়যন্ত্রকারী কারা, ঠিকই আবিষ্কার হবে’ ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে খালেদা জিয়া’ দেশের নাম বদলে দিতে চেয়েছিল পঁচাত্তরের খুনি চক্র: প্রধানমন্ত্রী এক সময় নিজেই রক্তদান করতাম: প্রধানমন্ত্রী হত্যার বিচার করেছি, ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা এখনও আবিষ্কার হয়নি একনেক বৈঠক শুরু, অনুমোদন হতে পারে ১০ প্রকল্প করোনা টেস্টে গ্রামীণ জনগণের ভীতি নিরসনে কাজ করতে হবে মানুষকে ব্যাপকভাবে ভ্যাকসিন দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদন হবে দেশেই: শেখ হাসিনা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিন আজ করোনা মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীসহ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী গণতন্ত্র সুসংহত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ নভেম্বরে এসএসসি, ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ৩২০০ কোটি টাকার প্রণোদনা ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট মানতে হবে যেসব বিধিনিষেধ কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারি টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বললেন মাহমুদউল্লাহ দারিদ্র্যের সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে: রাষ্ট্রপতি

স্বপ্নের ‘বঙ্গবন্ধু টানেল’: অপেক্ষা মাত্র ৩১ ভাগের

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২১  

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ‘বঙ্গবন্ধু টানেল’ এর কাজ। এ নিয়ে টানেলের নির্মাণকাজ ৬৯ ভাগ শেষ হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি কাজ সম্পন্ন করে টানেলটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের পতেঙ্গা প্রান্তে টানেলের প্রথম টিউবের ভেতরে সড়ক নির্মাণের জন্য চলছে ঢালাইয়ের কাজ। এর পাশাপাশি টানেলের প্রবেশমুখে সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে।

অপরদিকে, আনোয়ারা প্রান্তে চাতরী চৌমুহনী পর্যন্ত চলছে পাঁচ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের মাটি ভরাটের কাজ। এছাড়া সিইউএফএল সংলগ্ন এলাকায় ৭২৭ মিটার ওভার ব্রিজের নির্মাণকাজ রয়েছে শেষের দিকে। এরই মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে স্প্যান ও গার্ডার।

এছাড়া প্রকল্প এলাকায় বিভিন্ন স্থাপনা (রিসোর্ট এরিয়া ও সার্ভিস এরিয়া) ও টানেলের সংযোগ সড়ক থেকে শিকলবাহা ওয়াই জংশন পর্যন্ত ছয় লেনের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

দেশে প্রথমবারের মতো নির্মাণাধীন এ টানেলের চট্টগ্রাম নগর প্রান্ত শুরু হয়েছে পতেঙ্গার নেভাল একাডেমির পাশ থেকে। এ প্রান্তে প্রথম টিউবের খননকাজ শেষ হয় গত বছরের ২ আগস্ট।

একই বছরের ১২ ডিসেম্বর শুরু হয় আনোয়ারা প্রান্ত থেকে টিউবের খননকাজ। টানেলটি নগর প্রান্ত থেকে শুরু হয়ে সিইউএফএল (চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড) ও কাফকো (কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড) কারখানার মাঝামাঝি স্থান দিয়ে উঠে কর্ণফুলী-আনোয়ারা প্রান্তে সংযোগ ঘটাবে। এ টানেলের মাধ্যমে চীনের সাংহাইয়ের আদলে চট্টগ্রামে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

কর্ণফুলী নদীর নিচে অবস্থিত এ টানেলের দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৩ কিলোমিটার হলেও মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার। এটিই বাংলাদেশের প্রথম সুড়ঙ্গ পথ। যা নদীর দুই তীরের অঞ্চলকে যুক্ত করবে। যার প্রতিটি টিউবের দৈর্ঘ্য দুই দশমিক ৪৫ কিলোমিটার ও ব্যাস ১০ দশমিক ৮০ মিটার। প্রতিটি টিউবে থাকবে দুটি করে মোট চারটি লেন। চারটি লেন দিয়ে সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার গতিতে চলবে গাড়ি।

টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, টানেলের নির্মাণকাজ নিয়ে দুটি প্রতিবন্ধকতা ছিল। একটি মহামারি করোনা ও অপরটি জমি অধিগ্রহণ। আমরা দুটিই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। এখন আর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আশা করছি আগামী দেড় বছরের মধ্যে টানেল যান চলাচলের উপযোগী হবে।

২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে এ টানেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে টানেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়।

২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কর্ণফুলী সুড়ঙ্গ বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানেলটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। যার পাঁচ হাজার ৯১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা প্রকল্প ঋণ হিসেবে অর্থায়ন করছে চায়না এক্সিম ব্যাংক। এছাড়া বাকি অর্থায়ন বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি)।

টানেলটি নির্মিত হলে ত্বরান্বিত হবে কর্ণফুলী নদীর পূর্বপ্রান্তের প্রস্তাবিত শিল্প এলাকার উন্নয়ন। পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত চট্টগ্রাম শহর, চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরের সঙ্গেও স্থাপিত হবে উন্নত ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে কমে যাবে ভ্রমণের সময় ও খরচ।

এছাড়া পূর্বপ্রান্তের শিল্পকারখানার কাঁচামাল, প্রস্তুত করা মালামাল চট্টগ্রাম বন্দর, বিমানবন্দর ও দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবহন প্রক্রিয়া সহজ হবে। কর্ণফুলী নদীর পূর্ব প্রান্তের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের ফলে বিকশিত হবে পূর্বপ্রান্তের পর্যটনশিল্প।

বরগুনার আলো