• শুক্রবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৯

  • || ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বরগুনার আলো
ব্রেকিং:
আওয়ামী লীগ কারও পকেটের সংগঠন নয়: প্রধানমন্ত্রী তারেককে এনে সাজা বাস্তবায়ন করা হবে: শেখ হাসিনা নয়াপল্টনে লাশ ফেলার দুরভিসন্ধি কার্যকর করেছে বিএনপি: কাদের ক্রিকেট দলের জয়ের ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে: রাষ্ট্রপতি ২০২৪-এর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন, ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী মিরাজের অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের ২৭১ সমুদ্রকে নিরাপদ রাখতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী চলমান সকল যুদ্ধ থামান: বিশ্ব নেতাদের প্রতি শেখ হাসিনা বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থে সমুদ্রকে নিরাপদ রাখা আবশ্যক ছাত্রলীগের প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমুদ্র সৈকতে ইন্টারন্যাশনাল ফ্লিট রিভিউ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে বিকেলে জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী আজ দ্বিতীয় ওয়ানডে, ভারতের বিপক্ষে আরেকটি সিরিজ জয়ের হাতছানি জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আ.লীগকে ভোট দেয়: শেখ হাসিনা ব্যাংকে টাকা আছে, সমস্যা নাই: প্রধানমন্ত্রী জনগণ স্বতস্ফুর্তভাবে আ.লীগকে ভোট দেয়: শেখ হাসিনা ছাত্রলীগকে গুজবের জবাব দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৩০০ কোটি মানুষের বাজার ধরতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান কৃষি জমি নষ্ট করে শিল্পকারখানা নয়: প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ: শেখ হাসিনা

আন্তর্জাতিক বাজারে কমছে নিত্যপণ্যের দাম

বরগুনার আলো

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর ২০২২  

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে গমসহ চারটি নিত্যপণ্যের। রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধকালে খাদ্যশস্য রফতানির জন্য কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো খুলে দিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি চুক্তি সইয়ের সুফল পেতে শুরু করেছে সমগ্র বিশ্ব। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এই চুক্তির প্রভাবেই দেশের বাজারে সরবরাহ বাড়ছে। দাম কমতে শুরু করেছে গম, চিনি, ভোজ্যতেল ও মসুর ডালের।

ইতোমধ্যেই সরকারের গণমুখী উদ্যোগের কারণে দাম কমছে সব ধরনের চাল,ভোজ্যতেল বিশেষ করে সয়াবিন ও পামঅয়েলের। স্থিতিশীল রয়েছে মসুর ডালের দাম। ব্যবসায়ীদের আপত্তি থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে কমানো হয়েছে চিনির দাম।  বাণিজ্য মন্ত্রণালয সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধের প্রভাবে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্ভিক্ষের পদধ্বনির মাঝেই খাদ্যশস্য রফতানির জন্য কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো খুলে দিতে সম্মত হয়েছে ওই দুই দেশ। গত ২২ জুলাই জাতিসংঘ-সমর্থিত চুক্তিটি সই করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। এর ফলে খাদ্যশস্য পরিবহন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা কেটে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে গমের দাম কমেছে ৩ থেকে ৪ শতাংশ। দেশেও পাইকারি পর্যায়ে দাম কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দুই-একটি ব্র্যান্ডের আটা-ময়দার দামও কমেছে। ৫০ কেজির প্রতি বস্তা আটার দাম ২ হাজার ১শ’ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭শ’ টাকা। দেশের খুচরা বাজারে এর পুরোপুরি সুফল পেতে আরও কিছু দিন সময় লাগবে। দেশে গম আমদানির অন্যতম উৎস রাশিয়া ও ইউক্রেন। সবশেষ ভারত থেকে গম আমদানি বন্ধের পর স্থানীয় বাজারে লাফিয়ে বাড়তে থাকে আটা-ময়দা এবং এ দিয়ে তৈরি পণ্যের দাম।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি’র হিসাব বলছে, এক বছরে আটা-ময়দার দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ৫৬ ভাগ। গত সপ্তাহেও বেড়েছে এই দুটি পণ্যের দাম।

অপরদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে কমতে শুরু করেছে গমের দাম। আগস্টে (২৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন গমের দর ছিল ৩৬৫ দশমিক ৯৭ ডলার। সেপ্টেম্বরে সেই গম বিক্রি হয়েছে ৩৫৬ দশমিক ৭৮  ডলার দরে। যদিও একবছর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন গম বিক্রি হয়েছে ৩৩৮ দশমিক ৭৮ ডলার দরে। এক বছরের ব্যবধানে গমের দাম ৮ দশমিক ০৩ শতাংশ বাড়লেও গত আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে দমের দাম কমেছে ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

খাদ্য বিভাগের গত আগস্টের তথ্য বলছে, বর্তমানে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৬০ টন গম মজুত রয়েছে দেশের সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে। তবে গত বছরের একই সময়ে গমের মজুত ছিল ২ লাখ ৪০ হাজার ৪১০ মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছরের ৩ আগস্ট পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও গম আমদানি না হলেও বেসরকারিভাবে আমদানি হয়েছে ৪২ হাজার ৯৯০ টন গম। গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২১-২০২২ অর্থবছরে সরকারিভাবে ৫ লাখ ৪৬ হাজার ১২০ টন গম আমদানি হয়। একই সময়ে বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি হয়েছে ৩৪ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯০ টন গম।

এদিকে চলতি বছরে ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সরকারিভাবে ১ লাখ ৫০ হাজার টন গম সংগ্রহের কথা বলা হলেও মাত্র ২০ টন গম সংগ্রহ করতে পেরেছে খাদ্য অধিদফতর। কিন্তু গত বছর একই সময়ে ১ লাখ ৩ হাজার ২১২ টন গম সংগ্রহ করেছিল খাদ্য বিভাগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে ৬৩ হাজার ৪০০ টন গম আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়।

খাদ্য বিভাগ বলছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী, জাহাজীকরণের আগে রাশিয়া ও ইউক্রেনের গম টনপ্রতি ৩৬২ দশমিক ৫০ ডলার, আমেরিকান গম ৩৪১ ডলার। যাবতীয় আমদানি খরচ মিলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রতি কেজি রাশিয়ান গম ৪০ টাকা ৭৩ পয়সা, ইউক্রেনের গম ৪০ টাকা ৫৪ পয়সা এবং আমেরিকান গমের দাম পড়ে ৪০ টাকা ৪০ পয়সা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা জানান, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর ফলে আমরা গম আমদানির জন্য বিকল্প দেশের সন্ধান করি। অতিরিক্ত জাহাজ ভাড়া দিয়ে গম ও ভুট্টা আমদানি করে বাজারে আটা-ময়দার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছি। এখন রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম আমদানির সুযোগ ফিরে আসার ফলে আমাদের মধ্যেও অনেকটা স্বস্তি কাজ করছে। আশা করছি, আমদানি শুরু হলেই দেশের বাজারে দাম আরও কমবে।     

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। হু হু করে বাড়তে থাকে বিভিন্ন পণ্যের দাম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাদ্য সংকট দেখা দেয়।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর  বলেন, ‘যুদ্ধের মধ্যে আর  যদি কোনও অঘটন না ঘটে এবং চুক্তি যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে বড় একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে, আরও  কমবে। এর প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়বে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘দেশে গমের মোট চাহিদা ৬৫ লাখ মেট্রিক টন। স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন হয় ১০ লাখ টনের কিছুটা বেশি। বাকিটা আমদানি করতে হয়। গম আমদানিতে কোনও শুল্ক আরোপিত নেই বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

তবে গত এক বছরের তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। গতবছরের আগস্টে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন অপরিশোধিত চিনি বিক্রি হয়েছে ৪৩৫ দশমিক ৬৩ ডলার দরে। যা চলতি বছরের আগস্টে বিক্রি হয়েছে ৩৮৮ দশমিক ৬৭ ডলার দরে। তবে সেপ্টেম্বরে দাম কিছুটা বেড়েছে চিনির। সেপ্টেম্বরে অপরিশোধিত প্রতি টন চিনি বিক্রি হয়েছে ৪০২ দশমিক ১২ ডলার দরে। দেশে বছরে চিনির চাহিদা ১৮ থেকে ২০ লাখ মেট্রিক টন। আখ থেকে স্থানীয় পর্যায়ে চিনি উৎপাদনের পরিমাণ মাত্র ৩০ হাজার মেট্রিক টন। চাহিদা পূরণে বছরে অপরিশোধিত চিনি আমদানির পরিমাণ ২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন। চিনি উৎপাদনে অপরিশোধিত চিনি পরিশোধনকালে প্রসেস লস ৬ শতাংশ। অপরিশোধিত চিনি আমদানির ক্ষেত্রে সিডি ৩০০০, আরডি ৩০ শতাংশ, ভ্যাট ১৫ শতাংশ, এটি ৪ শতাংশসহ মোট শুল্কের পরিমাণ প্রায় ৬১ শতাংশ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মসুর ডালের দামও কমতে শুরু করেছে। দেশে মসুর ডালের চাহিদা ৫ লাখ মেট্রিক টন। স্থানীয় পর্যায়ে মসুর ডালের উৎপাদনের পরিমাণ ২ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন। বছরে ৩ লাখ টনের বেশি মসুর ডাল আমদানি করতে হয়।

সূত্র জানায়, দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা ২০ লাখ মেট্রিক টন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের পরিমাণ ২ লাখ ৩ হাজার মেট্রিক টন। আমদানি করতে হয় ১৮ লাখ মেট্রিক টন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে সব পণ্যেরই দাম কমতে শুরু করেছে। এটি শুভ লক্ষণ। আশা করছি, দেশের বাজারেও সব পণ্যের দাম কমবে। আমরা এর সুফল পাবো।’

বরগুনার আলো